চুল-দাড়িতে খেজাবের বিধান

 

হালকা কালো, বাদামি, ধূসর-কালো বা ব্লাক-ব্রাউন রং যা মিশমিশে কালো নয় এবং তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্টকে যুবকরূপে দেখায় না বা বোঝা যায় না; তেমন খেজাব ব্যবহারের অবৈধতা হাদিসে নেই

 

 

চুল-দাড়িতে খেজাব করা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না, বা কোন কোন পদ্ধতিতে জায়েজ? এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শেষ জামানায় একদল লোক কবুতরের বুকের রঙের মতো কালো খেজাব বা কলপ ব্যবহার করবে। আর এ কারণেই তারা জান্নাতের কোনো সুগন্ধও পাবে না।’ (আবু দাউদ : ৪/৪১৯)। এই হাদিস সামনে রেখে চুল-দাড়িতে খেজাব করার বিধান তুলে ধরা হলো। 

১. চুল-দাড়িতে খেজাব ব্যবহার প্রশ্নে যেসব রঙ ব্যবহার করা হয়, তা ‘আসওয়াদে খালিস’ বা মিশমিশে কালো যেমন হতে পারে তেমনি সাধারণ কালোর কাছাকাছি ‘কাতাম’ বা ‘ওসমা’ তথা ব্রাউন কালো বা হাল্কা কালো বা অধিক ও গাঢ় লালের কারণে দেখতে কালোর কাছাকাছি মনে হওয়া; লাল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি যে কোনো রঙ হতে পারে। 

২. হাদিসের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা শুধু ‘মিশমিশে কালো’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরাপর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। 

৩. হাদিসের নিষেধাজ্ঞা প্রতারণা-প্রবঞ্চনার ক্ষেত্রে এবং যে ক্ষেত্রে বৃদ্ধাবস্থা ও যৌবনাবস্থা সংশয়ের দরুন বোঝা মুশকিল হয় সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যদি তেমন সংশয় না হয়, বরং কালো খেজাব ব্যবহারের পরেও বয়সের ছাপ এমনিতেই চেহারা দৃষ্টে বা অন্যান্য অঙ্গ/অবয়ব দৃষ্টে বোঝা যায়; তাহলে সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হয় না। যদিও হাদিসের ব্যাপক অর্থ বিবেচনায় এবং গবেষণা বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকার বিবেচনায়, তা ব্যবহার না করাই উত্তম বলে বিবেচিত হবে। 

৪. রোগ-ব্যাধি, দূষিত খাদ্যদ্রব্য পানাহারের দরুন বা দূষিত আবহওয়া ও পারিপার্শিক পরিস্থিতির দরুন যদি অসময়ে বা অল্প বয়সেই চুল-দাড়ি সাদা হয়ে যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে এবং রোগ-ব্যাধির ক্ষেত্রে ‘ব্যতিক্রম বৈধ’ বিবেচনায় কালো খেজাব ব্যবহার অবৈধ বলা হবে না। 

৫. দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি একজন মানুষের অন্যতম বিশেষ প্রয়োজন ও আবশ্যকীয় ব্যাপার। এটিকে হাল্কা করে দেখার অবকাশ নেই। যে কারণে, কোনো স্বামী নিজ স্ত্রীর সন্তোষ ও আকর্ষণের নিমিত্তে বা বিশেষ বিবেচনায় কালো খেজাব ব্যবহার করলে, সেটিকে অবৈধ বলা হবে না। 

৬. হালকা কালো, বাদামি, ধূসর-কালো বা ব্লাক-ব্রাউন রং যা মিশমিশে কালো নয় এবং তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্টকে যুবকরূপে দেখায় না বা বোঝা যায় না; তেমন খেজাব ব্যবহারের অবৈধতা হাদিসে নেই। বরং বিভিন্ন হাদিসের ‘কাতাম’ ও ‘ওসমা’ শব্দ দ্বারা এমন কালো খেজাব ব্যবহারের বৈধতা ও উৎসাহ প্রমাণিত হয়। 

৭. লাল রঙ, মেহেদি রঙ, হাল্কা বা গাঢ় যাই হোক, হলদে রঙ ও সবুজ রঙ ইত্যাদি ব্যবহারের বৈধতা সরাসরি বহু হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়। সুতরাং এসব খেজাব ব্যবহারে কোনো বাধা নেই; বরং উত্তম। 

৮. উল্লেখ্য, খেজাব সংশ্লিষ্ট রঙ বলতে এমন রঙ যা স্বাভাবিক উদ্ভিদজাত যেমন মেহেদি ইত্যাদি কিংবা এমন তৈল জাতীয় রঙ যাতে পানি ভেদ করতে পারে। কিন্তু খেজাব যদি এমন পেইন্ট জাতীয় রঙ দ্বারা হয় যা পানিতে ভেদ করতে পারে না যেমন নেইলপলিশ ইত্যাদি। তাহলে তেমন কোনো ধরনের খেজাব ব্যবহার করা আদৌ জায়েজ নেই। কেননা, তাতে পানি ভেদ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অজু, গোসল ইত্যাদি সহিহ-শুদ্ধ হয় না। এমনকি ফরজ গোসলও শুদ্ধ হয় না। মোটকথা, চুল-দাড়িতে কালো খেজাব ব্যবহারের মূল ও সাধারণ বিধান মাকরূহ তাহরিমি যেমন সঠিক, তেমনি প্রয়োজন ও বৈধতার ব্যতিক্রমী বিধানও শরিয়তসম্মত। 

৯. উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে ‘আহসানুল ফাতাওয়া’ সূত্রে ‘মাকরূহে তাহরিমি’ লেখা বিষয়টিও সঠিক। তবে তা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; শুধু তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা কোনো কারণ বা সমস্যা ছাড়াই ‘কালো খেজাব’ ব্যবহার করেন অথবা আলোচিত প্রতারণার লক্ষ্যে তা ব্যবহার করেন। 

১০. যেসব ইমাম ও খতিব ইমামত ও খেতাবতের দায়িত্ব পালন করেন, ওই বিস্তারিত আলোচনার নিরিখে, যে ক্ষেত্রে তাদের কারও আলোচিত বৈধতাজ্ঞাপক কোনো কারণ বা সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে আইনত তারাও খেজাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাধারণত আমাদের সমাজের মুসুল্লিদের মাঝে উক্তরূপ বৈধ-অবৈধ ক্ষেত্রের পার্থক্যজ্ঞান না থাকায়; তারা সব বিধানকে একাকার করে ফেলে এবং সবার সমালোচনায় প্রবৃত্ত হয়। তাই, তেমন সমালোচনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য এবং অধিক তাকওয়া ও নৈতিক দায়িত্ববোধ রক্ষাকল্পে ইমাম ও খতিবদের ‘কালো খেজাব’ ব্যবহার না করাই শ্রেয় বলে বিবেচিত হবে। তার পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে (বিশেষত কমিটি/কর্তৃপক্ষের) যে, আইন-বিধান প্রয়োগধর্মী হয়ে থাকে ও নৈতিকতা বিবেকধর্মী হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনো ইমাম বা খতিব সংশ্লিষ্ট বৈধ কোনো প্রয়োজনে যদি ‘কালো খেজাব’ ব্যবহার করেন তাহলে এই অজুহাতে তাকে পদচ্যুত করতে পারবেন না। 

 

লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন


পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত