হজ তথ্য কর্নার

হজের সফরে নারীদের জরুরি জ্ঞাতব্য

 

- বাইতুল্লাহর হজ। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে সৌভাগ্যময় উপস্থিতি। মক্কার পাহাড় বেষ্টিত রৌদ্রময় ভূখ-ে তাপপ্রবাহের আকাশতলে হেঁটে হেঁটে এই সফর। ক্লান্তি ও অবসাদে দেহ নেতিয়ে আসে উঁচু-নিচু পথ অতিক্রমের পর। এ সফরে আর্থিক ব্যয় ও কায়িক পরিশ্রম দুটোই হয়। ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান ও একত্ববাদের বিশ্বাসে পুনর্জাগরণের জন্যই এ লাব্বাইক ধ্বনি। জং-ধরা ঈমানি চেতনাকে পরিচ্ছন্ন ও মজবুত করার এক সুবর্ণ সুযোগ এটি। আকাশপথ পাড়ি দিয়ে পরিশ্রমের এ সফরকে কে না চায় পূর্ণতায় পৌঁছাতে! কবুল হজের সুউচ্চ মাকামে নিজেকে কে না নিয়ে যেতে চায়! এটি কম-বেশি সবারই কামনা ও চাওয়া।

- মা-বোনদের একটি আশা থাকে জীবনে একবারের জন্য হলেও আল্লাহর ঘর প্রদর্শন ও প্রদক্ষিণ করা। মাহরামদের নিয়ে আমরা হজের সফরে আসি। নিজের সঙ্গে তাকেও কাবা পানে হাজির করাই। একসঙ্গে জমজমে চুমুক দিই। তাওয়াফ, সাঈ ও নামাজ আদায় করি। সীমিত সময়ের এ সফরে পরস্পরের কিছুটা আমলি প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হই। এসবকে একজন নারী যথেষ্ট গুরুত্ব ও মূল্যায়নের সঙ্গে নেয়। একজন পুরুষ নিজে জেনে কিংবা অন্যকে জিজ্ঞেস করে নিজের মাহরামকে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে খুব যতেœর সঙ্গে হজের আগে ও পরের আমলগুলো সম্পাদন করান। মা-বোন কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে হজের আমলে কিছুটা বিড়ম্বনা বা ধীরগতি অনুভব করলেও একটা অপার্থিব আনন্দ কিন্তু ঠিকই অন্তর ছুঁয়ে যায়। অন্য এক সজীবতা অনুভূত হয় হৃদয়ে। মনে হয় কিছুটা হলেও এ বেচারির সাংসারিক গ্লানি মোচন করতে পেরেছি। এজন্য এ ঘরকর্তার প্রতি নারীরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকে। 

- আফসোসের বিষয় হলো, পর্দার মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা তাদের যতেœর আড়ালে খুব বেশি অবহেলা ও ঢিলেমি করি, যা শরিয়ত ও বাস্তবিকতা দুটোরই পরিপন্থি। কোনোভাবেই তা কাম্য নয়। এটি আল্লাহর কোরআনি বিধান। কোনোভাবেই একে লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। একে তো এটি সর্বদা ফরজ। দ্বিতীয়ত, মহিমান্বিত হজের সফর। হজে এসে চেহারা খোলা রেখে চলা, এমনকি মক্কার এ রাস্তা ও রাস্তা, দোকান ও মার্কেটে দিব্যি ঘোরাফেরা করা আদৌ সংগত নয়।

- বিসর্জনের পথ পেরিয়ে মহাকল্যাণ অর্জনের জন্য এই হজ। আমলের যথাযথ চর্চা এবং ঘরে ফিরে এর যথার্থ অনুশীলন হজের অন্যতম লক্ষ্য। এখানে নিজেকে প্রদর্শন করা নয়; বরং প্রবৃত্তিকে সম্পূর্ণরূপে দমন করার জায়গা এটি। চেহারা খোলা রেখে উন্মুক্তভাবে হারামে, তাওয়াফে, হারামের বাইরে, এমনকি হোটেলে কিছুটা অসংযত ভাব নিয়ে চলাফেরা করা একেবারেই অনুচিত। পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। শরয়ি ওজর ছাড়া তা লঙ্ঘন করা পাপের শামিল। এটাকে অজ্ঞতা বলার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান যুগটি ফ্যাতনাময়। আমরা কেউই দুষ্টের দুষ্টুমি থেকে মুক্ত নই। তাই যেখানে তাওয়াফের সময় ওড়না দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখতে বলা হচ্ছে, সেখানে তাওয়াফের বাইরে আরও কঠোর হতে হবে পর্দার ব্যাপারে। তাই সৌদি আলেমরা এ ব্যাপারে শিথিলতার বক্তব্য দেননি। তাদের বক্তব্য ও প্রদত্ত মাসআলাটি ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত। এমনকি আমলের চর্চা হওয়া চাই। ব্যাপারটি একদম সহজ। শুধু সদিচ্ছাই কাম্য।

- মহিলার চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত। যদি চেহারায় কোনো কিছু দেওয়া ছাড়া তাওয়াফ করে, তাহলে গোনাহগার হবে ঠিকই, তবে তাওয়াফ হয়ে যাবে। কিন্তু মুহরিম হলে শুধু নেকাব ছাড়া ঢেকে রাখবে। (ফতোয়া লাজনাহ দায়েমাহ)।

- নারীর জন্য ইহরামকালীন নেকাব তথা বোরকা পরিধান বৈধ নয়। তবে সামনে যদি অপরিচিত লোক থাকে তবে ওড়না দিয়ে নিজ চেহারা ঢেকে নেবে। যেরূপ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর স্ত্রীরা বিদায় হজের সময় করেছিলেন। তবে কেউ যদি অজ্ঞতাবশত নেকাব দ্বারা চেহারা ঢেকে নেয়; তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা সে অজ্ঞতা ক্ষমাযোগ্য। (ফতোয়া লাজনাহ দায়েমাহ, ফতোয়া নং ১৩২৬৫)।

- নারীদের জন্য হজ বা ওমরার ইহরামে মুখ খোলা রাখাই মূলত নিয়ম। তবে যেহেতু তাকে বেগানা পুরুষের সম্মুখে পড়তে হয়; তাই তাকে বোরকার উপরাংশ বা বর্ধিতাংশের অতিরিক্ত কাপড় মুখের পর নামিয়ে দিতে হবে, যাতে কেউ তাকে না দেখে। আর এটি ইহরাম অবস্থায়। এক্ষেত্রে আয়েশা (রা.) এর বক্তব্য শিরোধার্য। তিনি বলেন, ‘সফরকারী দল আমাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করত। আমরা (স্ত্রীরা) রাসুলের সঙ্গে মুহরিম অবস্থায় ছিলাম। যখন তারা আমাদের কাছে চলে আসত, আমরা প্রত্যেকে তার মাথার (ওড়নার) কাপড় (জিলবাব) উপরিভাগ থেকে নামিয়ে নিচে চেহারায় দিয়ে দিতাম। আবার যখন তারা আমাদের অতিক্রম করে চলে যেত, তখন আমরা আবার চেহারা খুলে দিতাম।’ (আবু দাউদ : ১৮৩৩; ইবনে মাজাহ : ২৯৩৫)।

 


রক্তনেশার আক্রোশে ইদলিব : তারপর
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আভাস জোরেশোরেই দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বযুদ্ধের অবয়ব কী? সিরিয়ায়
বিস্তারিত
ইমাম বোখারির আসনে যুগের বোখারির দরস
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ইমাম বোখারি এ ভূমিতেই বেড়ে উঠেছেন। এখানেই
বিস্তারিত
সৌদির জাতীয় দিবসে মক্কা-মদিনার পরিষদ
সৌদি আরবের ৮৮তম  জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বাণী
বিস্তারিত
প্রাচীন মসজিদে ঘেরা বারোবাজার শহর
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার ইউনিয়ন। পূর্বনাম শহর মোহাম্মদাবাদ। প্রায়
বিস্তারিত
পিতামাতার প্রতি করণীয়
সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বীয় ‘রহমত’ গুণটির ছায়া-প্রভাব
বিস্তারিত
নবীজির পোশাক কেমন ছিল
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর কথাই কি শুধু তাঁর
বিস্তারিত