কৃষিবিদ হতে কৃষিতে উচ্চশিক্ষা

এক সময় কৃষিকে নিয়ে শুধু কৃষিবিদরাই ভাবতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাচেতনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন সচেতন মানুষও ভাবছেন কৃষিকে ঘিরে। এছাড়া দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষিকে নিয়ে ভাবছে স্বয়ং সরকার। তাই কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি সুযোগসুবিধা। দিনের পালাবদলে সব মিলিয়ে বর্তমানে কৃষি খাতেই রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি

কৃষি, কৃষক আর কৃষিবিদ একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষি আমাদের অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগই আসে কৃষি থেকে। আমরা বাঁচার জন্য খাই। আর সেই খাবার উৎপাদন করতে এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যাদের তারা হলেন কৃষিবিদ ও কৃষক। কৃষিপ্রধান এ দেশের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের অনীহা। অনেকের ধারণা, মাঠে ফসল উৎপাদন ও বিপণন, পুকুরে মাছ চাষ ও গবাদিপশু চিকিৎসা ও প্রতিপালনই শুধু কৃষিÑ এটা আবার উচ্চশিক্ষার কোনো বিষয় হতে পারে নাকি? তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ভাবনা, ধ্যানধারণা বদলেছে। পরিবর্তন এসেছে মানুষের চিন্তাধারা-চেতনারও। এমন একটা সময় ছিল, যখন কৃষিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল খুবই কম। তাছাড়া কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া এবং কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া ছিল অকল্পনীয়। সেই সময় কৃষিকে নিয়ে শুধু কৃষিবিদরাই ভাবতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাচেতনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন সচেতন মানুষও ভাবছেন কৃষিকে ঘিরে। 

এছাড়া দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষিকে নিয়ে ভাবছে স্বয়ং সরকার। তাই কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি সুযোগসুবিধা। দিনের পালাবদলে সব মিলিয়ে বর্তমানে কৃষি খাতেই রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি।
কৃষিবিদ হতে চাইলে
কৃষিবিদ হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করতে হবে। পরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন অনুষদের চার বছর মেয়াদি বিএসসি (অনার্স) কোর্স বেছে নিতে হবে।
ক্যারিয়ার
বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে কৃষি, মাৎস্যবিজ্ঞান, ভেটেরিনারি, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি, কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান এবং অ্যাগ্রি বিজনেস অনুষদে বিভিন্ন বিভাগে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে কৃষি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি অর্জিত কৃষিশিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত ফার্ম, মৎস্য খামার, নার্সারি, কৃষি ওয়ার্কশপ ও হ্যাচারির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনেই কৃষিতে উচ্চশিক্ষার পর এখন এ দেশে কৃষিবিদদের বিশাল কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিবিদদের সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্র
কৃষিতে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (বিসিএস) সাধারণ ক্যাডারে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া কৃষি ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা পদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরিতে ঢোকার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিবিদ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা কৃষিবিদদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে কৃষিবিদদের জন্য রয়েছে নানারকমের কাজের সুযোগসুবিধা। এনজিও এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষিক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোয় রয়েছে কৃষিবিদদের যথেষ্ট চাহিদা। এছাড়া রয়েছে বেসরকারি পেস্টিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড কোম্পানিগুলোয় কৃষিবিদদের কাজের ক্ষেত্র। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র, পাট গবেষণা কেন্দ্র, ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, চা গবেষণা কেন্দ্র, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, বন গবেষণা কেন্দ্র, রেশম উন্নয়ন বোর্ডসহ মশলা গবেষণা কেন্দ্রগুলোয় রয়েছে কৃষিবিদদের কাজের সুবিধা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বিএডিসিসহ এ রকম আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কাজের সুযোগ। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রয়েছে ইউএসএইড, ডিএফআইডি, ড্যানিডা, সিডা, উইনরক, ইরি, আইএফডিসি ও অক্সফাম জিবির মতো প্রতিষ্ঠানেও কৃষিবিদদের অগ্রাধিকার রয়েছে। ব্র্যাক, স্কয়ার, অ্যাগ্রোবেট, লালতীর, ন্যাশনাল অ্যাগ্রোফেয়ার, প্রশিকা, আশা, এসিআই, কৃষিবিদ গ্রুপ, অ্যাকশনএইডের মতো বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানেও উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ রয়েছে শুধু কৃষিবিদদের জন্য।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ 
দেশ ছাড়াও বিদেশে রয়েছে উচ্চশিক্ষার বিশাল সুযোগ কৃষিবিদদের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতে প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী গমন করে থাকে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শাদাত উল্লা বলেন, কৃষিতে দেশ-বিদেশে বিপ্লব ঘটায় কৃষিবিদদের ভবিষ্যৎ দিন দিন উজ্জ্বলতর হচ্ছে। 
কোথায় পড়বেন
কৃষিবিদ হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করতে হবে। পরে কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়গুলোর নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কৃষি অনুষদের ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি (অনার্স) ইনএজি (অ্যাগ্রিকালচার) কোর্স বেছে নিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এজি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলোÑ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যায়, সিলেট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল। এছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এ ডিগ্রি নেওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।


ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা
মো. সাইফুল ইসলাম খান এইচএসসি পরীক্ষা শেষে মাথায় নতুন ভাবনাÑ কোন
বিস্তারিত
পড়তে চাইলে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ
আজকাল শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, অথবা নিম্নবিত্ত কারোর জীবনেই মিডিয়ার অনুপস্থিতি
বিস্তারিত
সম্ভাবনাময় বিষয় মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ
মো. সাইফুল ইসলাম খান মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ও সৃজনশীল আর্টসের মধ্যে সমন্বয়
বিস্তারিত
ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘এন্ট্রাপ্রেনারশিপ
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইউকে অ্যালুমনাই নেটওয়ার্কের (ইটকঅঘ) ব্যানারে
বিস্তারিত
পড়ার বিষয় যখন পুষ্টি ও খাদ্য
মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যে পাঁচটি মৌলিক উপাদান রয়েছে তার
বিস্তারিত
যুগোপযোগী শিক্ষা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
মানুষের জীবিকার জন্য প্রয়োজন একটি নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান। নিশ্চিত
বিস্তারিত