বিশ্বকাপ ফুটবল

অবশেষে চ্যাম্পিয়ান ফ্রান্স

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ ফাইনালে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শুরু হয় ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার শিরোপার লড়াই। অবশেষে প্রথমবারের মত ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করল ফ্রান্স।

রোববার (১৫ জুলাই) টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ডি-বক্সের বাইরে গ্রিজম্যানের ফ্রি-কিক থেকে ক্রোয়েশিয়ার তারকা মানজুকিচের মাথায় লেগে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়। এতে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েটরা (১-০)। বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আত্মঘাতী গোল এটি।

পিছিয়ে পড়লেও মনোবল হারায়নি ক্রোয়েশিয়া। ২১ মিনিটে ভিদার শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে পেরেসিচকে ফাউল করে ফ্রি কিক পায় মদ্রিচ। মদ্রিচের নেওয়া ফ্রি কিক থেকে ভিদার ক্রসে বা-পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরেসিচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন এই ইন্টার মিলান তারকা।

পরবর্তীতে দুর্দান্ত গতিতে খেলতে থাকে ফ্রান্স। ৩৫ মিনিটে কর্নার থেকে আক্রমণ করলে ইভান পেরেসিচের হাতে বল লাগলেও রেফারি এড়িয়ে যান। কিন্তু ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে টুর্নামেন্টে নিজের ৪র্থ গোলটি করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান রাকিতিচের বাড়ানো বল ধরে আন্তে রেবিচের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন উগো লরিস।

৫২তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো জ্বলে ওঠেন কিলিয়ান এমবাপে। পাল্টা আক্রমণে পল পগবার দেয়া বল ধরে দুর্দান্ত গতিতে ভিদাকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। পা দিয়ে ঠেকান সুবাসিচ।

দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকটা খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে যায় ফরাসিরা। ৫৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে এমবাপের ক্রস ধরে গ্রিজমান বল পাঠান পেছনে থাকা পল পগবাকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারের ডান পায়ের প্রথম শট ফেরে রক্ষণে। ফিরতি বলে বাঁ পায়ের শট যায় জালে।

ছয় মিনিট পর এমবাপের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান। লুকা এরনঁদেজের পাসে প্রায় ২২ গজ দূর থেকে নিচু শটে করেন টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ গোল। পেলের পর প্রথম টিনএজার হিসেবে ফাইনালে গোল পেলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

এক মাস আগে স্বাগতিক রাশিয়া-সৌদি আরবের ম্যাচ নিয়ে যতটা উত্তেজনা ছিলো, শেষ মুহূর্তেও সেই একই উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, পর্তুগালের দলপতি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ব্রাজিলের দলনেতা নেইমার অথবা জার্মানি-স্পেনের মত বাঘা-বাঘা দল না থাকারও পর ফাইনাল নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ফ্রান্স। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এরপর তারা উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ফরাসিরা।

অন্যদিকে, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তারা ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা স্বাগতিক রাশিয়াকে পরাজিত করে। সেমিফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েটরা।

ক্রোয়েশিয়ার একাদশ: ড্যানিয়েল সুবাসিচ (গোলরক্ষক), সিমে ভ্রাসালকো, ইভান স্ট্রিনিচ, ইভান পেরেসিচ, ডেজান লভরেন, ইভান রেকিটিচ, লুকা মদ্রিচ (অধিনায়ক), মারসেলো ব্রজোভিচ, মারিও মানজুকিচ, আনতে রেবিচ, ডোমাগজ ভিদা।

ফ্রান্সের একাদশ: হুগো লোরিস (গোলরক্ষক এবং অধিনায়ক), বেঞ্জামিন পাভার্ড, রাফায়েল ভারানে, স্যামুয়েল উমতিতি, পল পগবা, অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান, অলিভার জিরুদ, কাইলিয়ান এমবাপে, এনগোলো কান্তে, ব্লেইসেস মাতুইদি, লুকাস হার্নান্দেজ। 


আত্মসমর্পণের আহ্বানে ‌‘সাড়া দিচ্ছে না
নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচর গাঙপাড় এলাকার আফজাল হাজির ‘নিলুফা
বিস্তারিত
উন্নয়ন মেলা শেষে নকলায় পুরষ্কার
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের কাছে তুলে ধরতে সারা দেশের
বিস্তারিত
আত্মতুষ্টি মানেই পতন: প্রধানমন্ত্রী শেখ
আত্মতুষ্টিতে না ভুগে নেতা-কর্মীদের সদা সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
বিস্তারিত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বিস্তারিত
দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তফ্রন্টের নামে দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে। তবে
বিস্তারিত
১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে)
বিস্তারিত