আকিকার ফজিলত ও মাসায়েল

আকিকার হুকুম : হজরত আমর ইবনে শোয়াইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যার সন্তান জন্ম নেয় সে যেন এ সন্তানের আকিকা করে। ছেলের জন্য দুটি ছাগল মেয়ের জন্য একটি ছাগল। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, আকিকা করা সুন্নত। সুতরাং যারা সামর্থ্যবান তাদের জন্য ছেলেমেয়ের আকিকা করা উচিত। (সুনানে আবু দাউদ : খ-২, পৃ. ৩৯২)।

হজরত সামুরা ইবনে জুন্দুব (রা.) বলেন, রাসুল এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে। (অর্থাৎ সে ছেলেমেয়ে মা-বাবার জন্য সুপারিশ করবেন) সুতরাং সন্তানের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জন্তু জবাই করবে, তার নাম রাখবে এবং মাথা মু-িয়ে ফেলবে। 
চুল পরিমাণ সদকা করা : হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) হাসান (রা.) এর জন্য একটি ছাগল আকিকা করেন এবং তিনি বলেন, হে ফাতেমা তার মাথার চুল মু-িয়ে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ সদকা করো। অতএব তার চুল ওজন করা হলো, এতে তার চুল এক দিরহাম বা এক দিরহাম থেকে কিছু কম হলো। (বোখারি : খ-২, পৃ. ৬৬; মেশকাত : খ-২, পৃ. ৩৬২)।
আকিকাসংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণা : অনেকে মনে করেন আকিকার গোশত শিশু ও শিশুর মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এদের খাওয়া জায়েজ নেই। বাস্তবে আকিকার গোশত সবাই খেতে পারবে। প্রচলিত নিয়মে আকিকার জন্য রমরমা অনুষ্ঠান করা এবং হাদিয়া পাওয়ার কৌশল অবলম্বন করা সুন্নত পরিপন্থি। (মুকাদ্দামায়ে ইবনুর রুশদ : খ-২, পৃ. ২০)। এভাবে কোনো কোনো স্থানে হাড্ডিকে দাফন করা বা না ভাঙাকে জরুরি মনে করা হয়, আসলে এটা একটি ভিত্তিহীন প্রথা। (ফাতওয়া রহিমিয়া : খ-৬, পৃ. ১৭২)। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী আকিকার জন্য বড় অনুষ্ঠান করা এবং আমন্ত্রিত লোকদের থেকে টাকা, কাপড় এবং আংটি ইত্যাদি গ্রহণ করা এবং না দেওয়ায় অসন্তুষ্টি হওয়া বেদাত। (আবু দাউদ : খ-২, পৃ. ৩৬)। হজরত আবদে মুজানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘শিশুর পক্ষ থেকে আকিকা করবে; কিন্তু শিশুর মাথা আকিকার পশুর রক্ত দ্বারা রঞ্জিত করবে না।’ (ইবনে মাজাহ : খ-২, পৃ. ১৫৮)।
আকিকাসংক্রান্ত জরুরি মাসআলা : সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে চারটি কাজ করা সুন্নত। যথাÑ ১. ইসলামি নাম রাখা, ২. মাথা মু-ানো, ৩. চুলের ওজনে স্বর্ণ বা রৌপ্য দান করা, ৪. আকিকার পশু জবাই করা। আকিকা জন্মের সপ্তম দিনে হলে উত্তম। সপ্তম দিন সম্ভব না হলে ১৪তম দিনে, তা-ও সম্ভব না হলে ২১তম দিনে করা। (ফাতহুল বারি)।
ছেলেমেয়ের মাঝে পার্থক্য : ছেলে হলে দুটি ছাগল আর মেয়ে হলে একটি ছাগল অথবা ভেড়া জবাই করা উত্তম। আর যদি গরু, মহিষ উট হয় তাহলে ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিলেও আদায় হবে। হ্যাঁ যদি কোনো আর্থিক সংকট থাকে তখন ছেলের জন্য এক ছাগল বা এক অংশ দিলেও চলবে। (আবু দাউদ)। 
আকিকার গোশত এবং চামড়ার হুকুম : আকিকার জন্তুর গোশত এবং চামড়ার হুকুম কোরবানির জন্তুর গোশত এবং চামড়ার হুকুমের মতো। অর্থাৎ কোরবানির গোশতের মতো আকিকার গোশত নিজ ঘরের মা-বাবাসহ সব সদস্য ও ধনী-গরিব সবাইকে খাওয়াতে পারবে। চামড়া বা তার মূল্য গরিবদের মাঝে সদকা করে দেবে।  
মৃত্যুর পর আকিকা করা : সন্তান জীবিত অবস্থায় তার আকিকা করা মুস্তাহাব। তবে যদি কেউ মৃত সন্তানের আকিকা করাকে মুস্তাহাব মনে না করে শুধু পরকালে সন্তানের সুপারিশ ও সওয়াবের আশায় আকিকা করেন, তাহলে জায়েজ হবে। 
সাতজনে মিলে আকিকা : যেমন একটি গরুতে সাতজন শরিক হয়ে কোরবানি করতে পারে ঠিক, তেমনি সাতজন শরিক হয়ে আকিকাও করতে পারবে, তদ্রƒপ কেউ কোরবানি, কেউ আকিকাতেও শরিক হতে পারবে। তবে শর্ত হলো কোনো শরিকদার যেন গোশত খাওয়ার নিয়তে শরিক না হন; বরং আকিকা, ওলিমা বা কোরবানি কোনো একটার নিয়তে শরিক হতে হবে। (কিফায়াতুল মুফতি : খ-৮, পৃ. ২৬৩)।
একই পশুতে আকিকা ও কোরবানি : একই গাভিতে আকিকা, কোরবানি, ওলিমার জন্য অংশ নিয়ে পশু জবাই করা জায়েজ হবে, এতে আকিকার কোনো সমস্যা হবে না। 
সাবালক হওয়ার পর খতনা করা : সন্তান বালেগ হওয়ার পরও খতনা করা মুস্তাহাব। কেননা খতনা করা সুন্নত। তবে ডাক্তার কিংবা খলিফাকে তার লজ্জাস্থানের দিকে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেখার অনুমতি আছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেখা জায়েজ হবে না। (আহছানুল ফাতওয়া : খ-৭, পৃ. ৫৩৬)।   
নবজাতক সন্তানের কানে আজান : সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে পাকপবিত্র করে তার ডান কানে আজান ও বাম কানে একামত বলতে হয়। তবে কানে এত বেশি আওয়াজে আজান দেবে না, যাতে সন্তÍান পেরেশান ও আওয়াজ সহ্য করতে কষ্ট হয়। আজান দাঁড়িয়ে আর কেবলামুখী হয়ে দেওয়া সুন্নত। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া : খ-২৬, পৃ. ৪৩৮)।
আল্লাহ তায়ালা সবাইকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, বায়তুল করিম কমপ্লেক্স জামে মসজিদ
হালিশহর, চট্টগ্রাম


অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কোরবানি
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
বিস্তারিত
অস্বচ্ছ লেনদেন এবং কোরবানি প্রসঙ্গ
বাবার হাতে ছেলে তার উপার্জনের টাকা তুলে দেবেÑ এতে আর
বিস্তারিত
জবাইসংক্রান্ত মাসআলা
মহিলার জবাই পুরুষের জবাইয়ের মতো। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল,
বিস্তারিত
পশু কেনায় প্রতারণা থেকে বাঁচার
আসছে ঈদুল আজহা। এলাকায় এলাকায় বসবে পশুর হাট। মানুষ যাবে
বিস্তারিত
ইবরাহিম আদহামের জীবন কথা
ইবরাহিম আদহাম ছিলেন বলখের বাদশাহ। বলখের ভৌগলিক অবস্থান ছিল বৃহত্তর
বিস্তারিত
সুফিকোষ
আবদাল আরবি শব্দ। এটি বদল শব্দমূল থেকে গঠিত। আবদাল শব্দটি
বিস্তারিত