ভ্রমণ

সারাংকোটে সূর্যোদয়

হিমঠান্ডার মধ্যে সূর্যোদয় দেখার জন্য সারাংকোটের উদ্দেশে যখন রওনা দিচ্ছি, তখনও পোখারার পর্যটক বা স্থানীয়দের ঘুম ভাঙেনি। সূর্য উঠতেও ঢের বাকি। আগের দিনে ঠিক করা ট্যাক্সিতে যাচ্ছি। সঙ্গে আরও আছেন সাইক্লিস্ট আবুল হোসেন আসাদ। পোখারা শহর ছেড়ে গাড়ি এগিয়ে চলে পাহাড়ি উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পথ ধরে। নির্জন অন্ধকার পথে মাঝেমধ্যে দু-একজন নেপালি দেখা যায়। তারা সম্ভবত মর্নিংওয়াক করতে বের হয়েছেন। তাদের কারও হাতে টর্চলাইট, আবার কারও মাথায় লাগানো টর্চলাইট। সে আলোয় তারা হাঁটছেন।
আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি উঠতে থাকে ওপরের দিকে। শুধু আমরা নই, আমাদের আগেপিছেও গাড়ি ছুটছে। ওপর থেকে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে থাকা বাড়িগুলোকে মনে হয় একেকটা জোনাকির আলো জ্বলছে। এ দৃশ্য সত্যিই মুগ্ধকর। এ দৃশ্য দেখতে দেখতে প্রায় ৪০ মিনিটের মাথায় চলে আসি সারাংকোট। অবশ্য সারাংকোটে ঢোকার আগেই পর্যটকের ফি হিসেবে প্রতিজন এখানকার কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি ৫০ রুপি করে। রাতের আঁধার তখনও পুরোপুরি কাটেনি। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে আরও কিছুটা ওপরে উঠে আসি সূর্যোদয় দেখার পয়েন্টে। দেখি আমাদের আগেই অসংখ্য পর্যটক এসে ভিড় করেছেন এ পয়েন্টে। কেউ কেউ আবার সূর্যের দিকে ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়েছেন। এ ভিড়ের মাঝেই সুবিধে মতো একটা স্থানে দাঁড়াই। 
আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পাশেই আছে একটি রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্টের ছাদেও অসংখ্য পর্যটক দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিমমুখী হয়ে। অবশ্য এ রেস্টুরেন্টর ছাদে যারা উঠেছেন তাদের কিছু রুপি ব্যয় করতে হয়েছে। শুধু এ রেন্টুরেন্টে নয়, সারাংকোটের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে আরও অনেক হোটেল-রেস্টুরেন্ট-বাড়িঘর আছে। সেসব হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা বাড়িঘরের ছাদেও দাঁড়িয়ে আছে সূর্যের সাক্ষাৎপ্রত্যাশী অসংখ্য পর্যটক। অধিকাংশ পর্যটকই আমাদের মতো পোখারা থেকে এসেছেন। এছাড়া সূর্যোদয় দেখা বাদ যেতে পারে বলে অনেক পর্যটক আগের রাতেই উঠেছেন এখানকার বিভিন্ন হোটেলে।
মেঘের কারণে সূর্যমামা উঠতে দেরি করছেন। সে জন্য আসি চা খেতে। যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক তার পাশেই একটা রেস্টুরেন্ট। হিমঠান্ডার মধ্যে ধোঁয়াওঠা গরম মশলার চা, সত্যিই দারুণ। চা খেয়ে আসি আবার আগের জায়গায়। ততক্ষণেও সূর্যের দেখা নেই। এদিকে বেলাও বাড়ছে। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। সাদা বরফের অন্নপূর্ণা পর্বতের মাথার ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে লাল আভার সূর্য। যেন আগুনরাঙা গোল একটা বল আস্তে আস্তে ওপরের দিকে উঠছে, আর তার আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে নতুন দিন, নতুন পৃথিবী। অবশ্য লাল আভার আগে-পরে সূর্যমামাকে কখনও সোনালি, কখনও কমলা রঙেরও মনে হয়েছে। যেন প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ বদলেছে। এখান থেকে শুধু ২৬৫৪৫ ফুটের অন্নপূর্ণা নয়, ২৬৬৬১ ফুটের মনাসালু, ২৪৪২২ ফুটের গণেশ হিমাল, ২৬৭৯৫ ফুটের ধুলাগিরি, মাচপুকরে বা পবিত্র পর্বতসহ বিভিন্ন পর্বতমালাও দেখা যায়। সব মিলিয়ে সারাংকোট পর্যটকের কাছে পছন্দের। তবে বেশি পছন্দের অন্নপূর্ণা থেকে সূর্যোদয় দেখা। সূর্যোদয় দেখে আমরা সারাংকোট গ্রমটি ঘুরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ গ্রামের উচ্চতা প্রায় ৫৫৭৬ ফুট। গ্রামটি নেপালের কাশি জেলার গন্ডাকি অঞ্চলের। অন্নপূর্ণার সূর্যোদয় ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মুগ্ধতায় ছড়ানো।
সূর্যোদয় দেখে পর্যটকরা ভিড় করেছেন হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোয়। অধিকাংশ পর্যটক ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হাতে নিয়েছেন গরম চায়ের পেয়ালা। আমরাও বাদ দিইনি। হোটেল-রেস্টুরেন্ট ছাড়াও এখানে আছে কিছু ছোট ছোট দোকান। এসব দোকানে সাজানো কাঠের তৈরি বিভিন্ন নকশার মুখোশ, বিভিন্ন রঙের পুঁতি ও পাথরের মালা, কানের দুল, হাতের বালা, কাঁসা-পিতলের বিভিন্ন পাত্র, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, স্থানীয়দের হাতে বোনা উল বা সুতার বিভিন্ন পোশাক, কানটুপি, নেপালের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের আলোকচিত্রসহ নেপালি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য ও পর্যটন স্মারক। চা-কফি খেতে খেতে অনেক পর্যটক ভিড় করছেন এসব দোকানে। আমরাও একটু-আধটু দেখি।


বেলা একটু বাড়তে থাকলে পর্যটকরা ছাড়তে শুরু করে সারাংকোট। আমরাও ফিরি। তারপর আসি সেতি রিভার। এটা পোখারা শহরের ভেতরই। প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০ রুপি। দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে পানির সেতু। এ পানি নাকি অন্নপূর্ণা পর্বতমালারই। এখান থেকে আসি বাসস্ট্যান্ড। উঠি কাঠমান্ডুর মাইক্রোবাসে। কিছুদূর আসার পর দুই নেপালি কিশোর উঠল বাসে। তারা একতারা বাজিয়ে গান শোনায় যাত্রীদের। যাত্রীরা খুশি হয়ে কিছু রুপি দেন তাদের গানে মুগ্ধ হয়ে। হ

ছবি : লেখক 


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত