আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে

শতাব্দীর পর শতাব্দী আইন পেশা স্বীকৃত হয়ে আসছে সম্মান ও ঐতিহ্যের পেশা হিসেবে। বাংলাদেশে যতগুলো আত্মনির্ভরকেন্দ্রিক পেশা রয়েছে তার মধ্যে আইন পেশা হলো সবার পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এ পেশায় এসে আপনি যেমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সমাজে সবার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। 

বাংলাদেশে আইন পেশার পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত। নিম্ন আদালতে বিচারক হিসেবে কাজের সুযোগ থেকে শুরু করে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এখন বিশাল দ্বার উন্মুক্ত। এছাড়া আইন বিষয়ে বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারও সুযোগ রয়েছে। কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত হওয়ায় আইন নিয়ে পড়াশোনার প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে দিনকে দিন।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই আইন বিভাগের যাত্রা শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও আইন পড়ার সুযোগ আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও। দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে আইন বিভাগ।
কীভাবে আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়বেন
আপনিও পারেন আইন পেশায় এসে সফল ক্যারিয়ার গড়তে। সে জন্য কী কী করতে হবে, কোথায় ভর্তি হবে এবং এ পেশায় আর্থিক সুবিধা কী? এসব নিয়ে আলোচনা :
অ্যাডভোকেট হতে হলে বা আইন পেশায় আসতে হলে 
* প্রথমে আপনাকে এইচএসসি পাসের পর যে কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদে ভর্তি হতে হবে। এখানে আপনাকে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে-কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আর বাংলাদেশের প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের জন্য এলএলবি অনার্স কোর্স চালু আছে। এখানে পড়তে হলে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা।
* এছাড়া আপনি চার বছর মেয়াদি এলএলবি না করেও আইন পেশায় আসতে পারেন। এ জন্য আপনাকে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজ থেকে অনার্স বা ডিগ্রি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধীনে যে কোনো ল’ কলেজে দু-বছর এলএলবি (পাস) কোর্স করতে হবে। এখানে আপনার খরচ পড়বে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়া যায়। এখানে খরচ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পড়বে।
* আপনাকে এলএলবি অনার্স শেষে বার কাউন্সিল সনদ গ্রহণ করে সিএমএম জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের জন্য আলাদা আলাদা বারের সনদ গ্রহণ করতে হবে। সনদ পাওয়ার জন্য প্রথমে বার কাউন্সিলের ফরমে আবেদন করতে হবে। এর পর তিন ধাপে তথা এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
* আইনজীবী হতে চাইলে এলএলবি বা এলএলবি অনার্স অথবা এলএলএম পাস করেই বাংলাদেশ বার কাউন্সল থেকে সনদপ্রাপ্ত হয়ে যে কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে সরাসরি আইনজীবী হয়ে যেতে পারেন।
বিচারক হতে হলে
এলএলবি অনার্স ও এলএলবি (পাস) কোর্সের পর জেএসসি অর্থাৎ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন ও সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারবেন।
ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিতে হলে
আইন পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য আপনি বাংলাদেশের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমনÑ সার্ক, কমনওয়েলথ, আইডিবি, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আগাখান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে লন্ডনে ব্রিটিশ কাউন্সিলে বার-এট-ল অর্থাৎ ব্যারিস্টারি করতে পারবেন। ব্যারিস্টারি করতে হলে আপনাকে লন্ডন বার কাউন্সিলের সনদ নিতে হবে। স্কলারশিপের জন্য আপনাকে জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বৃত্তি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
আয়-রোজগার
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী জজ পদে নিয়োগ পেলে সর্বোচ্চ সম্মান, বিবিধ সুবিধাসহ মোটা অঙ্কের মাইনে তো আছেই।
আইনজীবী হলে আয়-রোজগারের বিষয়টি অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ ও মামলার ধরনের ওপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র একজন আইনজীবী জানান, হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীদের মাসিক আয় মামলার ধরন অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আইন পেশায় সদ্য যোগদানকারী আইনজীবী জানান, একজন নতুন আইনজীবী সাধারণত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন।
চাকরির সুবিধা
একজন আইনজীবী আইন পেশার পাশাপাশি যে কোনো কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার, যে কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আইনজীবী অথবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ আছে। এখানে আয় ও সম্মান উভয়টি ভালো মানের। 
জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেট ও বিউটি পার্লারসহ ছোট বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন আইনজীবীর কাজের পরিধি সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাড়ছে আয়ের ক্ষেত্র।
সুতরাং অন্যান্য পেশার চেয়ে আইন পেশা অনেক লাভজনক ও সম্মানজনক। চাইলে আপনিও আইন পেশায় গড়তে পারেন আপনার স্বপ্নের সফল ক্যারিয়ার।
দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে আইন বিভাগ। এখানে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া হলো।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় : ফোন: ৮৮৫২০০০, ওয়েবসাইট: www.northsouth.edu
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় : ফোন: ৮৮২৪০৫১-৪, ওয়েবসাইট: www.bracuniversity.ac.bd
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (এআইইউবি) : ফোন: ৯৮৯৭৩৮৭, ৯৮৯৪২২৯
ওয়েবসাইট:www.aiub.edu
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় : ফোন: ৯৮৮২৩০৮, ওয়েবসাইট: www.ewubd.edu
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)
ফোন: ৯১২৫৯১২-৬, ওয়েবসাইট: www.uiu.ac.bd
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৮১৫৩১৬৮-৬৯, ওয়েবসাইট: www.stamforduniversity.edu.bd
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব) : ফোন: ৯৬৬-১৩০১, ০১৭১৪১৬১৬১৩
ওয়েবসাইট: www.ulab.edu.bd
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক : ফোন: ৯৬৬৪৯৫২, ওয়েবসাইট: www.uap-bd.edu
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ : ফোন: ০২৯১৩৩২৯৩, ০২৯১১০৮৪৭
ওয়েবসাইট: www.eub.edu.bd
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৯১৩৮২৩৪-৫
ওয়েবসাইট: www.daffodilvarsity.edu.bd
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৯৬৭৬০৩১-৫, ওয়েবসাইট: www.easternuni.edu.bd
গ্রিন ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৯০১৪৭২৫, ৮০৩১০৩১, ওয়েবসাইট: www.green.edu.bd
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৯৮৮০৭৬০, ৮৮৫৮৭৩৪-৫, ওয়েবসাইট: www.diu-edu.net
প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি : ফোন: ৯৮২২১৩৩, ওয়েবসাইট: www.primeasia.edu.bd
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী : www.vu.edu.bd


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত