পশু কেনায় প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়

আসছে ঈদুল আজহা। এলাকায় এলাকায় বসবে পশুর হাট। মানুষ যাবে গরু-ছাগল কিনতে। চারদিকে সাজ সাজ রব। পথে দেখা মেলবে গরুর। ভাই, দাম কত? কত দিয়ে কিনলেন? চাচা, কত পড়ল?

এমনই হবে বাংলাদেশের ঈদুল আজহার আগের দিনগুলোর চিত্র। সবাই চাইবেন ভালো পশু দিয়ে কোরবানি করতে। তবে চাইলেই ভালো পশু কেনা যায় না। থাকতে হয় কিছু পূর্ব অভিজ্ঞতা। কিছু জানাশুনা। কারণ বাজারে যেমন থাকে সৎ বিক্রেতা, তেমনি থাকে কিছু অসৎ লোকও। তারা চাইবে রুগ্ণ পশুটি আপনাকে ধরিয়ে দিতে। তাই এ সংক্রান্ত কিছু টিপস জানা থাকলে সহজেই প্রতারণা এড়ানো যায়। আজকের আলোচনায় পশু কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু দিক তুলে ধরবÑ

১. পশু কেনার মুহূর্তে থাকতে হবে চৌকস। প্রথমে জেনে নিন বয়স। লক্ষ করুন দাঁত। বয়স্ক পশুর মুখভর্তি বড় বড় দাঁত থাকে। এমন পশু না কেনাই ভালো। আবার একেবারে ছোট পশুও কেনা উচিত নয়। এক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত বয়সসীমা অনুযায়ী ক্রয় করতে হবে। গরু-মহিষের সর্বনিম্ন বয়স দুই বছর। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার এক বছর। তবে ছয় মাসের ভেড়া বা দুম্বা কখনও হৃষ্টপুষ্ট হয়। ফলে এক বছর বয়সি মনে হয়। এজাতীয় পশু দিয়েও কোরবানি করা যায়। উটের সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর। কোরবানির জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো মধ্যম বয়সি পশু।

২. পশুর শরীর ভালোভাবে দেখুন। পশুর রানে বা রানের পেছনের অংশে ইনজেকশনের চিহ্ন বা ফুলা আছে কি না। যদি থাকে, তাহলে বুঝে নিন পশুটি রোগাক্রান্ত। এছাড়া পশুর দেহে ফোড়া বা টিউমার জাতীয় কিছু থাকতে পারে। এ ধরনের পশুর গোশতে ক্যান্সারের জার্ম থাকে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। 

পশুর চামড়ায় দৃষ্টি দিন। কোথাও কোনো ক্ষত বা খোসপাঁচড়া আছে কি? থাকলে পশুটি উৎকৃষ্ট নয়। কারণ উন্নতমানের পশুর চামড়া থাকে সতেজ ও নিখুঁত। ফলে সেসবের মাংস হয় বেশি ও সুুস্বাদু।

৩. সুস্থ পশু খাবার খেতে আগ্রহী হয়। তাই উপযুক্ত খাবার দিয়েও সুস্থতা পরীক্ষা করা যায়।

৪. সুস্থ পশু পালে থাকতে পছন্দ করে। তাই পাল থেকে সরিয়ে নিলে সে প্রতিরোধ করে এবং ছেড়ে দেওয়া মাত্রই পালে ফিরে যায়। পশু পালে থাকলে এভাবেও সুস্থতা যাচাই করা যায়।

৫. অনেক ক্ষেত্রে চড়া দামে বিক্রির জন্য বিক্রেতারা নানা কৌশল অবলম্বন করেন। কোনো কোনো বিক্রেতা কয়েক দিন আগ থেকে ঘাস-জাতীয় খাবার খাওয়ানো বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা শুধু পানি পান করিয়ে থাকেন। কেউ কেউ আরেকটু অগ্রসর হয়ে লবণের পানি পান করান। ফলে পশুর দ্রুত পিপাসা পায় এবং প্রচুর পানি পান করে। পামবড়ি খাওয়ানো পশুর মতো এদের পেটও শক্ত থাকে। তাই হাত লাগালেই টের পাওয় যায়। 

৬. পশু পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে পশুর লেজে মল লেগে থাকে।

৭. পশুর শ্বাসপ্রশ্বাসেও সমস্যা থাকে। আবার ফুসফুসের প্রদাহ হয়। তাই শ্বাসপ্রশ্বাস লক্ষ করতে হয়। এসব রোগে আক্রান্ত পশু দ্রুততার সঙ্গে ঘন ঘন শ্বাস নেয়।

৮. পশুর চোখ খেয়াল করুন। লালচে ভাব থাকলে পশুটি রোগাক্রান্ত। চোখের প্রদাহজনিত কারণে এমন হয়। কখনও চোখ হলুদ দেখায়। সুস্থ পশুর চোখ থাকে স্বচ্ছ ও ঝলমলে।

৯. বাজারে দালাল থাকে। তাদের কাজ হলো পশুর দাম বৃদ্ধি করা। আপনি যখন বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম করবেন, তখন সে আপনাকে বোঝাতে চাইবে পশুটি উৎকৃষ্ট মানের। তাই আপনি যে দাম বলেছেন, তা নিতান্তই কম। এক্ষেত্রে অনেক ক্রেতা প্রতারণার শিকার হন। আপনি যদি তার কথায় সন্তুষ্ট না হন, তাহলে সে আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য বিক্রেতার কাছে। দেখাবে অন্য একটি পশু। সে পশুটির দাম কমিয়ে বলবে। আর বোঝাতে চেষ্টা করবে এটি পূর্বেরটির মতো হওয়া সত্ত্বেও দাম কম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে আগের পশুটি উৎকৃষ্ট মানের। আপনার উচিত হবে এসব দালালের খপ্পরে না পড়া।

১০. কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা আমাদের উদ্দেশ্য। তাই কেনার সময় শরিয়তের দৃষ্টিতে পশুটি কোরবানির উপযুক্ত কি না, সেটাও খেয়াল রাখতে হয়। হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। যে পশুর চোখের জ্যোতি ক্ষতিগ্রস্ত, যে পশু অতি অসুস্থ, যে পশু বেশি খোঁড়া ও যে পশু অত্যধিক শীর্ণকায়।’ (তিরমিজি : ১৪৯৭)। অপর এক বর্ণনায় আলী (রা.) বলেন, ‘আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.) আদেশ করেছেন, আমরা যেন (কোরবানির পশুর) চোখ ও কান ভালো করে দেখে নিই এবং কান কাটা বা কান ফাড়া ও কানে লম্বা বা গোলাকার ছিদ্র করা পশু দিয়ে কোরবানি না করি।’ (তিরমিজি)।

লোকদেখানো বা গোশত ভোজন যেন না হয় উৎকৃষ্ট পশু কেনার উদ্দেশ্য; বরং তা কোরবানি করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই যেন হয় আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য।


রহমতের নবী (সা.) ও হিলফুল
‘আমি তো আপনাকে বিশ^জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা
বিস্তারিত
বিশ্বনবী : আঁধারে আলোর পরশ
পৃথিবী। মানব সৃষ্টির আগে যার সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পাঠানোর আগে
বিস্তারিত
সেই ফুলেরই খুশবুতে
ভালোবাসা পবিত্র জিনিস। ফুল পবিত্রতার প্রতীক। ফুল দিয়ে ভালোবাসা বিনিময়
বিস্তারিত
নবীজির ১০টি বিশেষ উপদেশ
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ববাসীর রহমতস্বরূপ। আজীবন মানুষের
বিস্তারিত
সৃষ্টির সেরা আদর্শ
সূর্যের আলো থেকে মানুষ বেঁচে থাকার উপাদান পেলেও মানুষ হওয়ার
বিস্তারিত
ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য
  ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে
বিস্তারিত