শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইউনিভার্সিটি

শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। শুরুটা ২০০৩ সালে হলেও অগ্রযাত্রা মূলত ২০১১ থেকে। ইউএস-বাংলা গ্রæপ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গে ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ শব্দটি যেমন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত রয়েছে, তেমনি উন্নত ভৌত কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিশা পেয়েছে এখানকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সে বিষয়েই 
লিখেছেন- মো. রেদোয়ান হোসেন

উন্নত জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবশ্যক। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার হাতিয়ারও তাই। যদিও কালের বিবর্তনে তা কিছুটা পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত। সহজভাবে বলা যায়, ‘সমৃদ্ধ ও উন্নত আগামী’ গড়তে বর্তমানে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়, বরং এর মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় গড়ে ওঠা গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১৪ বছর ধরে এ কাজটিই করে আসছে।


আছে ৮টি প্রোগ্রাম : বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ৮টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে সিএসই, ইইই ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস অনুষদের আওতায় বিবিএ, এমবিএ, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিসের অধীনে ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান এবং ফিল্ম, টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এবং আইন অনুষদের অধীনে রয়েছে আইন প্রোগ্রাম।
সহশিক্ষা কার্যক্রম : গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে গড়ে উঠেছে মোট ১৬টি ক্লাব। বিভাগভিত্তিক ৮টি ক্লাব ছাড়াও রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, বøাড ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ইকো ওয়ারিয়র ক্লাব, রিডিং সোসাইটি, ফটোগ্রাফি ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও কোষাধ্যক্ষ মো. শহীদ উল্লাহ মনে করেন, ‘সহশিক্ষা’ না থাকলে একাডেমিক শিক্ষা অনেকাংশে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ পড়াশোনার বাইরে ইতিবাচক অন্যসব কর্মকাÐেই নেতৃত্বের গুণাবলি ও সৃষ্টিশীলতা বিকশিত হয়। আর এ কারণেই গ্রিন ইউনিভার্সিটির ক্লাবগুলো নানামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে বছরজুড়ে সচল থাকে।
‘ক্যারিয়ার’ গঠনে গ্রিন ইউনিভার্সিটি : বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরি প্রার্থীর তুলনায় দেশে শূন্য পদের সংখ্যা নিতান্তই কম। মূলত এ চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি। ইউএস-বাংলা গ্রæপের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সিজিপিএ (৩.৫০) ও ইংরেজিতে দক্ষ হলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সসহ গ্রæপটির ১০টি প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির গ্র্যাজুয়েটরা। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তার জন্য রয়েছে প্রফেশনাল লাইফ স্কিল ডেভেলপমেন্ট (পিএলএসডি) কোর্স। কোর্সটিতে রয়েছে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ ক্লাসের ব্যবস্থা যার মাধ্যমে গ্রাজুয়েটদের চাকরি পাওয়ার হতাশা দূর করে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এর বাইরেও চাকরিপ্রত্যাশীদের সুবিধা দিতে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডি)। যে সেন্টারের প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে দেশি-বিদেশি কর্মক্ষেত্রে আবেদনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত চাকরি বেছে নিতে পারছেন গ্রিনের শিক্ষার্থীরা।
আইইবি স্বীকৃতি অর্জন : সম্প্রতি নতুন পালক যোগ হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকমÐলী, মানসম্মত ল্যাব, লাইব্রেরি ও শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার স্বীকৃতিস্বরূপ ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেশন পেল গ্রিন ইউনিভার্সিটির ‘কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই)’ ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ। বাংলাদেশে যতগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আইইবি স্বীকৃতির আওতাভুক্ত।
স্কলারশিপে বিদেশে পড়ার সুবিধা : গ্রিন ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্র-শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাডারস্ফিল্ড, চীনের বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল ইউনিভার্সিটি (বিএলসিইউ), উহান টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি ও মালয়েশিয়ার বাইনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে আইইএলটিএস, চাইনিজ এবং জাপানিজ ভাষার ওপর বিশেষ সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে; যেটা সম্পন্ন করে সহজেই এখানকার ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।
অভিজ্ঞ, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকমÐলী : যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমÐলী দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সদা সচেষ্ট গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়। এ ক্ষেত্রে ফার্স্টক্লাসধারী লিখিত, প্রেজেন্টশন ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগদানের পর তাদের (শিক্ষক) শিক্ষাদান দক্ষতা বৃদ্ধিতে সেমিস্টারজুড়ে (চার মাস) প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রিন ইউনিভার্সিটির পাঠদান করা প্রবীণ শিক্ষকরাও তুলনামূলক অধিক যোগ্য ও অভিজ্ঞ। প্রশিক্ষণ জগতের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাবেক এই উপ-উপাচার্য দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এসআইটি গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অধ্যাপক ড. মো. ফৈয়াজ খান আছেন উপ-উপাচার্য হিসেবে। বুয়েটের সাবেক এই শিক্ষক গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে যোগদানের আগে কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। অ্যাকাউন্টিংয়ের অধ্যাপক ড. এমএম খান পাঠদান করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক বেসরকারি আশা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টেক্সটাইলের ওপর দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বুটেক্স’ এর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য (সাবেক) অধ্যাপক ড. নিতাই চন্দ্র সূত্রধরের সরাসরি তত্ত¡াবধানে পরিচালিত হচ্ছে গ্রিনের টেক্সটাইল বিভাগ। এসবের বাইরেও শিক্ষার্থীদের ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি।
প্রস্তুত স্থায়ী ক্যাম্পাস; চলছে ক্লাস : প্রতিষ্ঠানের নামে গ্রিন অথচ স্থায়ী ক্যাম্পাসে সবুজের ছোঁয়া থাকবে না; তা কী হয়? সম্ভবত এ কারণেই রাজধানী থেকে খানিকটা দূরে দৃষ্টিনন্দন ‘সবুজ ক্যাম্পাস’ গড়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি, যা শিক্ষার্থীদের কাছে ইটপাথরের ধূসর পরিবেশ ছাড়িয়ে জেগে ওঠা ‘একটুকরো সবুজ নগরী’ হিসেবেই পরিচিত। পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে নির্মাণাধীন সুপরিসর এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা যেমন রাখা হচ্ছে, তেমনি থাকছে পৃথক একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন এবং হোস্টেল সুবিধা। এছাড়াও ক্যাম্পাসটিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ইন্টারনেট সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, উন্নত ল্যাবরেটরি, বিশাল খেলার মাঠ, ইনডোর গেমস রুম, আইটি সেন্টার, অত্যাধুনিক হল ও কনফারেন্স রুম, মেডিকেল সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, জিমনেশিয়াম এবং যাতায়াতের জন্য গাড়িসহ আধুনিক অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকছে। স্বপ্নের এ ক্যাম্পাসে এরই মধ্যে আংশিকভাবে ক্লাস শুরু হয়েছে। চলছে নিয়মিত অন্যান্য কার্যক্রমও।
রূপ নিচ্ছে প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে : উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের শুধু স্নাতক বা স্নœাতকোত্তর পাস করায় না, পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, কম্পিউটার দক্ষতা, সমস্যা সমাধানকারী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর মতো গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। আমরা চাইÑ এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে এমন সব গুণাবলি থাকুক, যাতে কাউকেই পড়াশোনার পর বেকার থাকতে না হয়। আর এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত