বঙ্গবন্ধুর চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন বহু আগে থেকেই দেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান আমলে যখন তাকে নিজ বাসভূমের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে, রাজপথে আন্দোলন করছেন, অসংখ্যবার জেলে যাচ্ছেন; এই সংগ্রামমুখর দিনগুলোর মধ্যেও তিনি ১৯৫২ ও ১৯৫৪ সালে বিশ^শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে গণচীন, ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ১৯৬৩ সালে লন্ডন সফর করেছেন। তারপর তো এ মহানায়কের নেতৃত্বে বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামই সংঘটিত হলো। ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বাংলাদেশের জন্মদাতা চীনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমি আশা করি, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন আমাদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের বিরোচিত সাফল্যকে স্বীকৃতি দেবে। কারণ চীনও যুদ্ধবাজ-স্বৈরতন্ত্রী ও ঔপনিবেশিক শোষকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।’ রাষ্ট্রনেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দাবি জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছেন। জাতির পিতার সাড়ে তিন বছর সময়কালে নবীন বাংলাদেশ কমনওয়েলথ, জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছে। ইসলামিক জোট সম্মেলন ও জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোতে যোগ দিয়েছে। আর ১৯৭৪ সালের মধ্যেই এই দেশকে বিশে^র ১১৬টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। সে বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনকের প্রদান করা বাংলা ভাষণটি আজও মর্মস্পর্শী ও প্রাসঙ্গিক, ‘বিশ^শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অঙ্গীকার প্রমাণের জন্য উপমহাদেশে আপস মীমাংসার পদ্ধতিকে জোরদার করিয়াছি।’ এই কথাগুলো লেখা আছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা’ নিবন্ধে। লেখক অধ্যাপক ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। তিনি খ্যাতনামা অধ্যাপক ও গবেষক। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপ-উপাচার্য, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক সম্মানিত সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক সভাপতি। ১৪টিরও অধিক গ্রন্থ রচনা ও নানা ভাষায় শ’ খানেকেরও বেশি গবেষণা জার্নাল থাকার পরও তিনি কলম তুলে নিয়েছেন জাতির জনকের জন্য। মূলত তারই উদ্যোগে ও সম্পাদনায় তৈরি হয়েছে আকরগ্রন্থ ‘সশস্ত্র সংগ্রাম ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়; নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু’ নামের আকর গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে তার সহ-সম্পাদক হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. শায়রুল মাশরেক ও চট্টগ্রামের বিজয় সরণি বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুল হক। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। তিনি যথার্থই বঙ্গবন্ধুর কীর্তি তুলে ধরেছেন, ‘পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পরপর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষাকে চিরতরে বিলুপ্ত করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তারা (বাঙালিরা) বুঝতে পারল, তারা স্বাধীন নয়, বরং তারা ব্রিটিশদের গোলামি থেকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের গোলামিতে পুনর্বাসিত হয়েছে। ফলে তখন শুরু হলো ভাষা আন্দোলন। 
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হলো এই ভাষা আন্দোলনেরই স্বাভাবিক পরিণতি আর জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এই মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা।’ চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অনুপম সেন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুননু, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা বিভাগের ডিন ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, চট্টগ্রামের বিজয় সরণি বিশ^বিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুল হক প্রমুখের গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধে সমৃদ্ধ এই গ্রন্থ। তারা প্রত্যেকেই জাতির পিতার চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের মহানায়ককে নিয়ে রচিত এই গ্রন্থ সমকালীন ও চিরকালীন পাঠ্য হয়ে থাকবে। হ


আত্মজীবনী লিখলে ঘরে ও বাইরে
ঢাকায় বাতিঘর আয়োজন করে ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক আলাপচারিতা।
বিস্তারিত
যে নদীর মন বোঝে
পদ্মা মেঘনার মতো দুই ভাগ হয়ে গেছে মানুষ চলে পাশাপাশি তবুও
বিস্তারিত
সেই তুমুল অঘ্রানলোকে
সবকিছু উগরে দিয়েছে ওরা  প্রীতি ও বিচ্ছেদ, সুর ও সুরভী, রতি
বিস্তারিত
চোরাচালানি
কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রতিদিনের সন্ধ্যা গভীর রাতে শিয়ালের কান্না শীতের আগমনী
বিস্তারিত
অভিশাপ
অভিশাপে কপালের আধখান শেষ। ভাগ্যরা আর পাশে নেই। উড়ে গেছে
বিস্তারিত
যে বৃক্ষে বাতাস জমেনি
আমাদের দুই জোড়া হাতে যে বৃক্ষটি রোপণ করেছি। সেটি যেদিন
বিস্তারিত