হজ তথ্য কর্নার

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

বাংলাদেশের হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা দুই পর্বে দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদানের মাধ্যমে জেলা পর্যায় থেকে এই কার্যক্রম  বাংলাদেশে শুরু হয় এবং আশকোনার হজ ক্যাম্প, বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন নগরীতে (মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা) হজব্রত পালনকালে পুরো সময় দেওয়া হয়।

ক. বাংলাদেশে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং ঢাকা মহানগরীতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ভ্যাকসিন প্রদানপূর্বক স্বাস্থ্য সনদপত্র প্রদান করে থাকে। এছাড়াও হজ ক্যাম্পে অবস্থানকালে অসুস্থ হজযাত্রীদের রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

খ. সৌদি আরবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা : হজব্রত পালনকারীদের সৌদি আরবে গমনের পর থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সামরিক স্বাস্থ্য পরিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে থাকে। মক্কা, মদিনা ও সীমিত ক্ষেত্রে জেদ্দা অবস্থানকালে এই সেবা প্রদান করা হয় :  

ষ ছোটখাটো অপারেশন এবং চিকিৎসা পরামর্শ ও মনোচিকিৎসা।

ষ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রেরণ।

ষ হজ শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়কৃত অসুস্থ রোগীদের বাংলাদেশে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

ষ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র কিংবা হজযাত্রীদের বাসস্থানে মৃত্যুবরণকারীদের মৃত্যুর সনদ প্রদান।

 

স্বাস্থ্য সতর্কতা

ষ হজের সময় মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় অনেক লোক সমাগম হয়। যেখানেই লোক সমাগম বেশি হয়, সেখানেই বায়ুবাহী রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস ইত্যাদি বায়ুবাহী রোগ কখনও কখনও জীবনঘাতী হতে পারে। এ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য রাস্তায় চলাকালে ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন। মক্কায় দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিরও বেশি থাকে; তাই রোদে ঘোরাফেরা যথাসম্ভব পরিহার করুন। রোদে বের হতে হলে অবশ্যই সাদা ছাতা ব্যবহার করতে হবে।

ষ মক্কায় দিনের বেলায় রোদে চলাফেরার পর পিপাসা মেটানোর জন্য খুব ঠান্ডা পানি খাওয়া বা শরীরে ঢালা যাবে না। এতে গলা বসে যেতে পারে এবং যাদের কোল্ড এলার্জি আছে, তাদের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

ষ গরমে থাকার পর ঘামে ভিজে যাওয়া জামাকাপড় নিয়ে তাৎক্ষণিক এসির ঠান্ডায় বসবেন না, কারণ ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। সুতির টাওয়েল দিয়ে ঘাম শুকিয়ে ফেললে ঠান্ডা লাগা এড়ানো যেতে পারে।

ষ খালি পায়ে রাস্তায় চলা কোনোভাবেই উচিত নয়। রোদের তাপে প্রচ- উত্তপ্ত রাস্তার পিচের গরমে পায়ের তলার চামড়া পুড়ে যেতে পারে, এ অবস্থায় সমগ্র হজজুড়ে হুইল চেয়ারে চড়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

ষ প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার বা ফলের রস বা শরবত পান করুন। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা বাংলাদেশে যেভাবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতেন সেভাবে সৌদি আরবেও করতে হবে। মিষ্টি, খেজুর, মিষ্টি ফলের রস, মিষ্টি শরবত ইত্যাদি পান করলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। রক্তের সুগার পরীক্ষা করে ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো কুসংস্কারে কান দেবেন না। মনে রাখবেন খেজুর যেখানেরই হোক না কেন, তা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

ষ রাস্তায় খোলামেলা বিক্রি করা খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

ষ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। খাবার গ্রহণের আগে এবং পায়খানার পর সাবান দিয়ে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত