খুতবা

শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নে ইসলামের শ্রমনীতি

খতিব : হাজী জাহেদ আলী ফকির কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদ, আমতলী, শ্রীপুর, গাজীপুর 
মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছি।’ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দাও।’ 
সাধারণত সমাজের দরিদ্র শ্রেণিই শ্রমিকের কাজ করে থাকে। পুঁজিপতি ও শিল্পপতিদের দ্বারা তারা হন শোষিত, নির্যাতিত। যথাযথ পারিশ্রমিকের অভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত করেন অনাহারে, অর্ধাহারে। দারিদ্র্য হয়ে পড়ে তাদের সারা জীবনের সঙ্গী। 
ইসলামে শ্রমিক-মালিক ভাই-ভাই বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নবীজি (সা.) নিজকে শ্রমিক বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। শ্রমজীবী ও উপার্জনকারী আল্লাহর বন্ধু। অধীনস্থ শ্রমিক ও দাসদাসীর প্রতি ভালো ও সমান ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা যা খাবে তোমাদের অধীনস্থদের তা-ই খেতে দেবে এবং তোমরা যা পরবে তাদের তা-ই পরতে দেবে।’ মহানবী (সা.) শ্রমিককে মালিকের সমান মর্যাদাবান ঘোষণা করে বলেন, ‘এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, মর্যাদায় মালিকের তুলনায় শ্রমিকই শ্রেষ্ঠ।’ এটাও অসম্ভব নয় যে, অধীনস্থ দাসের ক্রিয়াকর্ম আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়। 
শ্রমিককে সাধ্যাতীত কোনো কাজের নির্দেশ কিছুতেই দেওয়া যাবে না। শ্রমিকদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি ঘোষণা করেন, ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য মিটিয়ে দাও।’ তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি নির্ধারণ না করে শ্রমিক নিয়োগ করবে না।’ তাঁর ভাষ্যমতে, মজুর-শ্রমিক ভৃত্যদের যথারীতি খাদ্য ও পোশাক দিতে হবে। মদিনা রাষ্ট্রে মহানবী (সা.) এর এসব বাণীর বাস্তব প্রয়োগ ঘটায় অচিরেই সেখানকার শ্রমিক শ্রেণির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
মালিকানার ধারণার পরিবর্তন সম্পদের ওপর একচ্ছত্র মালিকানা মানুষের ওপর একচ্ছত্র স্বেচ্ছাচারিতা ও লাগামহীনতার জন্ম দেয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পদের ওপর মানুষের নিরঙ্কুশ মালিকানার ধারণা রহিত করে শুরুতেই শোষণবাদী মানসিকতার মূলোৎপাটন করেন। তিনি দুটি যুগান্তকারী মূলনীতি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে জানিয়ে দেনÑ ১. সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা কেবল আল্লাহর। সৃষ্টি জগতের কোনো বস্তু তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, মানুষ তার আসল মালিক নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন। যিনি নৌযানকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর বিধানে তা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন নদীগুলোকে।’ আল্লাহ আরও এরশাদ করেন, ‘যিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন আকাশম-লী ও পৃথিবীর সবকিছু নিজ অনুগ্রহে। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।’ 
নবীর শিক্ষা, করো না ভিক্ষা। মহানবী (সা.) ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করতেন, তাই এটা নিষিদ্ধ করেন। রাসুল (সা.) ভিক্ষায় অর্জিত সম্পদকে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর বলেছেন। মহানবী (সা.) এভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিরুৎসাহিতকরণের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি উচ্ছেদ করেন, যা আজ পর্যন্ত সেই মক্কা-মদিনায় ভিক্ষাবৃত্তি রাষ্ট্রীয় আইনেও নিষিদ্ধ ও দ-নীয় অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় দান করুন। 

শ্রুতিলিখন :  এমএস রুকন


ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার
ইসলামের আগমনের আগে গোটা পৃথিবী নারী জাতিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে
বিস্তারিত
বাইয়ে ঈনা ও প্রচলিত সমিতি
‘বাইয়ে ঈনা’ শব্দটির অর্থ হলো বাকি। বাইয়ে ঈনা মূলত দুই
বিস্তারিত
দেনমোহর নারীর অধিকার
দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) এর শাসনকাল। বিয়ের দেনমোহর নিয়ে
বিস্তারিত
আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত