সঠিক পেশা বেছে নিতে...


​পড়ালেখার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন। তবে বাস্তবতার নিরিখে পরিস্থিতির ভিত্তিতে পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো চাকরি পাওয়ার আকাক্সক্ষা স্বাভাবিকভাবেই সব শিক্ষার্থীর মনে জন্ম নেয়। অনেকেই আবার গৎবাঁধা চাকরিজীবন পছন্দ করেন না। তবে যারা চাকরি না করে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাদের চ্যালেঞ্জটা কম নয়। তাছাড়া অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। আবার ভালো বেতনের একটি চাকরিই জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের নিশ্চয়তা নয়। নিজের জন্য সঠিক চাকরি খুঁজে পাওয়াটাও অন্যরকম এক চ্যালেঞ্জ। কোন ধরনের পেশা বেছে নেবেন, কোন ধরনের চাকরি আপনার উপযোগীÑ এমন কিছু কথা নিয়েই আজকের আলোচনা।
রাহুল বিবিএ’র শেষ সেমিস্টারের ছাত্র। সামনে পরীক্ষা। নানা উৎকণ্ঠা, স্বপ্ন, চিন্তাভাবনার মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই রাহুলের একটা নামকরা বহুজাতিক ফার্মে চাকরি হয়ে গেল। যেহেতু সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ, স্বাভাবিকভাবেই সে প্রতিষ্ঠানটির চাকরিতে যোগ দিল। বিবিএ’র রেজাল্ট তখনও হয়নি। শুরুতে খুব উৎসাহের সঙ্গেই চলল অফিসের কাজকর্ম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বেচারার নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। প্রচ- খাটুনিতে তিন মাসের মধ্যেই ওজন কমে অর্ধেক! রোজ রাতে বাড়ি ফেরার সময় তাই রাহুলের প্রতিজ্ঞাÑ কালই রেজিগনেশন লেটার জমা দিয়ে দেব। কিন্তু সকাল হলেই মনে হয় ধুস, আবার নতুন চাকরি খোঁজার কত ঝামেলা। তার চেয়ে যেমন চলছে, তেমনি চলুক। তবে একটা কথা সারাদিনই মনের মধ্যে এলোমেলো ঘুরপাক খায়Ñ ‘ইস! কেন যে সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে পড়লাম না। যে-কোনো বিষয় নিয়ে পড়ে একটা কলেজে যোগ দিলেই তো আর এত কষ্ট করতে হতো না। সমাজে অনেক সম্মানও পাওয়া যেত।’ বাস্তবিক অর্থে কলেজে পড়ানোর কাজটাও তেমন সহজ নয়। আসলে কোনো কাজই সহজ নয়। প্রতিটি কাজেই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন নিজের মেধা, শ্রম আর সময়। আর এর সঙ্গে আরও প্রয়োজন নিজের সন্তুষ্টি। কাজের ওপর নিজে সন্তুষ্ট থাকলে, নিজের কাজ বা পেশাকে ভালোবাসলে কোনো কাজই কাজ মনে হয় না। কাজের ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায় তুষ্টিতে। আর কাজ করে সন্তুষ্ট না হতে পারলে পরিশ্রম কম হলেও তাতে ক্লান্ত হয়ে যায় শরীর-মন। রাহুলের অবস্থাটি ঠিক তা-ই।
রাহুলের মতো এমন দুরবস্থা যাতে সবার না হয়, তাই আমাদের আগে থেকেই একটু সজাগ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ক্যারিয়ার নিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা তো চাট্টিখানি কথা নয়। প্রতিযোগিতা আর দুর্মূল্যের এই বাজারে চাকরি নামের সোনার হরিণের দেখাও তো সহসাই মেলে না। মিললেও হয়তো এমনটির সাক্ষাৎ মেলে, যাকে পছন্দ করা মুশকিল হয়ে যায়। এর জন্যই ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে প্রথম এবং প্রধান যে চিন্তাটি হওয়া উচিত, তা হলো নিজের পছন্দের কাজটি করার চেষ্টা করা। কিন্তু সেই সঙ্গে আদৌ আমার কাজটা করার সক্ষমতা রয়েছে কি না, এটা নিজের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ ধরুন অনেক টাকা উপার্জন করা যায়, এমন কোনো চাকরিতে ঢুকে দেখা গেল, শুধু রাতে ঘুমানোর সময় ছাড়া আপনার প্রায় বাদবাকি সময়টা অফিসেই থাকতে হচ্ছে। তা হলে এত অর্থ উপার্জন করাটাও কিছুদিন পর নিরর্থক লাগতেই পারে। যদি নিজের জন্য সময় না থাকাকে আপনার অস্বাভাবিক না লাগে, তাহলে হয়তো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি নিজেকে সময় না দিতে পেরে অসহ্য বোধ হয়, সেক্ষেত্রে এত টাকা উপার্জন করেও আপনার মানসিক প্রশান্তি মিলবে না। কাজেই নিজের পছন্দের কাজটি খুঁজে বের করা জরুরি।
এর মানে অবশ্য এই নয় যে, পছন্দের এবং ভালোলাগা ক্যারিয়ার বেছে নিতে পারলেই বাকি জীবনটা নির্ঝঞ্ঝাটভাবে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। একটা কথা জেনে ও মেনে রাখাই ভালো, সব চাকরিই একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে একঘেয়ে লাগতে বাধ্য। আবার নিজের ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে চাকরি পছন্দ করলেও সব চাকরির অল্পবিস্তর দোষত্রুটি থেকেই যায়। তাই চাকরি করার সময় মনকে সেভাবেই তৈরি করে নেওয়া জরুরি।
ধরা যাক, কারও স্বপ্নের পেশা সাংবাদিকতা। কিন্তু দেখা গেল, ওই পেশায় যে ধরনের মানসিকতা প্রয়োজন, তা ওই ব্যক্তির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। তাছাড়া সাংবাদিকতা পেশা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। এই ব্যাপারগুলোও পেশা বেছে নেওয়ার আগে মাথায় রাখা জরুরি। সবদিক বিবেচনা করে ভেবেচিন্তে কোনো পেশা গ্রহণ করা উচিত। তাহলে অনেক কাজ করেও ক্লান্তি আসবে না, কাজকে বোঝা মনে হবে না। কাজ ও নিজের পেশা ভালোবাসতে পারলে কাজের মাঝেই আনন্দ খুঁজে পাবেন।
ব্যক্তিত্বের রকমফের অনুযায়ী কিছু ক্যারিয়ার সাজেশন এখানে দেওয়া হলো।
* অর্থ উপার্জন যদি কারও মূল লক্ষ্য হয় এবং সে যদি পরিশ্রমী হয়, তবে তার জন্য প্রাইভেট সেক্টর অত্যন্ত উপযোগী। প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতে পরিশ্রমটা একটু বেশি হলেও টাকাটা পাওয়া যায় বেশিই। ফলে খাটনি বেশি হলেও টাকায় পুষিয়ে যাবে।
* খুব বেশি পরিশ্রম করার ধাত যদি কারও মধ্যে না থাকে, তাহলে তার জন্য ভালো হয় সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করা। শিক্ষাজীবন শেষ করে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণজ্ঞান আর গণিতে একটু চর্চা করলেই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করা যাবে। তবে প্রতিযোগিতার এই বাজারে চাকরির পড়ালেখাতেও একটু মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এই সময়টাতে একটু বেশি পরিশ্রম করতে পারলেই সরকারি চাকরির সব সুবিধা উপভোগ করা যাবে।


* আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীল কিছু করার তাগিদ থাকে, তাহলে ফ্যাশন ডিজাইনিংসহ প্রায় সব ধরনের ডিজাইনিংয়ের দরজা খোলা রয়েছে আপনার জন্য। এছাড়া মিডিয়া হাউজ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানেও আপনি ভালো করতে পারবেন।
* কথাবার্তা বলতে পাকাপোক্ত হলে মিডিয়ায় বা পাবলিক রিলেশন এজেন্সিতে চাকরি করলে উন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে আপনার। এই খাতে মূলত কাজ হবে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের। কাজেই যোগাযোগের দক্ষতা আপনার কর্মজীবনে সাফল্যের পাথেয় হবে।
* সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য যদি আপনি দায়বদ্ধতা অনুভব করে থাকেন, তাহলে কোনো এনজিওতে কাজ করলে মানসিক সন্তুষ্টি পেতে পারেন। আবার অনেকটা সময় ব্যয় করলে এই পেশাতে উন্নতিও করা যায়।
আসলে কাজের বিষয়টি প্রতিটি মানুষের জন্যই আলাদা। একজন মানুষের সঙ্গে অন্য আরেকজন মানুষের যেমন মিলে না, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও হয়তো মিলবে না। তবে সবকিছুতেই সাফল্যের পূর্বশর্ত হচ্ছে নিজের পছন্দের কাজটি খুঁজে বের করা। এই কাজটি যদি করতে পারেন, তাহলে আপনার সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
সবশেষে বলা যায়, পড়ার বিষয় সবার আগে নির্বাচন করে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হতে হবে। এরপর চাকরিতে নিজেকে নিযুক্ত করার আগে নিজের সঙ্গে বারবার বোঝাপড়া করতে হবে। প্রয়োজনে বিজ্ঞজনের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পেশার প্রতি আনুগত্য, কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে কাজের মধ্যে ডুবে থাকতেই আনন্দ পাওয়া যায়।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত