রংপুরে নজর কাড়ছে প্রধানমন্ত্রীর আমবাগান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমবাগান দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই আশপাশের লোকজন ভিড় করছে সেখানে। রংপুরের পীরগঞ্জে পরিবেশবান্ধব আর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি।

রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধার ঘেঁষে এক সময়ের পতিত জমিতে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন এই আমবাগান সহজে নজর কাড়ে সবার। উপজেলার উজিরপুরের শেখ হাসিনার মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর দেড় একরের বেশি জমিতে আমবাগানটি গড়ে তোলা হয় ২০১৩ সালে। স্থানীয়ভাবে এটি দেখভাল করছেন প্রধানমন্ত্রীর নাতি (প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাগ্নের ছেলে) শাহিদুল ইসলাম পিন্টু। 

শাহিদুল ইসলাম পিন্টু জানান, বাগান করার পর ২০১৬ সাল থেকে কিছু কিছু গাছে আম ধরেছিল। তবে এ বছর প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আম ধরেছে। বারি আম-৪ ও জনপ্রিয় হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আম সমৃদ্ধ এ বাগান স্থাপনে সহায়তা করছে রংপুরের বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। বাগানে মোট ১১০টি আম গাছের মধ্যে বারি আম-৪ জাতের ৫৫টি এবং  হাঁড়িভাঙা জাতের গাছ রয়েছে ৫৫টি। এ বছর বাগানে আমের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। 

শাহিদুল ইসলাম পিন্টু বলেন, '২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ফলে সমৃদ্ধ করতে ফলের চারা রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওই সময় তিনি পরিবেশবান্ধবসহ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পীরগঞ্জে তাঁর জমিতে একটি মডেল বাগান করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে ভালোমানের বারি আম-৪ ও হাঁড়িভাঙা জাতের আমের চারা এনে এক সময়ের পতিত জমিটিতে রোপণ করি। যা এখন একটি পরিপূর্ণ আমবাগানে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে হাঁড়িভাঙা জাতের আম পাঠানো হয়েছে। তিনি আম খেয়ে আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। বারি আম-৪ জাতের পাকতে সময় লাগবে। তবে এ ব্যাপারে পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। এ বছর আমের ফলনসহ বাগানের অগ্রগতি জেনে প্রধানমন্ত্রী খুব খুশি হয়েছেন বলেও জানান শাহিদুল ইসলাম পিন্টু।

কৃষি বিভাগ জানায়, রংপুরে এবার ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। প্রতিবছরই বাড়ছে বাগানের সংখ্যা। মিঠাপুকুর থেকে উৎপত্তি জনপ্রিয় হাঁড়িভাঙা আমের বাগানই রয়েছে তিন হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। এর মধ্যে বাগান আকারে রয়েছে এক হাজার হেক্টর। এ ছাড়া বসতবাড়ির প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এই হাঁড়িভাঙা আম। এসব আমবাগান থেকে এবার আম পাওয়া যাবে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। আমকে ঘিরে রংপুরের এমন সুখবরের সঙ্গে বাড়তি চমক হিসেবে যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আমবাগান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সরওয়ারুল হক জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকিতে বারি আম-৪ ব্যাপক ফলন হয়েছে । এই হাঁড়িভাঙা জাতের আমের পরে পাকতে শুরু করে । তাই এ আমের চাহিদা রয়েছে । আগামী আগস্ট মাসের প্রথম দিকে আম পাকতে শুরু করবে ।

তিনি জানান, ওই এলাকার অনেকে আমবাগান করতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। কয়েক বছর ধরে ধান, আলু, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।  সে তুলনায় আমের বাগান লাভজনক। তাই দিন দিন বাড়ছে আমবাগানের সংখ্যা। পরিবেশবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এ আমবাগান আমাদের জন্যে গর্বের বিষয়।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত