পবিত্র হজ-ওমরার বিধান


 

হজ বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা। এ এক বিশাল ও মহতি সমাবেশ। ভাষা, বর্ণ, দেশ ও স্বভাব-প্রকৃতির ভিন্নতা সত্ত্বেও এখানে দুনিয়ার নানা প্রান্তের মানুষ এক মহৎ ইবাদতের লক্ষ্যে একত্রিত হয়। এটি একটি আত্মিক, দৈহিক, আর্থিক ও মৌখিক ইবাদত। এতে সামাজিক ও বৈশ্বিক, দাওয়াহ ও প্রচার এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির নানা বিষয়ের সমাহার ঘটে। তাই এর যাবতীয় নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া এবং তা সঠিকভাবে পালন করা একান্ত প্রয়োজন। মূলত এসবের মাধ্যমেই হাজী সাহেবান সঠিক অর্থে তাদের হজ পালন করতে পারবেন। পৌঁছতে পারবেন তাদের মূল লক্ষ্যে। 
হজ 
হজের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা। (ইবনুল আসির, নিহায়া : ১/৩৪০)। শরিয়তের পরিভাষায় হজ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায়, নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নির্দিষ্ট কিছু কর্ম সম্পাদন করা। (ইবন কুদামা, আল-মুগনি : ৫/৫)।
ওমরা 
ওমরার আভিধানিক অর্থ : জিয়ারত করা। শরিয়তের পরিভাষায় ওমরা অর্থ, নির্দিষ্ট কিছু কর্ম অর্থাৎ ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও মাথা মু-ন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে বায়তুল্লাহ শরিফের জিয়ারত করা। (ড. সাঈদ আল-কাহতানি, আল-উমরাতু ওয়াল হাজ্জ ওয়াহ জিয়ারা, পৃ. ৯)। 
হজ ফরজের প্রমাণ 
হজ ইসলামের পাঁচ রুকন বা স্তম্ভের অন্যতম, যা আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্যবান মানুষের ওপর ফরজ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।’ (আলে-ইমরান : ৯৭)।
ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইসলামের ভিত রাখা হয়েছে পাঁচটি বস্তুর ওপরÑ এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।’ (বোখারি : ০৮; মুসলিম : ৬১)। 
সুতরাং হজ ফরজ হওয়ার বিধান কোরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে সব মুসলিম একমত। 
জীবনে একবার ফরজ
হজ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর সারা জীবনে একবার ফরজ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সম্বোধন করে বললেন, ‘হে লোকসকল, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন।’ তখন আকরা ইবনে হাবিস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, প্রত্যেক বছর? তিনি বললেন, ‘আমি বললে অবশ্যই তা ফরজ হয়ে যাবে। আর যদি ফরজ হয়ে যায়, তবে তোমরা তার ওপর আমল করবে না এবং তোমরা তার ওপর আমল করতে সক্ষমও হবে না। হজ একবার ফরজ। যে অতিরিক্ত আদায় করবে, সেটা হবে নফল।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪০২২; আবু দাউদ : ১২৭১; ইবনে মাজাহ : ৬৮৮২)।
হজ আদায়ে বিলম্বের গোনাহ
সক্ষম ব্যক্তির ওপর বিলম্ব না করে হজ করা জরুরি। কালক্ষেপণ করা মোটেই উচিত নয়। এটা মূলত শিথিলতা ও সময়ের অপচয় মাত্র। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিলম্ব না করে ফরজ হজ আদায় করো। কারণ তোমাদের কেউ জানে না, কী বিপদাপদ তার সামনে আসবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৭৬৮২; ইবনে মাজাহ : ৩৮৮২)।
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়, এসব শহরে আমি লোক প্রেরণ করি, তারা যেন দেখে কে সামর্থ্যবান হওয়ার পরও হজ করেনি। অতঃপর তারা তার ওপর জিজিয়া (কর বা ট্যাক্স) আরোপ করবে। কারণ, তারা মুসলিম নয়, তারা মুসলিম নয়।’ (ইবনে হাজার, আত-তালখিসুল হাবির : ২/২২৩)।
ওমর (রা.) আরও বলেন, ‘ইহুদি হয়ে মারা যাক বা খ্রিষ্টান হয়েÑ তিনি কথাটি তিনবার বললেনÑ সেই ব্যক্তি যে আর্থিক সচ্ছলতা সত্ত্বেও হজ না করে মারা গেল।’ (বাইহাকি : ৪/৩৩৪)।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত