নোয়াখালী-৫ আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী

বিগত নির্বাচনগুলোর ন্যায় এবারও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থাীয় কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে লড়বেন। এ জন্য এলাকাকে ভিআইপি আসন বলা হয়ে থাকে। 

দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ের কারণে জাতীয়ভাবে দৃষ্টি থাকে এ গুরুত্বপূর্ণ আসনের দিকে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন মিলে আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটর  ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৮৫,২৮০ জন এবং নারী ভোটার ১,৭৬,৫১৯ জন। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবু নাছের চৌধুরী নির্বাচিত হন। এর পরে মোট পাঁচ বার বিএনপি’র ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর মোট তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সংসদ ওবায়দুল কাদের।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম জানান, ১৯৭৬-৭৭ সালে ব্যারিস্টার মওদুদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করার পর তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ব্যারিস্টার মওদদু আহমদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ওই সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।  এক বছর পর তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। 

তিনি জানান, এরপর ১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে উপ-রাস্ট্রপতি করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ- বিএনপির আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালে মওদুদ আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে বগুড়ায় খালেদা জিয়া ছেড়ে দেয়া একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। 

ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মদের নিজের আসনে তার করা উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে কোম্পনীগঞ্জ সরকারী মুজিব কলেজ সরকারীকরণ, কবিরহাটকে উপজেলা ও পৌরসভায় উন্নতিকরণ, কবিরহাট সরকারী ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন।

অপর দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি সরকারের যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ১ হাজার ৩৭২ ভোটে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ওবায়দুল কাদের বিনা প্রতিদ্বান্দ্বতায় আবরো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

ওবায়দুল কাদেরের নিজের আসনে তার করা কাজ গুলো হলো নদী ভাঙ্গন রোধে মুছাপুর ক্লোজার, সোনাপুর-জোরারগঞ্জ সড়ক, নোয়াখালী খাল পুনঃ সংস্কার, নির্বাচনী এলাকার  রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন ইত্যাদি। একই সাথে এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল জানান, প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের তুলনা হয় না। তিনি শুধু এ আসনে নয় সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয়। বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় এখন তিনি। উন্নয়নের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে মহিলা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, কেন্দ্র কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থা করেছন। এখানে দলীয় কোন্দল না থাকায় এখানে আবারো ওবায়দুল কাদের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে আশা করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

বসুর হাট পৌরসভার মেয়র মির্জা কাদের বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক উনয়ন্ন হয়েছে। এখানে তার ব্যক্তি ইমেজ ও দলীয় শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামীর নিবার্চনে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করবে ওবায়দুল কাদের। আমাদের দল এখানে সুসংগঠিত।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী জানান, ওবায়দুল কাদের দুবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যাক্তি তার হাত ধরে সারা দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি আবারো বিপুল ভোটে আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করবেন।

অন্য দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার জানান, এ আসনে বিশ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংসদ সদস্য থাকায় এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। পাশাপাশি তার ব্যাক্তিগত ইমেজ ভালো থাকায় বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা তিনি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। 

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

তবে তার একান্ত সহকারী মমিনুর রহমান সুজন জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর থেকে ব্যারিস্টার মওদুদু কমপক্ষে ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকবেন। দলের খুবই শক্ত অবস্থান রয়েছে এখানে। 

আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাহিরে কোম্পনীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতের বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। গত উপজেলা নির্বাচনে মেট্রোহর্স ব্যবস্থপনা পরিচালক ফখরুল ইসলাম চার দলীয় জোট থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এর পর থেকে তিনি এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছেন। এলাকায় মাঝে মাঝে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

সাধারন ভোটার বলছেন, তারা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তিতে থাকতে চান। ক্ষমতায় আসার নামে তারা আর জ্বালাও-পোড়াও চান না। পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব দুরীকরণে শিল্পকলকারখানা স্থাপন ও নিজ এলাকা থেকে উত্তোলিত গ্যাস বাসা বাড়ীতে দেয়ার দাবি করেন অনেকে। এবার দেখে-শুনে প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলেও জানান সাধারণ ভোটাররা।


জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত