মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর


লাইলাতুল কদরে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, মাগফিরাত ইত্যাদিতে নিজেকে মশগুল রাখা উচিত। কেউ পুণ্য অর্জনের এমন বড় সুযোগ পেয়েও অমনোযোগী থাকলে তার মতো হতভাগা আর কে হতে পারে? সুতরাং রমজানের শেষ দশকে শবেকদর পাওয়ার লক্ষ্যে ইবাদতের প্রতি বেশি যতœবান হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে জাগ্রত থেকে রাতে ইবাদত করা চাই
 

আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর বা শবেকদরকে সব রাতের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি কোরআনে এ রাতকে প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। বরকতময় রজনি হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সিদ্ধান্ত লাওহে মাহফুজ থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয়। এছাড়াও লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মহান আল্লাহ একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন, যা কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর কাছে তেলাওয়াত হতে থাকবে। এ রাতে ফেরেশতারা রহমত, কল্যাণ ও বরকত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে থাকে। লাইলাতুল কদর মুক্তি ও শান্তির রজনি। আল্লাহর বান্দারা এ রাতে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তি অর্জন করে থাকে।

লাইলাতুল কদর কী?
লাইল অর্থ রাত, কদর অর্থ মহিমান্বিত-গৌরবময়। সে হিসেবে লাইলাতুল কদর বলতে মহিমান্বিত রজনি বা গৌরবময় রাতকে বোঝায়। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে। কিন্তু কোন রাত, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। প্রসিদ্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, লাইলাতুল কদর সারা বছরের যে-কোনো বেজোড় রাতে হতে পারে। তবে হাদিসের ভাষ্য হলোÑ লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। এটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কারণ রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছে। সুতরাং ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের দিবাপূর্ব এই পাঁচ রাতে আমাদের লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের জন্য জাগ্রত থেকে ইবাদত করা কর্তব্য। তবে এ রাতগুলোর মধ্যে ২৭ তারিখে (২৬ রমজানের দিবাগত রাত) লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা লাইলাতুল কদর তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে।’ (বোখারি : ২০৫৬)। 
হাদিসে আরও আছে, তাবেঈ জির ইবনে হুবাইশ (রহ.) বলেন, ‘একদিন উবাই ইবনে কাবকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করবে, সে লাইলাতুল কদর লাভ করবে। উবাই বলেন, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন! তিনি এই কথার দ্বারা বুঝিয়েছেন, মানুষ যেন এর ওপর ভরসা করে চেষ্টাহীন বসে না থাকে। অন্যথায় তিনি নিশ্চয়ই জানেন, তা রমজানে এবং রমজান মাসের শেষ ১০ রাতেই এবং তা ২৭ তারিখের রাতেই। অতঃপর উবাই দৃঢ়ভাবে শপথ করে বললেন, তা নিশ্চয়ই ২৭ তারিখের রাতেই। জির ইবনে হুবাইশ বলেন, আমি বললাম, হে আবু মুনজির! আপনি কোন সূত্রে তা বলেন? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যে আলামত-নিদর্শন বলেছেন, সেই সূত্রে। তিনি বলেছেন, কদরের রাতের পর সকালে সূর্য উদয় হবে; কিন্তু এর কিরণ থাকবে না। (মুসলিম : ২৮৩৪)।
কোরআনে লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য
আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর বা শবেকদরকে হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলেছেন। এ রাতে মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয়। অতঃপর সেখান থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে তা রাসুল (সা.) এর ওপর নাজিল করা হয়েছে। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কি জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) অবতরণ করেন প্রত্যেক কাজের জন্য তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময়, 
এই রাত ফজরের উদয় পর্যন্ত। 
(সূরা কদর : ১-৫)। 

হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদর
রমজানের বিশেষ একটি নেয়ামত হলো লাইলাতুল কদর। মহান আল্লাহ এ নেয়ামত অন্য কোনো নবীর উম্মতকে দান করেননি। পূর্ববর্তী উম্মতের হায়াত ছিল বেশি। উম্মতে মুহাম্মদির হায়াত খুবই কম। তাই আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতকে লাইলাতুল কদর দান করেছেন এবং এক রাতের ইবাদতের ফজিলত এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি করে দিয়েছেন। আর এ রাতের শুরুতেই ফেরেশতারা বান্দার জন্য দোয়া করতে মশগুল হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন লাইলাতুল কদর আরম্ভ হয়, তখন জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের দলসহ অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য দোয়া করতে থাকেন, যারা দাঁড়িয়ে বা বসে আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরে ব্যস্ত আছে।’ (বায়হাকি, শুয়াবুল ঈমান)। 

লাইলাতুল কদরে করণীয়
লাইলাতুল কদরে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, মাগফিরাত ইত্যাদিতে নিজেকে মশগুল রাখা উচিত। কেউ যদি পুণ্য অর্জনের এমন বড় সুযোগ পেয়ে অমনোযোগী থাকে, তাহলে তার মতো হতভাগা আর কে হতে পারে? সুতরাং রমজানের শেষ দশকে শবেকদর পাওয়ার লক্ষ্যে ইবাদতের প্রতি বেশি যতœবান হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে জাগ্রত থেকে রাতে ইবাদত করা চাই। এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে ইবাদতে অধিক পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময় করতেন না।’ (মুসলিম : ২৮৪৫)।
আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘একবার আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! বলুন, যদি আমি বুঝতে পারি লাইলাতুল কদর কোনো রাতে, তখন আমি কী বলব? তিনি বললেন, তুমি বলবে, আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাস, অতএব আমাকে ক্ষমা করো।’ (ইবনে মাজা : ৩৯৮২)।

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম


ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার
ইসলামের আগমনের আগে গোটা পৃথিবী নারী জাতিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে
বিস্তারিত
বাইয়ে ঈনা ও প্রচলিত সমিতি
‘বাইয়ে ঈনা’ শব্দটির অর্থ হলো বাকি। বাইয়ে ঈনা মূলত দুই
বিস্তারিত
দেনমোহর নারীর অধিকার
দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) এর শাসনকাল। বিয়ের দেনমোহর নিয়ে
বিস্তারিত
আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত