সুস্থ থাকুন

গরুর গোশত খান, তবে সাবধান

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় প্রকাশ করেন, গরু, খাসিসহ সব ধরনের লাল গোশতে কার্নিটিন নামক কেমিক্যাল পাওয়া যায়। এ কার্নিটিন পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বিপুল হারে কোলেস্টেরল তৈরি করে, যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ

আমাদের খাদ্য তালিকার একটি বড় অংশজুড়েই থাকে গরুর গোশতের নানা রেসিপি। ঈদ, বিয়ে, জন্মদিন থেকে শুরু করে যে কোনো অনুষ্ঠান গরুর গোশত ছাড়া যেন পূর্ণ হয় না। আমাদের দেশীয় খাবারের সংস্কৃতি ও সামাজিক অনুষ্ঠানের একটা বিরাট অংশজুড়েই এ গরুর গোশত। মোটকথা, আমরা গরুর গোশত খেতে ভালোবাসি।

গরুর গোশত খেতে কোনো মানা নেই, তবে অবশ্যই তা পরিমাণ মতো। কারণ গরুর গোশত জিভের জন্য যতটা লোভনীয় আবার অপরিমিত খাওয়া শরীরের জন্য ঠিক ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। গরুর গোশতসহ সব ধরনের লাল গোশতে থাকে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা চর্বি। এ স্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এবং রক্তনালিগুলোতে চর্বি জমতে সাহায্য করে। এ কারণে দেহে ডায়াবেটিস, 

রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকসহ কোলন এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় প্রকাশ করেন, গরু, খাসিসহ সব ধরনের লাল গোশতে কার্নিটিন নামক কেমিক্যাল পাওয়া যায়। এ কার্নিটিন পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বিপুল হারে কোলেস্টেরল তৈরি করে, যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। বিজ্ঞানীরা ইঁদুর ও মানুষের দেহে এ গবেষণা চালান।

গবেষণায় দেখা যায়, পাকস্থলীতে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো গরুর গোশতে থাকা কার্নিটিনকে ভেঙে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে, যা লিভারে গিয়ে টিএমএও নামে একটি নতুন কেমিক্যাল তৈরি করে। লিভারে তৈরিকৃত এ টিএমএও কেমিক্যাল রক্তনালিতে চর্বির স্তর তৈরি করতে বেশ তৎপর। এভাবেই গরুর গোশত রক্তনালিতে চর্বি জমিয়ে হার্টের বিভিন্ন অসুখের জন্ম দেয় এবং এতে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, গরুর গোশত খেতে মানা নেই, তবে তা অবশ্যই পরিমাণ মতো। খেয়াল রাখতে হবে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চর্বিজাতীয় খাদ্য ৩০ শতাংশের চেয়ে যেন বেশি না হয়, আর এ ৩০ শতাংশের মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট যেন থাকে মাত্র ৭ শতাংশ। 

জেনে রাখা ভালো, ব্রিটেনে লাল গোশত প্রতিদিন খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। এর প্রত্যেকটিতেই লাল গোশত খাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্ভাবনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আর সেসব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার তার দেশের নাগরিকদের প্রতিদিন ৭০ গ্রামের বেশি প্রক্রিয়াজাত গরুর গোশত বা লাল গোশত না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সুতরাং, আমাদেরও খাদ্য তালিকা থেকে অপরিমিত গরুর গোশত খাওয়া কমিয়ে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, গরুর গোশত খেতে কোনো মানা নেই, তবে অবশ্যই তা পরিমিত। নইলে অপরিমিত গরুর গোশত ভোজন আপনাকে আক্রান্ত করতে পারে নানা অসুখে। 

—ডা. মহসীন কবির 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক

ইনচার্জ, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন

বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘ, ঢাকা


জীবনযুদ্ধে থেমে নেই জয় মালা
নাম জয়মালা বেগম স্বামী মৃত হালু মিয়া। সংসারে চার মেয়ে
বিস্তারিত
সফল উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি
চেনা গণ্ডির সীমানা ভেঙে বেরিয়ে আসছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু
বিস্তারিত
রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্যের
রংপুর মহানগরীর  দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি। রংপুর মূল
বিস্তারিত
ডায়াবেটিক প্রতিরোধে স্টেভিয়া: চিনির চেয়ে
বিরল উদ্ভিদ স্টেভিয়া এখন বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায়
বিস্তারিত
কাউনিয়ায় বালু জমিতে বস্তায় বিষ
বালু জমিতে বস্তায় বিষ মুক্ত লাউ চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক
বিস্তারিত
গফরগাঁওয়ে কেঁচো সার উৎপাদনে ভাগ্য
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি
বিস্তারিত