বিনম্র নামাজ : মোমিনের সফলতার প্রথম সিঁড়ি

নামাজ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সামনে মানুষের দাসত্ব ও গোলামি প্রকাশের সর্বোচ্চ মাধ্যম। তাঁর সামনে সোজা দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর মাধ্যমে এর সূচনা হয়। আর পরিপূর্ণতা লাভ করে সিজদার মাধ্যমে। হাদিসে আছে, ‘বান্দা যখন সিজদাবনত হয়, তখনই সে তার প্রভুর সবচেয়ে কাছাকাছি চলে আসে।’ (আহমদ আবু দাউদ ও মুসলিম)। কিন্তু এ গোলামি প্রকাশের জন্য যদি কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে ইচ্ছাকৃত নানা বিষয় চিন্তা করতে থাকে, তাহলে তা তো আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না 

সফলতা কে না চায়? প্রতিটি সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ সফল হতে চায় আপন কর্মে, আপন ক্ষেত্রে। যেখানেই সে বিচরণ করে, সেখানেই সফলতা অর্জন করতে চায়। এ সফলতা ব্যক্তিক্ষেত্র লক্ষ্য ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই একজন মোমিনও সফল হতে চাইবে তার জীবনে। সে বিশ্বাস করেÑ এ জীবনের সীমা খুব দূরে নয়। এরপর শুরু হবে এক অসীম জীবনের পথে চলা। মনে-প্রাণে যে এ বিশ্বাস লালন করে, তার মূল লক্ষ্যই তো হচ্ছে আখেরাতের জীবন। হয়তো সে সফলতা কামনা করবে দুই জীবনেই। কিংবা সসীম দুনিয়ার জীবন কোনোভাবে শেষ হয়ে গেলেও তার চূড়ান্ত চেষ্টা, সাধনা ও কামনাÑ অসীম পরকালীন জীবনে যাতে সে ব্যর্থ না হয়। দুনিয়ার জীবন যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই এর সফলতাও ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃত সফলতা হচ্ছে আখেরাতের সফলতা। তাই যদি কেউ আখেরাতের অনন্ত অসীম জীবনে সফলতা ও মুক্তি না পায়, তাহলে দুনিয়ায় সে যতই সুখ বিলাসিতা ও আরামে কাটাক না কেন, সে সফল নয়। আর যদি কোনো মোমিন দুনিয়ার অস্থায়ী ও স্বল্পকালীন জীবনটাকে কষ্টের ভেতর দিয়েও কাটায়; কিন্তু আখেরাতে সে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতরাজি লাভ করতে পারে, তাহলে সেই সফল। 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সফল মোমিনের পরিচয় বলে দিয়েছেন। সেখান থেকে যে-কোনো মোমিন তার সফলতার পথ খুঁজে নিতে পারে। সফলতার জন্য মহান স্রষ্টার দেখানো যে পথ, তার চেয়ে উত্তম ও যথার্থ আর কোনো পথ হতে পারে? সূরা মোমিনুনের শুরুটাই হয়েছে এভাবেÑ ‘নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মোমিনরা! যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।’ (মোমিনুন : ১-৩)। 
এখানে মোমিনের সফলতার জন্য প্রথম যে দিকটির কথা বলা হয়েছে, তা হলো বিনম্র নামাজ। লক্ষণীয়, এখানে কিন্তু আমাদের শুধুই নামাজের গুরুত্বের কথা বলা হয়নি। কিংবা বলা যায়, সফল মোমিনের গুণ হিসেবে এখানে শুধু ‘তারা নামাজি’ এতটুকু বলেই শেষ করেনি। বরং সফল মোমিনের পরিচয় হিসেবে এখানে নির্দেশ করা হয়েছে বিনম্র নামাজের প্রতি। আন্তরিকভাবে বিনীত নামাজের প্রতি। যে নামাজে বান্দা তার প্রভুর দরবারে দেহ-মন সঁপে দেয়। খুশু-খুজু অর্থাৎ আন্তরিক বিনয়ের সঙ্গে নামাজ পড়ার অর্থ হচ্ছেÑ নামাজে অন্তর স্থির থাকবে আল্লাহর জন্য, আল্লাহর ধ্যান ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে অন্তর থাকবে মুক্ত ও পবিত্র। অন্তরের পাশাপাশি দৈহিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকেও বিরত রাখতে হবে অনর্থক নড়াচড়া থেকে। আশপাশে এদিক-সেদিক না তাকিয়ে দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে সিজদার স্থানে। নামাজের মধ্যে যে কেরাত ও দোয়াগুলো পড়া হয়, সেগুলোর দিকেও মনোযোগী হতে হবে। নামাজ হবে শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যেই, সেখানে কোনো মানুষকে দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না। সর্বোপরি নামাজ আদায় করতে হবে অত্যন্ত মনোযোগ ও যতেœর সঙ্গে। নামাজে কোনো ধরনের উদাসীনতা ও অলসতা যেন করা না হয়। কোরআনুল কারিমেই মোনাফেকদের নামাজের বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে যে তারা নামাজে দাঁড়ায় অলসভঙ্গিতে। এরশাদ হয়েছেÑ ‘নিশ্চয়ই মোনাফেকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করে। আর তিনিও তাদের এর শাস্তি দিয়ে থাকেন। তারা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন নামাজে দাঁড়ায় অলসভঙ্গিতে। তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে থাকে।’ (সূরা নিসা : ১৪২)। 
যারা নামাজ পড়ে ঠিকই; কিন্তু অবহেলা ও উদাসীনতার সঙ্গে, তাদের এ নামাজই তাদের জন্য ধ্বংস ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূরা মাউনে (৪-৬) এরশাদ হয়েছেÑ ‘সে নামাজিদের জন্য ধ্বংস, যারা তাদের নামাজে গাফলতি করে; যারা নামাজ পড়ে মানুষকে দেখানোর জন্য।’
তাই প্রতিটি মোমিনকেই এ বিষয়ে সদাসচেতন থাকতে হবে, যেন তার নামাজে কোনো ধরনের আলসেমি সৃষ্টি হয়ে তা মোনাফেকদের নামাজের সদৃশ না হয়ে যায়। নামাজে অবহেলার কারণে যেন নামাজই আবার ধ্বংসের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। 
নামাজ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সামনে মানুষের দাসত্ব ও গোলামি প্রকাশের সর্বোচ্চ মাধ্যম। তাঁর সামনে সোজা দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর মাধ্যমে এর সূচনা হয়। আর পরিপূর্ণতা লাভ করে সিজদার মাধ্যমে। হাদিসে আছে, ‘বান্দা যখন সিজদাবনত হয়, তখনই সে তার প্রভুর সবচেয়ে কাছাকাছি চলে আসে।’ (আহমদ আবু দাউদ ও মুসলিম)। কিন্তু এ গোলামি প্রকাশের জন্য যদি কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে ইচ্ছাকৃত নানা বিষয় চিন্তা করতে থাকে, তাহলে তা তো আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। তখন তার এ ইবাদত কবুল হওয়ার কি আশা করা যায়?
বিনয়ের সঙ্গে নামাজ পড়া যদিও নামাজের কোনো ফরজ বিষয় নয় অর্থাৎ উদাসীনতার সঙ্গে নামাজ আদায় করলেও সে নামাজ আদায়ের ফরজ থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছে; কিন্তু নামাজ আল্লাহর কাছে গৃহীত ও কবুল হওয়ার জন্য আন্তরিক বিনয় আবশ্যক। এ বিনয়ের সঙ্গে নামাজ আদায় করাই হচ্ছে মোমিনের সফলতা অর্জনের প্রথম অবলম্বন।


সালাত মোমিনের আশ্রয় ও অবলম্বন
কতই না মহান এর মর্যাদা। কি সমুচ্চ এর অবস্থান। এটি
বিস্তারিত
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের
ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি
বিস্তারিত
হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!
মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ
বিস্তারিত
টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো
গত জুমায় টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের আন-নূর জামে মসজিদের উদ্যোগে
বিস্তারিত
মহামারি-রোগব্যাধি থেকে শিক্ষা
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বান্দাকে পরীক্ষাস্বরূপ সুুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা ও সুখ-দুঃখ
বিস্তারিত
মুফতি সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একজন আনসারি সাহাবি। উপনাম আবু আবদুর
বিস্তারিত