কাবা শরিফে ইফতারে অপার্থিব চিত্র

রমজানের প্রতিদিন শেষ বিকালে সূর্য যখন দিগন্তের ওপারে প্রস্থানের প্রস্তুতি নেয়, তখন পবিত্র কাবার আশপাশে সমবেত ওমরা পালনার্থী ও পুণ্যার্থীরা সারিবদ্ধভাবে পাশাপাশি আসন গ্রহণ করতে শুরু করেন। তাদের জন্য সেখানে রকমারি খাবার ও পানীয় দ্বারা সজ্জিত প্রলম্বিত দস্তরখানের ব্যবস্থা থাকে। দস্তরখানগুলো হাজার হাজার মিটার দীর্ঘ হয়ে কাবার আঙিনা, মসজিদুল হারামের প্রতিটি তলা ও ছাদ এবং বাইরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সুপরিব্যাপ্ত। এসব দস্তরখানে সমবেত মুসল্লিরা বিপুল সওয়াবের আশা ও অসংখ্য নেকি উপার্জনের লক্ষ্যে জিকির-তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাগরিবের আজানের অপেক্ষায় মিষ্টি প্রহর গোনেন। 

প্রতি বছর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখানে বেশ কয়েকটি সমৃদ্ধ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে রমজানে মাসব্যাপী ইফতারসামগ্রী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিশেষ করে রমজানের শেষ ১০ দিন খাবার-পানীয় ও অন্যান্য নাশতার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে থাকে। মূলত মক্কার গভর্নিং-প্রশাসনের আয়োজনে এবং ‘মসজিদুল হারামের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিষদ এর (আর-রিআসাতুল আম্মাহ লি-শুউনিল মাসজিদুল হারাম) তত্ত্বাবধানে এসব মেহমানদারি ও সেবার ব্যবস্থা থাকে। রোজাদারদের জন্য আয়োজিত কিছু ব্যপস্থাপনা এমনÑ
বিভিন্ন ধরনের খেজুর ও জমজমের পানি : রকমারি ও বিভিন্ন শ্রেণির খেজুর এবং জমজমের পানির যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকে ইফতারের দস্তরখানগুলোয়। মসজিদুল হারামের যে দিকে দৃষ্টি যায় আধ্যাত্মিকতা ও ঐশী দৃশ্যে সবকিছু বৈভবময় দেখায়। পবিত্র রমজানের কল্যাণ ও সৌভাগ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রত্যেকেই পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশপরায়ণ ও অতিথেয়তার ক্ষেত্রে সচেষ্ট। বস্তুত ঈমানি ভ্রাতৃত্ব ও হার্দিক সম্পর্কের অভূতপূর্ব দৃশ্যায়ন হয় এ মজমায়।
বাইতুল্লায় ইফতারের আধ্যাত্মিক রূপ : বলা বাহুল্য ও সন্দেহাতীত যে, পবিত্র হারামে ইফতারের আলাদা ও বিশেষ আধ্যাত্মিকতা রয়েছে এবং এটি স্থান ও কালের প্রভূত গুণের সন্নিবেশ ঘটায়। এজন্য মক্কায় আগমনকারীরা কাবা প্রাঙ্গণে বসে পবিত্র হারামের মিনারগুলো থেকে ভেসে আসা আজানের স্নিগ্ধ-মধুর শব্দের মাধ্যমে ইফতার শুরু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। প্রেক্ষিতে প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান আগমন করলে মক্কাবাসী ওমরা পালনে ও বাইতুল্লাহ জিয়ারতে আগত মুসল্লিদের জন্য হৃদয় উজাড় করে মেহমানদারি ও ইফতারি ব্যবস্থাপনায় রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।
রোজাদারদের মেহমানদারিতে স্বেচ্ছাসেবকের আত্মোৎসর্গ : মসজিদুল হারামের একজন একনিষ্ঠ উদ্যোক্তা এবং শ্রমমুখর ও সদা তৎপর স্বেচ্ছাসেবক হাসানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কয়েক বছর ধরে সেখানে ইফতারির ব্যবস্থা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি বলেন, বায়তুল্লায় আগত রোজাদারদের জন্য খেজুর ও অন্যান্য নাশতা-পানির ব্যবস্থা করার মহৎ কাজে নিয়োজিত থাকার দরুন ১০ বছর ধরে পরিবার ও তার সন্তানদের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয়নি। প্রসঙ্গত বায়তুল্লায় আগত রোজাদারদের জন্য ইফতারির ব্যবস্থা করে বিপুল পুণ্য অর্জনকে তিনি ও তার পরিবার অধিক প্রাধান্য দিচ্ছেন।
উত্তম কাজে সহযোগী ও ব্যবস্থাপকরা : পবিত্র মসজিদুল হারামের রমজানকেন্দ্রিক খাবার ও নাশতার আয়োজনগুলো বাইরের এবং ভেতরের আঙিনাজুড়ে বিছানো দস্তরখানগুলোর এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে মুসল্লিদের মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে ও সেখান থেকে বের হতে বেগ পেতে না হয়। মাগরিবের আগ মুহূর্তে সেখানে নিষ্ঠা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব এবং পুণ্যের প্রতি অগ্রসরতার অনন্য দ্যুতি ছড়ায়। পুরুষদের জন্য ১৯৭৩ স্বেচ্ছাসেবক এবং নারীদের জন্য ৩৭৯ জন মহিলা স্বেচ্ছাসেবক অত্যন্ত গোছালো ও সুচারুরূপে এবং আভিজাত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
৫ মিলিয়ন খাবারের ব্যবস্থা : মাগরিবের আজানের প্রায় এক ঘণ্টা আগে থেকে দস্তরখান বিছানো এবং খাবার ও অন্যান্য নাশতা সাজানোর কাজ শুরু হয় এবং পাশাপাশি রোজাদার ও মেহমানরা দস্তরখানে বসতে শুরু করেন। উল্লেখ্য, অত্যন্ত সতর্কতা ও সহজতার সঙ্গে মাগরিবের আজানের আধাঘণ্টা আগে যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়।
‘মসজিদুল হারামের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিষদের তত্ত্বাবধানে মসজিদুল হারামের বাইরের ও ভেতরের আঙিনাজুড়ে আয়োজিত দস্তরখানগুলোয় দায়িত্বশীল বিভিন্ন সেবা সংগঠন নানারকমের এবং উৎকৃষ্ট মানের খাবার ও নাশতার যথাযথ ব্যবস্থা করে থাকেন।
মসজিদুল হারামের ভেতরে আয়োজিত খাবার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি জমজম এবং উন্নত মানের খেজুর রাখা হয়। আর বাইরের আঙিনায় সমবেত সবার জন্য বিভিন্ন রকমের খাবার পানি-জুস ও প্যাকেটজাত নাশতার ব্যবস্থা করা হয়। 
গত ২০ দিনের মধ্যে মসজিদুল হারামের প্রেসিডেন্সি ওমরা পালনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য ৫৭টি সেবাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থার যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও বার্তা তুলে ধরেছে। ফলে গত কয়েক দিনে রোজাদারদের সামগ্রিক মেহমানদারির জন্য ১ হাজার ১৯৫টিরও বেশি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। তারা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬১ জনের খাবারের আয়োজন করে থাকেন।
আগত মুসল্লিাদের অনুভূতি : ইয়ামেনি বংশোদ্ভূত মুহাম্মদ আল-ইয়াফেয়ি বলেন, এই পবিত্র মাসে আল্লাহ পবিত্র ঘরের কাছে যেসব দৃশ্য দেখেছি এবং যে অপার্থিব আধ্যাত্মিকতা অনুভব করেছি, তাতে আমি দারুণ সৌভাগ্যবান। পাশাপাশি মসজিদুল হারামের চতুর্দিকে যে উদারতা ও ভালোবাসাঘন পরিবেশ দেখেছি, তাতে আমি সত্যি অভিভূত। যারা এই সুন্দর-সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ শিকার করেছেন তাদের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
পাকিস্তান থেকে আগত আরেকজন মুসল্লি মোহাম্মদ খান বলেন, মসজিদুল হারামকেন্দ্রিক বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত এ ব্যবস্থাপনার দ্বারা প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষ আনন্দিত হবে এবং উদারতা ও ভালোবাসার পাঠ পাবে।
মোহাম্মদ কামেল নামে মিসরীয় বয়স্ক এক মুসল্লি অনুভূতি ব্যক্ত করেনÑ ‘রমজানে মক্কার পরিবেশ ও আবহ কেমন অপার্থিব এবং ঔজ্জ্বল্যপূর্ণ হয় তা বর্ণনা করা অসম্ভব। মুসল্লিদের আনন্দ-প্রশান্তির উচ্ছ্বাসে চারিদিক আলোকিত ও মোহনীয় হয়ে থাকে। আল্লাহর ক্ষমা ও করুণা লাভের আর্তি সবার চোখে-মুখে অলৌকিক দৃশ্যের অবতারণা করে।’


নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রেরণা
ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায়
বিস্তারিত
মানুষ মানুষের জন্য
শুক্রবার মানেই সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন নানাজন নানাভাবে কাজে লাগিয়ে
বিস্তারিত
শীতের নেয়ামত বিচিত্র পিঠা
  প্রকৃতিতে বইছে শীতের সমীরণ। কুহেলিঘেরা সকাল মনে হয় শ্বেত হিমালয়।
বিস্তারিত
মহামানবের অমীয় বাণী
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে আমার উম্মতের স্বার্থে
বিস্তারিত
যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত