ইরাকে প্রগতিবাদ ও স্বকীয়তার দ্বন্দ্ব

সুফিয়ান আলে রাফে

সাধারণত অসাধুরা তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার সমালোচনার মোড়কে সূক্ষ্মভাবে ধর্মের সমালোচনা করে। তারপর নবী-রাসুল এবং জিহাদসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমালোচনা এবং খারাপভাবে উপস্থাপন শুরু করেঅভ্যন্তরীণ দেশীয় শহরকেন্দ্রিক গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ থেকে আংশিকভাবে বেরিয়ে আসার পর এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর ইরাকের জাতীয় দলগুলোর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়াও বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সাধারণভাবে এটি ইরাকি যুবসমাজের মনোভাব ও চিন্তা-চৈতন্যে জেঁকে বসেছে। আর বিশেষভাবে বলতে গেলে স্বাধীন শহরগুলোতে এর প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। তবে কিছু রাজনৈতিক সক্রিয় কর্মী এটিকে পুনরুত্থানের সঙ্গে জড়িত এবং নতুনত্ব সমৃদ্ধ একটি প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবাহ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিতর্ক ও সংলাপে অংশগ্রহণ করার পর দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে একটি নতুন ধরনের চরমপন্থার তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে এবং বাকস্বাধীনতার নামে বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে দমন করার পাঁয়তারা চলছে।

ইরাকের ভোটকেন্দ্রগুলো দখলের মাধ্যমে সর্বোতভাবে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর পরাজয় হোকÑ এটা ইরাকের জনগণ চায় না। অন্যদিকে বিভিন্ন উগ্রবাদী দল ও সশস্ত্র মিলিশিয়ার কর্মকা- রোধ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে না। সমাজের সুষ্ঠু বিনির্মাণ এবং আগের শান্তি-সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ-পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার সার্বিক চেষ্টার পরিবর্তে প্রগতিবাদীরা ইসলাম, ধর্মীয় ব্যক্তি ও ইসলামের ইতিহাসের বিরুদ্ধে হিংস্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি আরব জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও ওরা উঠেপড়ে লেগেছে।
আলোচনা ও সমালোচনার অংশ হিসেবে বিষয়টি ধরে রাখতে পারেন যে, যুগের সঙ্গে খাপ খায় না বলে ইসলাম ও আরবীয় চেতনাকে অপাঙ্ক্তেয় উপহাস এবং আরব ও মুসলমানদের যে-কোনো অনুভূতি উপেক্ষার চেষ্টা চলছে চরমভাবে।
মূলত সমস্যা হচ্ছে এই প্রবণতার অনুসারীরা শ্রেণিবিন্যাসে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারে না। তাই তারা একদিকে আরব জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে, অন্যদিকে কুর্দি, তুর্কমেনিস্তান ও অ্যাসিরিয়ান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অস্তিত্বকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করে। ফলে তাদের নিরপেক্ষতা ও সাম্যবাদের খোলস খুলে পড়ে এবং উগ্রবাদী চিন্তাচেতনা ও গোষ্ঠীয় চরমপন্থাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা প্রমাণ করে তাদের প্রথম দাবিটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং জায়নবাদ সত্তাকে সহযোগিতা ও সমর্থন এবং তাদের স্বাগত জানানোর জন্য ফেইসবুকে পেজ খুলে আমন্ত্রণ জানানো দ্বারা প্রগতিবাদীরা নিজেদের ইসলাম ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলোর বিরোধী হিসেবেই তুলে ধরছে।
তাদের মুখ দিয়ে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধুয়োধ্বনি বের হয়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠার কোনো অবকাঠামো কি আছে? তারা সমাজে এই ধারণাকে সুসংহত করার জন্য একটি কর্মসূচি পালন করছে? অবশ্যই না। তাই তো গত নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। 
তাদের ফোকাস ছিল অদ্ভুত বিষয়ের ওপর, যা রাষ্ট্র গঠন ও রাষ্ট্রকে সুসংহতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা এমন কিছু কাজ করেছে, যা অত্যন্ত নিম্নশ্রেণির ও বাজারি লোকদের আচরণের মতো। তারা ধর্মের সমালোচনা করেছে এবং নাস্তিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে। আশ্চর্য! তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, ধর্মের সমালোচনা যেন দেশের অর্থনীতি তৈরি ও জমি সংশোধনে কার্যকরী কোনো কাজ দেবে! স্বাধীনতা ও নারীমুক্তির অজুহাতে কিশোরী-তরুণী মেয়েদের এবং নারীসমাজকে কাজে লাগানো চেষ্টা করেছে। 
পাঠক মনে করতে পারেন, আমি সমাজ পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে কিংবা অসমর্থক। বাস্তব কথা হলো, আমি ইরাকি প্রগতিবাদীদের হাত ধরে বুদ্ধিবৃত্তিক বা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কোনো আভাস দেখতে পাচ্ছি না। যেমনটা তারা নিজেরা প্রচার করে ও বলে থাকে। তাদের অধিকাংশকেই দেখেছি ধর্ম, আরবি ইতিহাস ও ইসলামি ইতিহাসের সমালোচনা এবং নির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক মানুষকে ও পাশ্চাত্যকে খুশি করার জন্য দেশীয় স্বকীয়তার বিরোধিতা ছাড়া ওরা কিছু বোঝে না। পাশ্চাত্যের সুযোগবাদী অনৈতিক অতীত ও রক্তাক্ত বর্তমান এবং আমাদের দেশগুলোকে অধঃপতনে নিমজ্জিত রাখার সামগ্রিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যসংক্রান্ত যে-কোনো অগ্রগতির বাধা দেওয়া এবং বাকস্বাধীনতার নামে ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই বাধিয়ে রাখা সত্ত্বেও ওদের দোসররা প্রভুদের সন্তুষ্টি অর্জনে সদা সচেষ্ট।
সাধারণত অসাধুরা তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার সমালোচনার মোড়কে সূক্ষ্মভাবে ধর্মের সমালোচনা করে। তারপর নবী-রাসুল এবং জিহাদসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমালোচনা এবং খারাপভাবে উপস্থাপন শুরু করে। এরপর তাদের অসৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য পুরোপুরি ডাহা মিথ্যা ও সম্পূর্ণ অসত্য উপায়ে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং ধর্মীয় বিষয়কে মন্দভাবে চিত্রিত করা আরম্ভ করে। খেয়াল করলে বোঝা যাবে, আইএসের কর্মকা-কে ইসলামের চেতনা ও বিধান বলে চালিয়ে দিয়ে ইসলামকে কলুষিত করতে তারা হীন চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরপর আরব ও আরব সভ্যতাকে সমানভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও হেয়প্রতিপন্ন করে এবং মতাদর্শিক সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বর্বর ও তীব্র সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখে। আবার পাশাপাশি অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনীয় ও সুমেরিয়ের মতো প্রাচীন সভ্যতাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রবণতা খুব শক্তিশালীরূপে প্রতিষ্ঠিত করে। এমনকি তাদের কেউ কেউ নিজেদের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর নামে পরিচয় দিয়ে থাকে।
বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে ও পক্ষপাতদুষ্ট ভাবনা দূর করে এবং সব সমালোচনার বৃত্ত ভেঙে একটু মনোযোগী হলে বোঝা যায়, অ্যাসিরিয়ান এবং ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য তৎকালীন অন্যান্য জাতির কাছে বেশ ঘৃণ্যভাবে স্বীকৃত। এমনকি তারা জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং নিষ্ঠুর আচরণ এবং অন্যের ভালো জিনিস লুটপাটের কাজে ব্যাপক হারে লিপ্ত ছিল। অথচ মুসলমানরা এগুলো কখনও করেনি। আরও গবেষণা করলে দেখা যায়, তারা অকারণে মানুষকে বন্দি করা এবং পুরোপুরিভাবে দাসপ্রথা প্রতিষ্ঠা ও জাতিগত নিধনে মহাব্যস্ত ছিল। অথচ মুসলমানদের মাঝে এগুলো ছিঁটেফোঁটাও ছিল না। কারণ বন্দিদের সঙ্গে আচরণ ও দাসদের সঙ্গে ব্যবহারে রাসুল (সা.) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ও সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন। 
শেষকথা হলো, প্রগতিবাদ ও স্বাধীনতার নামে সমাজকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এবং বিকৃত ও সম্পূর্ণ অসত্য ধ্যানধারণা প্রতিষ্ঠায় উঠেপড়ে লাগা একটি প্রবল ঝড়ের মুখোমুখি আছি। অথচ প্রগতিবাদ ও অদ্ভুত স্বাধীনতা মানুষের কোনো উপকারে আসে না। কোনো দেশ নির্মাণ ও উন্নত করে না এবং কোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদকে ফের জীবিত করে না।

আলজাজিরা থেকে অনুবাদ মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত