পাখি নিয়ে তার কাজ

ইনাম আল হকের লেখা ও সম্পাদনায় বের হয়েছে পাখিবিষয়ক একাধিক বই। বাংলাদেশে পাখি শুমারির নেতৃত্ব দেন তিনি। 
নিজের তোলা পাখির ছবি দিয়ে নকশা করেছেন একাধিক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম। বাংলাদেশে পাখি মেলার উদ্যোক্তা 
তিনি। পাখির দেশ বাংলাদেশ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজকও তিনি। 
পাখিবিষয়ক বই
পাখিদেরও আছে নাকি মন : পাখিবিদ ইনাম আল হক তেমনই একজন মানুষ, যিনি পাখিদের মনের কথা বুঝতে চেষ্টা করেন। আর তাই তিনি তার বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘পাখিদেরও আছে নাকি মন।’ বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের উদ্যোগে প্রকাশিত এ বইটির প্রকাশক মাজেদা হক। বইটি মূলত ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক। তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন কাদাচর, হাওর অঞ্চলের বিল, বিভিন্ন বনাঞ্চলসহ দেশের এক পান্ত থেকে অন্য প্রান্তর ঘুরে বেড়িয়েছেন পাখি দেখার জন্য। এ পাখি দেখতে গিয়ে কখনও জলদস্যু, কখনও বনদস্যু, কখনও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। আবার কখনও পড়েছেন শিকারিদের মুখে। এরকম নানা অভিজ্ঞতার কথাই তিনি বইটিতে তুলে ধরেছেন বৈঠকি ঢঙের লেখায়।
বইটিতে তিনটি অধ্যায়ে ২০টি লেখা রয়েছে। প্রথম অধ্যায় পাখির প্রাণ, দ্বিতীয় অধ্যায় পাখির মন ও তৃতীয় অধ্যায় পাখির অস্তিত্ব। ১৫৬ পৃষ্ঠার এ বই পুরোটা রঙিন। প্রতিটি লেখার সঙ্গেই রয়েছে সংশ্লিষ্ট পাখি ও বর্ণনার ছবি। শিল্পী আনোয়ার হোসেনের ছবি অবলম্বনে প্রচ্ছদ করা এ বইটির দাম ৪৫০ টাকা।
পাখিদের সুখদুখের কথা : পাখিদের সুখদুখের কথা নামের এ বইয়ে ইনাম আল হক সহজ ভাষায় পাখির কথা বা পাখিদের বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণও করেছেন তিনি। এটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। ৪২টি পাখির বর্ণনা পাওয়া যাবে বইটিতে। প্রতিটি পাখির বর্ণনার সঙ্গে রঙিন একাধিক রঙিন ছবি আছে। পুরুষ পাখি ও স্ত্রী পাখির ছবিও আছে আলাদাভাবে। এ বইয়ের দাম ৪০০ টাকা।
বাংলাদেশের পাখির ফিল্ডগাইড : বাংলাদেশের পাখির তথ্য নিয়ে ইনাম আল হক লিখেছেন বাংলাদেশের পাখির ফিল্ডগাইড। তার সঙ্গে সহকারী লেখক হিসেবে রয়েছেন তারেক অণু। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। এটি বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম পাখির ফিল্ডগাইড। 
বইটিতে বাংলাদেশে সচরাচর দেখা মেলে এমন ৫০৬ প্রজাতির পাখির বাংলা নাম, ইংরেজি নাম ও বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে। রয়েছে প্রতিটি পাখির রঙিন স্কেচ, আলোকচিত্র ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। প্রতিটি পাখির বর্ণনার শেষে তার আবাসের তালিকাও দেওয়া হয়েছে। বইটিতে ব্যবহৃত পাখির ইলাস্ট্রেশনগুলো বিখ্যাত প্রকাশক ‘ক্রিস্টেফার হোমস’ এর অনুমোদনক্রমে পাওয়া।
পাখির স্ত্রী-পুরুষে ও প্রাপ্তবয়স্ক-অপ্রাপ্তবয়স্কে যেসব পার্থক্য থাকে এবং প্রজননকালে ও বিভিন্ন বর্ণ-পর্বে যেসব পরিবর্তন আসে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও গাইডটিতে রয়েছে। পাখির যেসব অঙ্গের আকার কিংবা রঙ দেখে পাখি চেনা যায় তার বর্ণনাও আছে মোটা অক্ষরে লেখা। এছাড়া বইটিতে পাখির বর্ণনায় অপ্রচলিত শব্দের সংখ্যাও ব্যবহার করা হয়েছে খুবই কম।
বইটিতে পাখির বৈজ্ঞানিক ও ইংরেজি নামের জন্য ‘বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল’ প্রকাশিত সর্বাধুনিক তালিকাটি অনুসরণ করা হয়েছে। পাখির বাংলা নামের জন্য ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’ অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পাখির প্রজাতি পরিচয়ে অধুনা কিছু পরিবর্তন হওয়ায় দু-এক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন নাম।
বইটির দাম রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষ (পাখি) : এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষ’ নামের কোষ। এ কোষগুলোর অন্যতম সম্পাদক ইনাম আল হক। এছড়া এ কোষের ২৬তম খ-টি পাখিবিষয়ক। এ খ-েরও অন্যতম সম্পাদক ইনাম আল হক। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন তিনি। সম্পাদকের পাশাপাশি বইটির অন্যতম লেখকও তিনি। বইটিতে বাংলাদেশের পরিযায়ী ও আবাসিক মিলে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখির ছবি, পাখির বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া আছে। সেই সঙ্গে আছে পাখির নানা তথ্য ও বর্ণনা। বইটির দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা।
ফেদারর্ড স্প্যান্ডার্স বার্ডস অব বাংলাদেশ : ইনাম আল হকের লেখা এ বইটি প্রকাশ করেছে ইউপিএল। ইংরেজিতে লেখা এ বইয়ে বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে বাস করা পাখির বিচিত্র সব বর্ণনা পাওয়া যাবে। দাম ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।
বেঙ্গমা-বেঙ্গমীর মতো কত পাখি : বেঙ্গমা-বেঙ্গমীর মতো কত পাখি নামের এ ইনাম আল হক লিখেছেন পাখিবিষয়ক রূপকথা, উপাখ্যান আর লোককথা। বাংলাদেশের পাখি নিয়ে মজার অনেক গল্পও আছে। সেই সঙ্গে এ বইয়ের প্রতিটি পাতায় আছে রঙিন ছবি ও অলংকরণ। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ ও অলংকরণ করেছেন মৌসুমী মল্লিক। বইয়ের আলোকচিত্রগুলো ইনাম আল হকের। ৪৮ পৃষ্ঠার এ বইটির দাম ৪০০ টাকা।

পাখি শুমারি, রিংগিং ও ট্রান্সমিটার স্থাপন 

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে পাখি শুমারি হয়ে আসছে। এর নেতৃত্ব আছেন ইনাম আল হক। প্রতি বছর শীত মৌসুমে তার তত্ত্বাবধানে উপকূলীয় অঞ্চলের কাদাচর, হাওরের বিল ও সুন্দরবনে জলচর পাখি শুমারি করা হয়। অবশ্য বাংলাদেশে জলচর পাখি শুমারির শুরুটা হয় ১৯৮৬ সালের দিকে বন্যপ্রাণি গবেষক ড. এসএমএ রশিদ, আনিসুজ্জামান ও ওহাব আখন্দের হাত ধরে। 
ওয়েটল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল নামের সংগঠন সারাবিশ্বে জলচর পাখি শুমারির সমন্বয় করে। প্রতিটি দেশে এ সংগঠনের একজন জাতীয় সমন্বয়ক থাকেন। বাংলাদেশে এ সমন্বয়ক ইনাম আল হক। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে পাখি শুমারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর ওয়েটল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল ২০০০ সালে তাকে বাংলাদেশের সমন্বয়ক নির্বাচিত করে। 
শুমারির পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে পাখির পায়ে রিং পরানো হচ্ছে। বসানো হয়েছে পাখির পাখায় ট্রান্সমিটার। পাখি গবেষণায় এ উত্তরণটাও ইনাম আল হকের হাত ধরে।
ইনাম আল হক বলেন, ৩০ বছরের শুমারি বিশ্লেষণ করে জেনেছি পাখি কেন হারিয়ে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এর উত্তরণের পথও জেনেছি। জেনেছি পাখি বাঁচিয়ে রাখাটা আমাদের জন্য জরুরি। এ জরুরি কাজটাই আমরা করছি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। তবে পাখি রক্ষায় শুধু পাখি গবেষকরাই নয়, সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাও দরকার। কারণ গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনাতাও পাখি রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার। সে লক্ষেই আমাদের এগিয়ে চলা।

পাখি মেলা ও প্রদর্শনী 
পাখির সঙ্গে দেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতে ইনাম আল হকের উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রথম পাখি মেলার আয়োজন হয়েছিল। এখনও প্রতি বছর হচ্ছে এ মেলা। জাহাঙ্গীরনগরের পাশাপাশি এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন সেরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে এ মেলা। পাখি মেলার পাশাপাশি পাখির দেশ বাংলাদেশ শীর্ষক পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা তিনি। এরই মধ্যে চতুর্থবারের মতো এ প্রদর্শনী হয়ে গেল এ বছরের জানুয়ারিতে। 

ডাকটিকিটে পাখির ছবি
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের পাখির বাসা, বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, বাংলাদেশের পরিযায়ী পাখি, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সুদর্শন পাখিসহ নানা শিরোনামে পাখির ছবি দিয়ে একাধিক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করেছে। এসব ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খামে স্থান পেয়েছে ইনাম আল হকের তোলা পাখির ছবি। ছবির পাশাপাশি এসব ডাক টিকিট ও উদ্বোধনী খামের নকশাও করেছেন তিনি।


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত