ফড়িংপাখির জন্মদিন

কাকুকি দেখল, বাবার হাত-পা আর চোখ, নাক, আম্মুর ঠোঁট, দাদুর 
হাসি, রাগ আর খরগোশের কান ঠিক তার মতো। জুজু আন্টির 
কথা মনে হতেই মনে হলো, সে একটা ফড়িংপাখি
শুভ জন্মদিন ফড়িংপাখি।
আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব না।
কেন?
তুমি এলে না কেন? তাই।
আমার যে কাল ভোরে পরীক্ষা। আর এখনও আমার অনেক পড়া বাকি! না পড়লে লিখব কী? তা ছাড়া আমি কত দূরে থাকি। ওখান থেকে এসে পরীক্ষা দেওয়াটা খুব মুশকিল! কাছে থাকলে নিশ্চয় আসতাম! আমার মামণির জন্মদিনে না যেতে পেরে আমার কি ভালো লাগছে?
সত্যি?
হুম, তিন সত্যি!
ঠিক কথা। কাকুকিরা থাকে মিরপুর দশ নম্বর আর জুজু আন্টিরা থাকে বেইলি রোডে। কাকুকিরা যখনই তাদের বাসায় যায়, রাস্তায় যানজট আর ট্রাফিক সিগন্যালে অস্থির হয়ে ওঠে।
তাই বলে তুমি আসবে না? পড়তে তোমার এত ভালোলাগে?
কাকুকির কথায় হি হি করে হেসে ওঠে জুজু আন্টি।
তোর ভাল্লাগে না?
না। আর আমার তো স্কুলের পড়াও নেই। শুধু যখন ঘুমুতে ইচ্ছে করে তখন পড়ি।
কেন?
কাকুকির কথায় অবাক হয় জুজু আন্টি।
বই পড়লে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে!
কাকুকির কথায় ফের হি হি করে হাসে জুজ আন্টি।
ঠিক কথা ফড়িংপাখি। আমিও মাঝে মাঝে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যাই। কিন্তু আমি তো তোর মতো জানতাম না। তাই মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খেতাম। এখন থেকে আর খাব না। ঘুমোতে ইচ্ছে করলে বই পড়ব। তাতে বইপড়াও হবে আবার ঘুমও আসবে। আর সত্যি বলতে কী, আমারও পড়তে ভালো লাগে না।
সত্যি?
হ্যাঁ, সত্যি।
তবে পড় কেন?
আমার যে কতকিছু অজানা! না পড়লে জানব কী করে! শিখব কী করে! আর না পড়লে সবাই দুষ্টু বলে! আর আমি তো একটা মিষ্টি মেয়ে, তাই না?
হুম। তুমি অনেক ভালো।
এবার তবে ফোন রাখি। তুই সবার সঙ্গে মজা কর, কেমন।
আমি কি তোমার জন্য একটু কেক রেখে দেব? তুমি তো খুব ছোঁচা!
কাকুকির কথা শুনে, হি হি করে হাসেন জুজু আন্টি।
না ফড়িংপাখি। আমি তোর জন্য অনেক মজার একটা কেক, অনেকগুলো চকলেট আর আইসক্রিম নিয়ে আসব। তারপর দুজন মিলে খাব। কেমন!
ঠিক আছে।
এবার রাখছি।
রাখো।
ফোনটা রাখার পর জুজু আন্টির পাঠানো গিফট বক্সটা খোলে কাকুকি। খুলেই অবাক। দশ রকমের চকলেট! চকলেট তার অনেক প্রিয়। মনে মনে বলল, ‘আই লাভ ইউ জুজু আন্টি!’
আরও অনেকগুলো উপহার পেয়েছে কাকুকি।
ছোট কাকু দিয়েছে একটা সুন্দর বারবি ডল।
ছোট ফুপি দিয়েছে একটা নীল রঙের জামা। তাতে ছোট ছোট করে সিনড্রেলার ছবি আঁকা।
বাবা বলেছে চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাবে। আম্মু নিয়ে যাবে শিশুপার্ক আর জাদুঘরে।
বড় ফুপি একটা সুন্দর রঙের বাক্স পাঠিয়েছেন। বাক্সের গায়ে সোনারঙে লেখাÑ ‘আমরা করব জয়’।
‘আমরা করব জয়’ গানটা কাকুকির অনেক প্রিয়। বাবার মোবাইলে আছে। বাবা অফিস থেকে ফিরলে প্রায়ই গানটা শোনে সে। ‘আমরা করর জয়’ শুনলেই নিজেকে কেমন বড় মনে হয়। গানটা শুনতে ভারি ভালো লাগে কাকুকির।
আটটা সাঁইত্রিশ মিনিটে কেক কাটল কাকুকি।
আম্মু তার ডায়রিতে লিখে রেখেছে। আটটা সাঁইত্রিশ মিনিটে জন্মেছে কাকুকি। তাই প্রতি বছর আটটা সাঁইত্রিশ মিনিটে কেক কাটা হয়। কেক কাটা শেষে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করল।
দাদিমা আজ নিজ হাতে বিরিয়ানি রান্না করেছেন। কাকুকির জন্মদিন উপলক্ষে। এটা তার বিশেষ উপহার। কাকুকি খেল পেট ভরে। যখন খেয়ে উঠল তখন তার পেটে আর একটুও জায়গা নেই!
খাওয়া শেষে দাদিমা সোফায় বসলেন। কাকুকির দিকে তাকিয়ে কী মনে হতে বললেন, কাকুকির নাকটা আর চোখটা হয়েছে ঠিক ওর বাবার মতো।
আর কানটা ওর সব সময় খরগোশের মতোই খাড়া থাকে, বলল ছোট কাকু।
ছোটকাকুর দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটে কাকুকি।
ঠোঁটটা কিন্তু একদম ওর আম্মুর মতো হয়েছে, বলল বাবা।
হাত-পাগুলো তোমার মতো লম্বা লম্বা। আর রাগ হয়েছে ঠিক ওর দাদুর মতো।
কথাটা বলে দাদিমার দিকে তাকিয়ে হাসল আম্মু।
ঠিক কথা। বলল দাদিমা। আর হাসিটাও ওর দাদুর মতোই সুন্দর।
কাকুকি মন দিয়ে সব শুনছিল। হঠাৎ তার গাল বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।
হঠাৎ তার অমন কান্না দেখে খুব অবাক হলো সবাই।
আম্মু এগিয়ে গেলেন। বাবা এগিয়ে গেলেন।
কী হয়েছে মামণি? কাঁদছ কেন? কাকুকিকে জড়িয়ে ধরে বসলেন আম্মু।
আমার তবে কী? ঠোঁট ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করল সে।
সবই তো তোমার।
না, কিছুই আমার না।
কীসের কথা বলছ? কী তোমার না, মামণি।
আমি আমার কথাই বলছি। আমার কিছুই তো আমার না! সবই তোমাদের।
আম্মুর মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল।
জুজু আন্টির ফোন। আম্মু হ্যালো বলে কাকুকিকে দিল।
কেক কেটেছ ফড়িংপাখি।
কেটেছি।
খাওয়া-দাওয়া করেছ?
করেছি।
গিফট পছন্দ হয়েছে?
হয়েছে।
মন খারাপ?
খারাপ।
ভীষণ খারাপ?
ভীষণ খারাপ?
কেন?
জান, সবাই বলে আমার চোখ, কান, নাক, হাত, পা, সবই নাকি অন্যদের মতো। কিছুই আমার না।
অন্যায়। খুব অন্যায় করেছে তারা। একটি কথাও ঠিক বলেনি।
ঠিক বলেনি?
না। একদম ঠিক বলেনি।
তবে আমি কার মতো?
তুই ঠিক তোরই মতো। আর কারও মতো না।
সত্যি বলছ?
তিন সত্যি। বরং তাদের কারও নাক, কারও কান, তোর মতো হতে পারে। এই যা। যাই হোক কাল এসে সবাইকে বকে দেব। কেমন? এবার তবে রাখছি। আমাকে আরও একটু পড়তে হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে।
ত্ইু এখন কী করবি?
আমিও বই পড়ব।
কী বই?
জাদুর আঙুল। বইটা পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। আর একদিন আমারও অমন একটা জাদুর আঙুল হবে!
তাই! আঙুল তুলে কাউকে আবার হাঁস বানিয়ে দিস না!
তোমাকেই হাঁস বানিয়ে দেব! রাখছি। বলে ফোনটা রাখল কাকুকি।
ওপাশ থেকে জুজু আন্টি বলল, শুভরাত্রি ফড়িংপাখি।
কাকুকি জাদুর আঙুল বইটি নিয়ে পড়তে শুরু করল। দু-তিন পাতা পড়ার পরই সে ঘুমিয়ে পড়ল।
কাকুকি দেখল, বাবার হাত-পা আর চোখ, নাক, আম্মুর ঠোঁট, দাদুর হাসি, রাগ আর খরগোশের কান ঠিক তার মতো। জুজু আন্টির কথা মনে হতেই মনে হলো, সে একটা ফড়িংপাখি।
কাল উড়তে উড়তে ফড়িংপাখিটা ঠিকই আসবে। পরীক্ষাটা শেষ করেই ছুটবে তার কাছে। সঙ্গে করে নিয়ে আসবে চকলেট, আইসক্রিম আর কেক। আইসক্রিম, চকলেট কাকুকির অনেক প্রিয়। আর জুজু আন্টির প্রিয় কাকুকি।
কাল এসেই বলবেÑ
শুভ জন্মদিন ফড়িংপাখি!


মশা ও লেখক
লেখার টেবিলে বসে আছি দুই ঘণ্টা হয়। ছোট্ট টেবিলবাতি সেই
বিস্তারিত
বনপাখিটার মনটা খারাপ
  বনপাখিটার মনটা খারাপÑ ভাঙবে কীসে তাহার মান? বীথি তিথি ভেবেই
বিস্তারিত
বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত