সাক্ষাৎকার

নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনেকদূর এগিয়েছে জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) যাত্রা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যতিক্রমী। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাফল্য, অর্জন, চলমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইরফান এইচ সায়েম ও জাহিদুল ইসলাম।

আলোকিত বাংলাদেশ : ভিসি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন আপনি, এর মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন করতে পেরেছেন? 

মীজানুর রহমান : পরিবর্তন তো অবশ্যই করেছি। আমাদের মূল পরিবর্তনটা হয়েছে শিক্ষা এবং একাডেমিক খাতে। এক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপাত খুবই কম ছিল। প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৩০০ শিক্ষক ছিল। বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৭০০। শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। 

আলোকিত বাংলাদেশ : জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। এ সম্পর্কে কিছু বলবেন?

মীজানুর রহমান : ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। তবে কলেজের শিক্ষকরা ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করতেন। প্রকৃতপক্ষে এটি বিশ্ববিদ্যালয় হয় কলেজের শিক্ষকরা যাওয়ার পরেই। সেই অর্থে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র ৭ বছর। নবীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মূল উদ্দেশ্যই থাকে জ্ঞান আহরণ করা অর্থাৎ গবেষণা করা। এ ধারাটি এখানে চালু রয়েছে।

আলোকিত বাংলাদেশ : বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?

মীজানুর রহমান : এক সময় গবেষণার জন্য খুবই কম বাজেট ছিল। আমি আসার পর গবেষণার বার্ষিক বাজেট ছিল ৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা প্রায় ২ কোটি টাকা হবে। আমাদের প্রতিটি বিভাগে গবেষণার একটি ধারা চালু রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও প্রকল্পের মাধ্যমেও অনেকগুলো গবেষণা প্রকল্প চলছে। আমরা গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দিচ্ছি।

আলোকিত বাংলাদেশ : বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজটের অবস্থা কেমন?

মীজানুর রহমান : একটা সময় সেশনজট ছিল। ৪ বছরের স্নাতক কোর্স শেষ করতে ৬ বছরেরও বেশি লাগতো। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়তে হয়নি। তবে পুরাতন কিছু বিভাগে সমস্যাটা রয়ে গেছে। আগামীতে চার বছরের স্নাতক কোর্স চার বছরেই শেষ করতে পারব। 

আলোকিত বাংলাদেশ : এবার থেকে জবিতে ভর্তি পরীক্ষা লিখিতভাবে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতিটা কেমন হবে?

মীজানুর রহমান : আগে ভর্তি পরীক্ষা লিখিত নেওয়া হতো। মাঝখানে ‘বৃত্ত ভরাট’ পদ্ধতি চালু করি। এ বছর থেকে আমরা আবার লিখিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা চালু করব। এটা হবে এইচএসসি পরীক্ষার আদলেই। মানবন্টন আগের মতোই থাকবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : জবিতে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীর অনুপাত তুলনামূলক কম কেন?

মীজানুর রহমান : এটার অন্যতম কারণ আবাসন সংকট। তাছাড়াও অবস্থানগত কারণও রয়েছে। আমাদের আবাসন ব্যবস্থা শূন্যের কোটায়। ছেলেরা হয়তো মেসে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে কিন্তু অধিকাংশ মেয়ের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না। এক সময় ছাত্রী ছিল ১৫ শতাংশের মতো। কিন্তু এখন তা ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। আমরা বেদখলে থাকা একটি জমি উদ্ধার করে ছাত্রী হল নির্মাণ করছি। এক হাজারের মতো ছাত্রী সেখানে থাকতে পারবে। 

আলোকিত বাংলাদেশ : গ্রন্থাগারের কী ধরনের সুবিধা রয়েছে?

মীজানুর রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার সুবিধার যতটুকু আছে ততটুকুই ব্যবহৃত হয় না। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারী যাওয়া কমে গেছে। কম্পিউটার-ইন্টারনেটের কল্যাণে এটা হয়েছে। ডিজিটাল লাইব্রেরি করার জন্য আমরা বই কেনার চেয়ে ই-বুক কেনার উপর জোর দিচ্ছি।

আলোকিত বাংলাদেশ : ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেওয়ার কথা ভাবছেন কিনা? 

মীজানুর রহমান : আপাতত নেই। এখন নির্বাচন দিলে একতরফা নির্বাচন হবে। তবে ছাত্রসংসদের অনুপস্থিতিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- থেমে নেই। সবাই মিলে ছাত্রসংসদের কাজগুলো করে যাচ্ছি।

আলোকিত বাংলাদেশ : ২০ অক্টোবর জবির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এদিন বিশেষ কোনো আয়োজন থাকবে কিনা?

মীজানুর রহমান : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ক্যাম্পাসে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। এবারও এসব আয়োজন থাকবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে প্রশাসনের ভাবনা কেমন?

মীজানুর রহমান : বেলা ৩টার পর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষ হয়ে যায়। এরপর তো খালি থাকে। তাই মনে করি, সান্ধ্যকালীন কোর্সের জন্য ক্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। যারা এ কোর্সে পড়েন তারা তো আমাদেরই ছেলেমেয়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে এখানে পড়া তো অনেক ভালো। 

আলোকিত বাংলাদেশ : এরকম পরিবেশে কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে?

মীজানুর রহমান : ২৪ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মাত্র ৭ একর জায়গার এ ক্যাম্পাস। তাছাড়া আশপাশে বাজার-মার্কেট। এ ধরনের জায়গায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। 

আলোকিত বাংলাদেশ : ভবিষ্যতে কেরানীগঞ্জে ক্যাম্পাস স্থানান্তর নাকি সম্প্রসারণ করা হবে?

মীজানুর রহমান : ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। সম্প্রসারণ করার কোনো সুযোগ নেই। কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার আমাদের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের কাছে উপস্থাপন করছি। ওটা হলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় জমির উন্নয়ন করা হবে। বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদন করেছে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে এবং সর্বশেষ একনেকে উঠবে। 

আলোকিত বাংলাদেশ : বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

মীজানুর রহমান : প্রথমদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখিনি। তবে বর্তমানে আগ্রহ বাড়ছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : জবিকে ব্রান্ডিং এর বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? 

মীজানুর রহমান : আমরা সব সময়ই চেষ্টা করছি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে মিডিয়াসহ সব জায়গায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে। এটি সম্মানজনক স্থান করে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে একটি সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করেছি যা আগে ছিল না। 

আলোকিত বাংলাদেশ : শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন? 

মীজানুর রহমান : অবশ্যই ভালো একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষজ্ঞরা থাকেন। তারা যাকে সবচেয়ে ভালো মনে করেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গেই করা হয়।

আলোকিত বাংলাদেশ : নবীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সিনিয়র শিক্ষকদের সংখ্যা কেমন?

মীজানুর রহমান : আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স যেহেতু ৭ বছরের একটু বেশি, তাই এখানে সিনিয়র শিক্ষকও কম আছেন। তবে দেশের অনেক পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়েও আমাদের মতো সিনিয়র শিক্ষক নেই বললে চলে। 

আলোকিত বাংলাদেশ : বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা এবং সংকট নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মীজানুর রহমান : নানা সংকট তো থাকবেই। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীতে হওয়ায় সবার আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তাছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিক্ষকদের উপরে। আমরা তো মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছি। এটাই আমাদের মূল সম্ভাবনা।

আলোকিত বাংলাদেশ : আপনাকে ধন্যবাদ।

মীজানুর রহমান : আলোকিত বাংলাদেশ পরিবারকেও ধন্যবাদ। 


রাজধানীতে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি
ঈদুল আযহা উপলক্ষে এবার রাজধানীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বিস্তারিত
চার মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব
নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চারটি মন্ত্রণালয়ে। রোববার (১৯ আগস্ট)
বিস্তারিত
২৪ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণে ২১
কোরবানির পশু বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে
বিস্তারিত
এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময়ে ব্যাংকগুলোর অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম)
বিস্তারিত
অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠবেন
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না উঠতে
বিস্তারিত
বস্তিগুলো বহুতল ভবন হবে: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা মহানগরীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী
বিস্তারিত