মোসাফাহা নিয়ে কিছু কথা

মোসাফাহা একটি ফজিলতপূর্ণ আমল; যা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগ থেকেই চলে আসছে। তাবেয়ি কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) কে জিজ্ঞেস করালম, রাসুল (সা.) এর সাহাবিদের মধ্যে কি মোসাফাহার প্রচলন ছিল? হজরত আনাস (রা.) বললেন, হ্যাঁ, ছিল। (বোখারি : ৬২৬৩)।  

মোসাফাহার আমলটি ছোট হলেও এর ফজিলত অনেক বেশি। আমরা অবেহেলা করে এই ফজিলত থেকে মাহরূম (বঞ্চিত) থাকি। হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানের সঙ্গে অপর কোনো মুসলমানের সাক্ষাৎ হলে তারা যদি মোসাফাহা করে তাহলে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয় তারা সেই স্থান ত্যাগ করার আগেই। (আবু দাউদ : ৫২১২)।

দুহাত দ্বারা মোসাফাহা করার নিয়মটি সর্বজনবিদিত হলেও আজকাল আমাদের কোনো কোনো বন্ধু জানতে চান যে, মোসাফাহা কীভাবে করব? মানে দুহাত দিয়ে নাকি উভয়পক্ষ থেকে একহাত দিয়ে? কেউ কেউ নাকি একহাত দিয়ে মোসাফাহা করাকেই সুন্নত আখ্যায়িত করে থাকেন! আসল কথা হলো, মোসাফাহা শব্দের অর্থই হচ্ছে একজনের হাত আরেকজনের হাতের সঙ্গে মেলানো, জড়ানো। তবে যারা শুধু একহাত দিয়ে মোসাফাহা করাকেই সুন্নত বলে দাবি করছেন, তাদের উচিত এমন কোনো হাদিস দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা; যাতে একহাত দ্বারা মোসাফাহার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এতটুকুই যথেষ্ট নয়। তাদের উচিত এমন কোনো হাদিসও পেশ করা; যাতে দুহাত দ্বারা মোসাফাহা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই দুটি বিষয় প্রমাণ করতে না পারলে তাদের দাবিটা প্রতিপাদিত হবে না। 

উপরন্তু হাদিস ভা-ারে যদি আমরা দুহাত দ্বারা মোসাফাহাসংক্রান্ত সহিহ হাদিস অনুসন্ধান করতে যাই, তবে বোখারিতে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস পেয়ে যাই। তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন যেমন কোনো সূরা কাউকে শিক্ষা দেওয়া হয়। সে সময় আমার হাত রাসুলুল্লাহ (সা.) এর উভয় হাতের মধ্যে ছিল। (বোখারি : ৬২৬৫)। এই বিশুদ্ধ বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে, ইবনে মাসউদ (রা.) এর হাত নবীজি (সা.) এর উভয় হাতের মধ্যখানে ছিল। তাছাড়া এটা সুদূরপরাহত চিন্তা যে, নবীজি দুহাত বাড়াবেন আর ইবনে মাসউদ একহাত এগিয়েই ক্ষান্ত হবেন। ইবনে মাসউদ একহাত বাড়িয়েছিলেনÑ কথাটি যদি কিছু সময়ের জন্য মেনেও নেওয়া হয় তবে এটা তো অনস্বীকার্য যে, এক্ষেত্রে নবীজির আমল (দুহাত বাড়িয়ে দেওয়া) অনুকরণের অধিক উপযুক্ত।

এখন যদি কেউ প্রশ্ন করেন, কোন পদ্ধতিটি প্রণিধানযোগ্য? তাহলে বলা যাবে, উভয় পদ্ধতিই বৈধ। একটি (দুহাত দ্বারা মোসাফাহা) প্রমাণিত হয় নবীজি (সা.) এর কর্মময় হাদিস দ্বারা আর অন্যটি (একহাত দ্বারা মোসাফাহা) প্রমাণিত হয় ইবনে মাসউদ (রা.) এর কর্মের ব্যাপারে নবীজি (সা.) এর মৌন সমর্থন দ্বারা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মোসাফাহা যে পদ্ধতিতে নবীজি (সা.) এর দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা আমাদের জন্য উচিত।

উপর্যুক্ত হাদিসটি মোসাফাহাবিষয়ক নয়Ñ এমনটা বলা অজ্ঞতা। স্বয়ং ইমাম বোখারি (রহ.) এ হাদিসকে মোসাফাহাবিষয়ক একটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই হাদিসটি বর্ণনার আগে শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে, ‘দুহাত ধরে মোসাফাহার অধ্যায় : হাম্মাদ ইবন জায়দ (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক (রহ.) এর সঙ্গে দুহাত দ্বারা মোসাফাহা করেছেন।’ (বোখারি : ৬২৬৫)। তারপর ইমাম বোখারি (রহ.) এই শিরোনামের অধীনে ইবনে মাসউদ (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত উপরিউক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত