রংপুরে দেশী পশুর প্রতি ঝুঁকছেন ক্রেতারা

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে জমতে শুরু করেছে রংপুর বিভাগের কোরবানির পশুর হাটবাজারগুলো। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা হাটে গরু আনতে শুরু করেছেন। এখনো ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকতে না পারায় দেশি গরুর খামারিরা বেশ সন্তুষ্ট। তবে বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। তারা বলছেন, বর্তমান যে বাজার মূল্যে গরু বিক্রি করলে অনেক লোকসান গুনতে হবে। 

সরকারি পশু চিকিৎকদের সহযোগিতায় এ বছর রংপুরের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ৪ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯টি, গরু, মহিষ, বলদ, ষাঁড় ও গাভি ৮ লাখ ৯২ হাজার ৯০৫টি এবং অন্যান্য ৪৯২টি। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও এবং দিনাজপুর এই ৮ জেলায় ৫৪ হাজার ২১ জন খামারি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টি পশু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছে। এছাড়া ২ লক্ষাধিক গৃহস্থ প্রায় ১০ লাখ পশু বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে প্রায় ৩ লাখ। এবারে রংপুর বিভাগে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১২ লাখ পশু। অথচ কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫ লাখ। ফলে অতিরিক্ত ৩ লাখ পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হবে। 

রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ৬০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই গরুগুলো বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। তাই এখনো গরু বিক্রি করিনি। তবে ভারতীয় গরু বাজারে না ওঠলে দেশী গরুর দাম বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। 

এবার রংপুরের খামারি এনামুল হক তার ৩০০ গরু বাজারে তুলবেন। ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে গো-খাদ্যসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না খামারিরা।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে রংপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। জমে উঠতে শুরুকরেছে কোরবানির পশুর হাট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু অনুযায়ী দরদাম করছেন। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভাগের আট জেলায় ৫৪ হাজার ২১টি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রংপুরে ৮ হাজার ৪৪৯টি, নীলফামারীতে ২ হাজার ২৫০টি, কুড়িগ্রামে ১০ হাজার ৮৮২টি, দিনাজপুরে ১১ হাজার ৫৩২টি, লালমনিরহাটে ৪ হাজার ৬৯৩টি, গাইবান্ধায় ৮ হাজার ৬৮৪টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ হাজার ২৪১টি এবং পঞ্চগড়ে ৩ হাজার ২৯০টি।

সরেজমিনে লালবাগ নিশবেতগজ্ঞ, বুড়িরহাটসহ রংপুরের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, রংপুর বিভাগের কোরবানীর হাটগুলোতে এবার গতবারের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশী গরুর চাহিদা অনেক বেশি। হাটগুলোতে নেই আগের মতো ভারতীয় গরুর চাহিদা। হাটে হাটে ক্রেতারা ছুটছেন ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশী গরু ও ছাগলের দিকেই। দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় এবং দেশীয় খাদ্যে লালন-পালন হওয়ায় ওইসব গরুর প্রতি ঝুঁকছেন ক্রেতারা। 

পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা ভীড় জমাচ্ছেন রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে। তবে দাম না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বিক্রেতাদের। ক্রেতারা আসছেন, পছন্দ করছেন তবে কিনছেন কম। পাইকারী গরুর ব্যবসায়ীরাই মূলত গরু কিনছেন বেশি। 

হাটগুলোতে প্রকারভেদে দেশী গরু ৩৫ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, এখন যে দাম যাচ্ছে তাতে লাভের মুখ দেখছেন না। সব মিলিয়ে পশুর দাম কম বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। 

বাচ্চু মিয়া ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কোরবানীর গরুর দাম কম। ক্রেতারা কম থাকায় গরুর দাম উঠছে না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, মালিক তার পশুটি ঠিকই কম মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন, কিন্তু দালাল ও ব্যবসায়ীরা সেটি কিনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন উচ্চ মূল্য হাঁকিয়ে। 

বুড়িরহাটে গরু কিনতে আসা রংপুর নগরীর ইসলামবাগের বাসিন্দা এস. এম মোহসীন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি। গত দুই হাটে ঘুরেও আমার সামর্থের মধ্যে গরু কিনতে পারিনি। অথচ এর চেয়ে কম দামে গত বছর গরু কিনেছি। 

দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে বুড়িরহাটে গরু কিনতে আসা মাহফুজ বলেন, শুনেছি এই হাটে অন্যান্য বাজারের চেয়ে কম দামে গরু পাওয়া যায় তাই এখানে গরু কিনতে এসেছি। এখানে যে দাম তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। 

বুড়িরহাটের ইজারাদার বাবুল জানান, বুড়িরহাটে দেশি ছোট ও মাঝারি গরু বেশি কেনাবেচা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাটে ভারতীয় গরু ওঠেনি। ঈদের আগের ২ হাটে বেশি দেশী গরু বিক্রি হতে পারে বলে আশা করেছেন তিনি। 

তবে বাজারে গরুর দাম কম থাকার বিষয়টিকে গুজব বলে দাবি করেছেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শেখ আজিজুর রহমান। তিনি জানান, চাষিদের কাছ থেকে কম দামে গরু হাতিয়ে নেয়ার জন্য হাটের দালাল ও ব্যবসায়ীরাই মূলত এসব গুজব ছড়ায়। বস্তুত খামারিরা ঠিকই দাম পাচ্ছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আশার সাথে সাথে গরুর দামও বাড়বে। 

তিনি বলেন, ক্ষতিকারক কোনো ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে যাতে কোনো খামারি গরু মোটাতাজা করতে না পারে সেজন্য মাঠ কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার রংপুর বিভাগে গরুর খামারিরা যে পরিমাণ গরু লালন-পালন করছেন তাতে ঈদে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় দুই লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারবেন খামারিরা।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত