মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

পাপাচারী লোকদের সান্নিধ্য বর্জন করুন

যে ব্যক্তি অন্যায় কাজের আসরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে কিংবা তাদের কার্যকলাপে আনন্দ প্রকাশ করতে সেখানে উপস্থিত হয়, অথবা সেটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে, সেদিকে আহ্বান করে বা তা সমর্থন করে, অথবা ভ্রান্তিমূলক ইন্টারনেট ওয়েবসাইট, নোংরা পেজ, পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটগুলোকে সাপোর্ট করে, আমাদের দ্বীন, আকিদা, নৈতিকতা ও দেশবিরোধী ওয়েবসাইটগুলোকে সমর্থন করে, সন্তুষ্টি ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে তাতে লাইক দেয়, সে ব্যক্তি তাদের দল ভারী করল এবং তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো

গোনাহগার অবাধ্য লোকদের সংস্পর্শ ও সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা, তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, তাদের অঙ্গন এড়িয়ে যাওয়া, তাদের পরিম-ল ত্যাগ করা, তাদের সাহচর্য বর্জন করা ও তাদের সঙ্গে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আলোকিত দূরদর্শিতার পরিচায়ক। কবি বলেন, ‘লাইলি ও তার অনুচরদের থেকে নিরাপদ থাকতে চাইলে তার জনপদের কোনো পথ দিয়েও হেঁটে যেয়ো না।’
হৃদয়গুলো দুর্বল আর সন্দেহ-সংশয় তা ছিনিয়ে নেয়। ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতা উত্তাল। তবে দূরদর্শী ব্যক্তি তাদের সংস্পর্শ বর্জন করে যারা হৃদয়গুলোকে ব্যাধিতে আক্রান্ত করে এবং ঈমান নষ্ট করে ফেলে। সে সুন্নত থেকে বিচ্যুত সেসব বিভ্রান্ত লোকের সান্নিধ্য থেকে সতর্ক থাকে, যারা উত্তম গুণাবলি, লজ্জাশীলতা ও মুসলমানের মূল্যবোধ ও চরিত্র থেকে দূরে সরে গেছে। কবি বলেন, ‘তুমি অসুস্থ না হয়েও যখন ব্যাধিগ্রস্ত লোকের সাহচর্য গ্রহণ করবে ও তার বন্ধু হবে, তখন তুমিও ব্যাধিগ্রস্ত।’
যে ব্যক্তি এমন দল বা সম্প্রদায়ের আসরে বসবে যাদের মধ্যে অবাধ্যতা কিংবা বেদাত বিদ্যমান, তখন তার কর্তব্য হচ্ছে হেকমত খাটিয়ে, ভালো কথা বলে, সুন্দর উপদেশ দিয়ে ও সন্দেহ নিরসনকারী স্পষ্ট সত্য প্রমাণের মাধ্যমে তাদের অন্যায় প্রতিরোধ করা। প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েও যদি তা প্রতিরোধ না করে তাহলে সে-ও গোনাহের মধ্যে অংশীদার হয়ে যাবে। আর যদি প্রতিরোধ করতে অক্ষম হয়; তবে তার উচিত তাদের আসর ত্যাগ করা। কেননা সান্নিধ্য ও সাহচর্যের ফলে ঘনিষ্ঠতা ও অনুকরণপ্রবণতা তৈরি হয়। অন্যায়কে শিথিল মনে হয়, তার প্রতি মনে টান চলে আসে। ওমর ইবনে কায়স (রা.) বলেন, ‘বিচ্যুত ব্যক্তির সান্নিধ্য গ্রহণ করো না, তাহলে সে তোমার হৃদয়কে বিচ্যুত করে দেবে।’
আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তো তোমাদের প্রতি কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তাকে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হবে তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না। অন্যথায় তোমরাও তাদের মতো হবে। মোনাফেক ও কাফের সবাইকে আল্লাহ নিশ্চয়ই জাহান্নামে সমবেত করবেন।’ (সূরা নিসা : ১৪০)। ইমাম তবারি (রহ.) বলেন, ‘এ আয়াতের মধ্যে স্পষ্ট প্রমাণ আছে, সবধরনের বাতিলপন্থির সান্নিধ্য গ্রহণ করা নিষেধ। বেদাতপন্থি ও পাপী লোকরা যখন অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকে, তখন তাদের সান্নিধ্য ত্যাগ করতে হবে।’ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়া স্বেচ্ছায় অন্যায়ের আসরে উপস্থিত হওয়া কারও জন্য বৈধ নয়।’ তদ্রƒপ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে সে যেন এমন টেবিলে না বসে, যেখানে মদ পান করা হয়।’ 
খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.) এর দরবারে বিচারের জন্য একটি দলকে হাজির করা হয়েছিল, যারা মদ পান করত। তিনি তাদের বেত্রাঘাত করার আদেশ দিলেন। তখন তাকে বলা হলো, তাদের মাঝে একজন রোজাদারও আছে। তিনি বললেন, ‘তাকে দিয়েই শুরু করো। তোমরা কি আল্লাহকে এ কথা বলতে শুননি? তোমাদের প্রতি কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তাকে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হবে তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না। অন্যথায় তোমরাও তাদের মতো হবে।’ (সূরা নিসা : ১৪০)। ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আল্লাহ অন্যায় কাজে উপস্থিত ব্যক্তিকে অন্যায়কারীর মতো সাব্যস্ত করেছেন।’ এজন্য ওলামায়ে কেরাম বলেন, ‘যদি এমন উৎসবে নিমন্ত্রণ করা হয় যেখানে মদ, জুয়া ইত্যাদি অন্যায় কাজ হয়, সেখানে উপস্থিত থাকা বৈধ নয়।’ কারণ আল্লাহ আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায় প্রতিরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় অপ্রয়োজনে এমন জায়গায় উপস্থিত হয় আর অন্যায়ের প্রতিরোধ করে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করল। কেননা সে আল্লাহর নির্দেশ পরিত্যাগ করেছে। আর যখন বিষয়টি এমন দাঁড়াবে, তখন এ ব্যক্তি যে মদের আড্ডায় বিনা প্রয়োজনে উপস্থিত হলো, আর আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক অন্যায়ের প্রতিরোধ করল না, সে পাপাচারীর পাপে অংশীদার হয়ে গেল। ফলে সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।’
আপনারা বেদাতপন্থি, গোনাহ ও বাতিলের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন না। আপনারা ভ্রান্তি ও অনাচার সৃষ্টিকারীদের তালিকায় কোনো একদিন অন্তর্ভুক্ত হবেন না। বোখারি শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক দল মুসলমান মোশরেকদের সঙ্গে ছিল। তারা মোশরেকদের দল ভারী করেছিল রাসুলের বিরুদ্ধে। তখন তির এসে তাদের কারও গায়ে বিদ্ধ হয়, ফলে সে মারা যায়। কিংবা কেউ তাকে আঘাত করে হত্যা করে। তখন আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটিয়েছিল, তারা নিজের প্রতি জুলুম করতে থাকা অবস্থায়।’ (সূরা নাহল : ২৮)।
যে ব্যক্তি অন্যায় কাজের আসরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে কিংবা তাদের কার্যকলাপে আনন্দ প্রকাশ করতে সেখানে উপস্থিত হয়, অথবা সেটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে, সেদিকে আহ্বান করে বা তা সমর্থন করে, অথবা ভ্রান্তিমূলক ইন্টারনেট ওয়েবসাইট, নোংরা পেজ, পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটগুলোকে সাপোর্ট করে, আমাদের দ্বীন, আকিদা, নৈতিকতা ও দেশবিরোধী ওয়েবসাইটগুলোকে সমর্থন করে, সন্তুষ্টি ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে তাতে লাইক দেয়, সে ব্যক্তি তাদের দল ভারী করল এবং তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।
আপনারা গোনাহের বিষগুলোকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করবে না। অন্যায়কে সবার সামনে জাহির করবেন না। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালাল বানাবেন না। আধা মুফতিদের ফতোয়া এবং শিথিলতা ও ছাড় দানকারীদের ফতোয়ায় বিভ্রান্ত হবেন না। যারা নিশ্চিত না হয়ে ও ভালো করে না জেনে ফতোয়া প্রদান করে। যারা মধ্যমপন্থা, নরমপন্থা ও সহজপন্থার নাম করে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়। যে ব্যক্তি পাপাচার প্রকাশ করে এবং তা ঘোষণা করে সে তার পালনকর্তাকে ক্রুদ্ধ করল। তার রবের বিরাগভাজন হলো। গোপনীয়তার বিষয়টিকে সে লঙ্ঘন করল। রবের শাস্তিকে অবজ্ঞা করল। আল্লাহর মোমিন বান্দাদের কষ্ট দিল।
তাই হে ইসলামের অনুসারীরা, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। বিলাসিতা ও প্রাচুর্যে মত্ত হয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। নেয়ামত ও অনুগ্রহের বদৌলতে পাপাচারে লিপ্ত হবেন না। গোনাহের বিষয়গুলোকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন না। আল্লাহ তো আপনাদের বিলাসী জীবনযাত্রা ও দামি পানীয় দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন। অথচ আপনার চারপাশে ধূসর ক্ষুধা ও রক্তিম মৃত্যু মানুষের জীবন নাশ করে চলছে।

২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত