মুন্সীগঞ্জে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পানি শোধনাগার

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীন মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা (সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান) পানি  শোধানাগার প্রকল্পের কাজ। আর এই প্রকল্পের আওতায় সমগ্র পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে অতিসম্প্রতি শুরু হয়েছে মহাকর্মযজ্ঞ।

মুন্সীগঞ্জ শহরের ধলেশ্বরী শাখা নদীর তীরে হাটলক্ষিগঞ্জ এলাকায় এই মহাকর্মযজ্ঞের কাজ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ২ জুলাই মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাকে এই প্রকল্পের আওতাধীন মুন্সীগঞ্জ মৌজার ৩৭৬নং দাগের ১নং খাস খতিয়ানের ৮৫ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেন। এই জমির নামমাত্র দাম ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আর সেই টাকা পৌর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই পরিশোধ করেছে। 

গত ২০১৭ সালের ৭ জুন এই প্রকল্পের জমিটি মুন্সীগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাস্তবায়নে প্রকল্পের মেয়াদ ধার্য করা হয়েছে ৪০০ দিন। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। আর এটির সাইট প্লান দেখা-শোনার দায়িত্বে রয়েছে মুন্সীগঞ্জের পাবলিক হেলথ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র পৌরসভার পৌরবাসী পানি সরবরাহের আওতায় আসবে।

বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ৩ হাজার ৮৬৪ ঘন লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় পানির চাহিদা রয়েছে ৮০ লাখ লিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ হবে।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমানে পানির গ্রাহক সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৫। তার মধ্যে আবাসিক গ্রাহক হচ্ছে ১ হাজার ৬৩৭টি, আর অনাবাসিক গ্রাহক ৫৮। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় উৎপাদক নলকূপের সংখ্যা হচ্ছে ৬টি। ওভারহেড ট্যাংক হচ্ছে একটি। আর এই ওভারহেড ট্যাংকিতে পানি ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৬৮২ ঘনমিটার। আর হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা হচ্ছে ৫২১টি।

উল্লেখ্য, নতুন ৫টি উৎপাদক নলকূপ এবং ১ কিমি পাইপ লাইনের কাজ চলামান আছে।দেশের ১২টি জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ূন কবীর আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি উত্তোলন করে তা শোধন করা হবে। এরপর সেই পানি রিজার্ভে রেখে পরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির গ্রাহকের মাঝে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে মেসার্স ইউনুস ব্রাদার্স। আমাদের অফিসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ কোটি টাকার টেন্ডার করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি হচ্ছে ডুয়েল সারফেজ। যদি কখনো নদীর পানি খারাপ বা নষ্ট দেখা দেয়, তখন আন্ডার গ্রাউন্ডের ভূ-গর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করে পানি গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। তাই মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় কখনোই পানি ঘাটতি হবে না।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সচিব এ.কে.এম. বজলুর রশীদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীন মহাপরিকল্পনা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লাানের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে পানির অভাব আর হবে না। 

মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র হাজি ফয়সাল বিপ্লব বলেন, ধলেশ্বরী নদীর তীরে পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজটি শুরু হয়েছে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে  এ নদীর পানি পরিশোধন করে খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হবে, আর এর সুফল ভোগ করবে সবাই।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত