যে কারণে এইচএসসির ফলাফলে পিছিয়ে মৌলভীবাজার

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার জেলা। ক্রমান্বয়ে নানা কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে ফলাফলে পিছিয়ে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী এ জেলা। যে কারণে এইচএসসির ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার জেলা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ সকল তথ্য। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব, সময়মতো ক্লাসে না আসা, বাণিজ্যিক মনোভাব, কোচিং বাণিজ্য এবং এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাসের সময় ফাস্ট ফুডের দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, ক্লাসের সময়ে পৌর পার্কে ফুচকার দোকানে বসে সময় কাঠানো, চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার, সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধারণার অভাব এবং ক্লাসে অমনযোগীসহ বিভিন্ন কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে। 

ফলাফল খারাপ নিয়ে জেলার শিক্ষাবিদ, অভিবাবক ও সচেতন নাগরিকবৃন্দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। তারা ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করছেন। তারা বলেন, নিয়মিত কলেজে ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের মানসিকতার কারণে এ ফল বিপর্যয় হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লাগাতার ক্লাসে উপস্থিত না হলেও কলেজের পক্ষ থেকে অভিবাবকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। যার ফলে মেধাশূন্য হওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ অঞ্চল পিছিয়ে পড়ছে। এতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শিক্ষাসহ চাকরির ক্ষেত্রে অনেকটা মৌলভীবাজার পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

তবে অভিবাবকরা বলছেন, শিক্ষকরা ক্লাসকে গুরুত্ব না দিয়ে কোচিংকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোচিং বাদ দিয়ে যদি ক্লাসে গুরুত্ব দেয়া হতো তাহলে ফলাফল এত খারাপ হতো না।  

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার। জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৪৪৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮২৫৮জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ শত ১৮ জন শিক্ষার্থী।

এদিকে কমলগঞ্জের হুরুন্নেসা খাতুন চৌধুরী কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে গত এক যুগের চেয়ে এবারই বেশি ফল বিপর্যয় হয়েছে এজেলায়।  

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পাসের হার ৮০ শতাংশ, আলহাজ মখলিছুর রহমান ডিগ্রি কলেজে ৯৬ শতাংশ, সরকারি মহিলা কলেজে ৫৩ শতাংশ, শাহ মোস্তফা ডিগ্রি কলেজে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ, রাজনগর ডিগ্রি কলেজে ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ, মোফাজ্জাল হোসেন মহিলা কলেজে ২৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজে ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ইম্পিরিয়েল কলেজে ৭৫ শতাংশ, কাশীনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয় ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধিনে আলিম পরীক্ষায় ১২৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৫৯জন। শতকরা পাসের হার ৬০ শতাংশ। জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো এপ্লাস এসেনি এবং কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২০৯জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। শতকরা পাসের হার ৮৮ দশমিক ১২ শতাংশ। কোনো এপ্লাস নেই।

জানাযায়, ২০১৭ সালে মৌলভীবাজার জেলায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ৭৩ জন। ২০১৬ সালে পাশের হার ৬০ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলাফলের দিক বিবেচনায় পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার। 

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ে এককভাবে কেউ দায়ী নয়। ফল বিপর্যয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ঘাটতি রয়েছে। কিছু কলেজে বছরের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা থাকে। ফলে ঠিক মতো ক্লাস হয়না। যার কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।


টাঙ্গাইলে হরিজন পল্লীতে বাঁশের সাঁকো
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার জেলখানাসংলগ্ন হরিজন পল্লীতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে শিশুছাত্রী ধর্ষণের দায়ে একজনের
সিরাজগঞ্জে শিশুছাত্রী ধর্ষণ মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লাভলু (৪৮) নামে
বিস্তারিত
পদ্মায় নাব্যতা সংকটে স্প্যান বসানোর
পদ্মায় নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মাসেতুতে
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিয়ে থেকে
বিস্তারিত
ঢাকা কলেজ থেকে টিসি নিলেন
ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড
বিস্তারিত
৭৬ বছরেও নাগরিকত্ব পেলেন না
ঘর-বাড়ি নেই, নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা। এ দেশেই জন্ম  নিলেও
বিস্তারিত