ক্রিয়াপদহীন ক্রিয়াকলাপ

কবি কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর থেকে তার বেশ কিছু কবিতার মনোযোগী পাঠক হয়ে উঠি। তার কবিতায় দেখতে পাই স্বাতন্ত্র্যের নিষ্ঠাটুকু। আমাদের যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে খুব অল্প সময়ে। কবিতা বিষয়ে আমাদের ভাবনা, মতের মিল-অমিল ইত্যাদি নিয়ে, এমনকি কবিতা বিকাশের সাংগঠনিকতা নিয়েও আমাদের বিস্তর আলাপ চলতে থাকে। তার কবিতা আমাকে মুগ্ধ করছিল; বিশেষত তার ‘ক্রিয়াপদহীন ক্রিয়াকলাপ’ বইটি।
এ বইয়ের কবিতাগুলোর প্রতিটি শব্দ, পঙ্ক্তি বিস্ময় ও অবিশ্বাসের সমার্থক হয়ে ধরা দেয় আমার কাছে। নজরে আসে কি করে ক্রিয়াপদের সচেতন অনুপস্থিতি একটি কবিতাকে করে তুলছে নির্মেদ আর ঋজু। আমার কাছে এ বই দেখা দেয় অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে।
‘সবুজ রেইনকোট, জলের ফোঁটাগুলো এখনো লাল, মিলেনিয়াম রাস্তায় ভেতরের মানুষটি কালো, কোঁকড়ানো চুল, ভূমিধসের সুস্পষ্ট চিহ্ন ওর নাক ও বিস্তৃত ঠোঁটে মার্টিন লুথার কিং, স্বপ্নের ফসিল, এখনো... পুজোর বেদিতে ম্যান্ডেলা, সভ্যতার অলঙ্কারমাত্র পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় শ্বেতগৃহে একজোড়া কালো পদছাপ, কয়েক দশকের ইয়ার্কি আগস্টের রাস্তায় পুরনো বৃষ্টিপাত, তুমুল তুমুল, নতুন এক শতাব্দীরেখায় প্রলম্বিত।’ 
(কবিতা : বর্ণবাদ)।
এ কবিতায় প্রথমে মনে হয়েছিল টুকরো টুকরো কিছু দৃশ্যের কোলাজ বড়জোরÑ
প্রবহমানতা কই। কিন্তু ভুল ভাঙে দ্রুত। যখন দেখতে পাই, ক্রিয়াপদের না থাকাই যেন হয়ে উঠছে নান্দনিকতার শর্তÑ কবিতার কবিতা হয়ে ওঠা।
‘এক রাতে আর কতখানি, তাতানো গ্রীষ্মের রাতে?
দেয়ালে যুগল-বৃক্ষ, একটি পত্র-পল্লবিত, অন্যটিতে ন্যাড়া শীত
পরস্পর বৈপরীত্যের নিবিড় সখ্য। আমাদেরও।
কক্ষটি নিñিদ্র, করিডোরে সতর্ক পা একজোড়া, কোনো দম্পতির, হয়ত এক রাতের...
শত বছরের পুরনো প্রেমিকযুগলের সুখের শীৎকার
বন্দি আধুনিক ওয়াল পেপারের নিচে।
নিñিদ্র এ কামরাটিতে ভোরের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ, তা সত্ত্বেও
ভোরের অস্তিত্ব এখানে উপস্থিত, দেহঘড়ির নিয়মে।
গোছগাছ তো অনেক আগেই সমাপ্ত, এমনকি রাবারের স্যান্ডেলজোড়াও,
তবুও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি সর্বত্র, অবশেষে বাক্সপেটরার
কনিষ্ঠতম সদস্যটিরও প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত।
নিশ্চিত!
হায়, আসলেই কি নিশ্চিত আগস্টের এক
তাতানো রাতের সবকিছু, এই হলুদ স্যুটকেসে?’
(কবিতা : বোস্টনের এক রাত)
আচ্ছন্ন হতে দ্বিধাবোধ করি না। আসলে আচ্ছন্ন না হয়ে পারি না। দৃশ্যগুলো তো স্বয়ম্ভু হতে পেরেছে বা পারছে এখানে এসে। কোথাও ক্রিয়াপদের উপস্থিতির কোনো দাবি নেই। না বোধ করছি তার অভাব। বরং বোধ করছি উল্টোটাইÑ যেন ক্রিয়াপদের অনুপস্থিতিই কবিতাটিকে করে তুলছে আরও দ্যুতিময় ও সংবেদনশীল। আবার এমনও হয়Ñ ক্রিয়াপদের অনুপস্থিতি আমাদের চোখ টাটায় না একেবারেই। জহিরুল ইসলাম তার স্বভাবসিদ্ধ নৈপুণ্যে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন নিচের এ নিটোল কবিতাটিÑ
‘আমার অনেকগুলো ছেলেবেলা
একটির অপমৃত্যু নির্জন বকুলতলায় খুব ভোরে,
পানখ সাপের ছোবলে। শেফালির হাসির প্রতিবিম্ব মন্দিরের ভাঙা ইটে; স্বরচিত
কষ্টের ইতিহাস।
শরত সন্ধ্যায় বাড়ির পেছনের মৌন পুকুরের কালো জলের অতলে দ্বিতীয় মৃত্যু।’ (কবিতা : ছেলেবেলা)
কাজী জহিরুল ইসলামের কাছে আমাদের দাবি থাকবে ‘ক্রিয়াপদহীন ক্রিয়াকলাপ’ নিয়ে তিনি আরও মহতী সাধনায় নিমজ্জিত থাকবেন। নিশ্চিতভাবেই মনে করি, আমাদের সবার যথোপযুক্ত মনোযোগ ও নিবিড় চর্চা এ ধারাটিকে আরও বেগবান করে তুলবে। হ


কে কারে করিবে ক্ষমা
তুমি এক অনন্তের পাখি।  গাছে গাছে বনে বনে মনে মনে আকাশের
বিস্তারিত
মুমূর্ষুতা
মুমূর্ষুতা, বেঁচে থাকো; বাঁচা কোনো নাইটিঙ্গেলের ডানার  অভ্যন্তরস্থ উষ্ণতার চেয়ে কম
বিস্তারিত
সূর্যোদয়ের আনন্দ ম্লান
আয়োজনে ছিল মেধাবী আবেগ উচ্ছ্বাস আর প্রীতি প্রাণ চেয়েছিল তোমার একার
বিস্তারিত
দীর্ঘ জীবনের অপেক্ষায়
তোমাদের দিয়ে যাব নীল নীল মেঘ আর একটি বসন্ত ঋতু। নির্বাক
বিস্তারিত
প্রেম
তাকে বড় ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় সে মিষ্টি হাসে, উৎসুক চোখে তাকায়
বিস্তারিত
চিতার আগুনে
বিস্তীর্ণ ঘুমের অন্দরে নিয়তির নিষ্ঠুর খেলার ছলে এই প্রান্তরের ধূলিমাখা মেঠোপথে
বিস্তারিত