জবাইসংক্রান্ত মাসআলা

মহিলার জবাই পুরুষের জবাইয়ের মতো। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল, তেমনি মহিলার জবাইকৃত পশুও হালাল
 

জবাই করার সুন্নত তরিকা
সর্বপ্রথম পশুকে জবাইয়ের আগে পানি পান করিয়ে জবাইয়ের স্থানে সযতেœ নিয়ে যাবেন। কেবলামুখী করে শুইয়ে নিজ হাতে জবাই করবেন। যদি নিজে জবাই করতে না পারেন, তখন কাউকে দিয়ে জবাই করালেও নিজে জবাইয়ের স্থানে উপস্থিত থাকবেন। জবাই করার সময় জবাইকারী ও উপস্থিত সবাই ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দেবেন। তবে জবাইকারীর বাধ্যতামূলক তাকবির বলতে হবে। আর যদি শরিকি কোরবানি হয়, তাহলে শরিকদারদের থেকে অনুমতি নিয়ে জবাই করবেন। জবাই করার সময় ধারালো ছুরি দিয়ে পশুর গলার চারটি রগ কেটে দেবেন। যে-কোনো তিনটি রগ কাটা হলেও জবাই শুদ্ধ হয়ে যাবে। রগগুলো হলোÑ শ্বাসনালি, খাদ্যনালি, দুটি শাহ (মোটা) রগ। (এমদাদুল ফাতওয়া, খ-৩, পৃ. ৪৩৭)।
জবাইকারীকে তার জবাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে হাদিয়া দেওয়া ভালো। তবে জবাইকারীকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির পশুর গোশত ও চামড়া দেওয়া নাজায়েজ।
জবাইয়ের আগে ও পরে মাকরুহ কাজগুলো
কোরআন-হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নিম্নোক্ত কাজগুলো মাকরুহ ও অশোভনীয়।
১. পশুকে জবাই করার আগে পিপাসিত অবস্থায় রাখা। 
২. পশুকে অযতেœ টেনেহিঁচড়ে জবাইয়ের স্থানে নিয়ে আসা। 
৩. পশুকে শোয়ানোর পর জবাই করতে দেরি করা। 
৪. পশুকে শোয়াতে অধিক টানাহেঁচড়া করা। 
৫. জবাইয়ের আগে পশুকে গোসল দেওয়া।
৬. ভোঁতা ছুরি দিয়ে জবাই করা। 
৭. পশুর সামনে ছুরি ধার করা এবং শোয়ানোর পর ছুরি ধার দেওয়া।
৮. পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করা।
৯. জবাইকারীর কেবলামুখী হয়ে না দাঁড়ানো। 
১০. জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে পা ইত্যাদি কাটা শুরু করা। 
১১. জবাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পশুর মাথা পৃথক করে ফেলা। 
১২. বর্তমানে আহলে কিতাব (ইহুদি ও নাসারা) দ্বারা কোরবানির জন্তু জবাই করানো জায়েজ নেই। 
১৩. রাতের বেলায় কোরবানির জন্তু জবাই করা মাকরুহে তানজিহি। 
১৪. তাড়াতাড়ি জন্তুর প্রাণ বের হওয়ার জন্য জবাইয়ের স্থানে খোঁচা দেওয়া জায়েজ নেই। 
১৪. কোরবানির চামড়া জবাইয়ের আগে বিক্রি করা মাকরুহ। (ফতোয়ায়ে শামি, খ-৯, পৃ. ৪২৭-৪২৮)।
জবাই করতে সক্ষম না হলে
পশুর নির্দিষ্ট স্থানে অর্থাৎ গলার মধ্যে সুন্নত তরিকায় জবাই করতে অক্ষম হলে পশুকে ধারালো বস্তু দ্বারা ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে যে-কোনো জায়গায় আঘাত করে রক্ত প্রবাহিত করে দিলে ওই জন্তু জায়েজ ও হালাল হয়ে যাবে। রক্ত প্রবাহিত না করে; বরং গাছ, বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে জন্তুকে আঘাত করার ফলে যদি তা মারা যায়, তাহলে এ জবাই শুদ্ধ হয়নি। সুতরাং ওই ব্যক্তির কোরবানিও সহিহ হয়নি। তাই তিনি যদি ধনী হন, তার জন্য কোরবানির দিনগুলোর মধ্যে অন্য জন্তু জবাই করা ওয়াজিব। আর ধনী না হলে ওয়াজিব নয়। 
উট জবাইয়ের পদ্ধতি
উটকে নহর করা সুন্নত। নহর করার নিয়ম হলো উট দাঁড়ানো অবস্থায় প্রথমে তার সামনের বাম পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে মজবুত করে বেঁধে নেওয়া, তারপর ধারালো ছুুরি দিয়ে উটের সিনার কাছে গলার নিচের অংশে শক্তভাবে একটি আঘাত করে গলার রগগুলো কেটে দেওয়া। তারপর কিছুক্ষণ ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকবে, পরে উটটি বাম দিকে পড়ে যাবে। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জবাইকৃত জন্তুর চামড়া খসিয়ে বাকি কাজ সেরে নিতে হবে। তবে কেউ নহর করতে না জানলে বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে নহর করার স্থলে উট জবাই করলেও কোরবানি হয়ে যাবে। (হেদায়া, খ-৪, পৃ. ৪২৩)।
মহিলার জবাই
মহিলার জবাই পুরুষের জবাইয়ের মতো। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল, তেমনি মহিলার জবাইকৃত পশুও হালাল।
জবাইয়ে সাহায্যকারীর বিসমিল্লাহ পড়া
জবাইয়ে সাহায্যকারীরও জবাইকারীর মতো বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি। (এমদাদুল ফাতওয়া, খ-৩, পৃ. ৫৪৭)।
শরিকি ব্যক্তি জবাই করে টাকা নেওয়া
শরিকি ব্যক্তি জবাই করে টাকা নেওয়া নাজায়েজ। কারণ নিজের জন্তুকে জবাই করা বা করানো নিজের ওপর ওয়াজিব ইবাদত। আর নিজের ইবাদত আদায় করে অন্যের থেকে বিনিময় গ্রহণ করা নাজায়েজ। একই রকম কোরবানিতে কোনো অংশীদার তার কাজের বিনিময় নিতে পারবে না।   
মাজারে নিয়ে জন্তু জবাই করা
কোরবানির জন্তুকে মাজারে নিয়ে বরকত অর্জনের উদ্দেশ্যে জবাই করা জায়েজ হবে না। কেননা এতে তাজিমে গায়রুল্লাহ (জবাইয়ের দ্বারা আল্লাহর ছাড়া অন্যকিছুর প্রতি বড়ত্ব প্রদর্শন) প্রকাশ হচ্ছে, যা নাজায়েজ। আর ওই ধরনের কোনো নিয়ত ছাড়া এমনিতেই মাজারে জবাই করলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (এমদাদুল ফাতওয়া, খ-৩, পৃ. ৫৪৭)।

লেখক : খতিব, বায়তুল করিম কমপ্লেক্স জামে মসজিদ, হালিশহর, চট্টগ্রাম


পরস্পর দয়া প্রদর্শনে উপদেশ দিন
উসামা বিন জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবীজির মেয়ে
বিস্তারিত
যিনি ধনীদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে
আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) এর স্মৃতি জর্দানের রাজধানী আম্মানের উত্তরের
বিস্তারিত
কীভাবে বুঝবেন আল্লাহ আপনার প্রতি
আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ের একান্ত চাওয়া। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন
বিস্তারিত
আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত মাছ
প্রকৃতিজুড়ে এখন চলছে হেমন্তের রাজত্ব। নতুন ধানের নবান্ন উৎসবের পাশাপাশি
বিস্তারিত
রূপে ভরা হেমন্ত
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে হেমন্ত। শিশির বিন্দু
বিস্তারিত
প্রাণীবন্ধু গাসসান রিফায়ি
টানা ৩০ বছর বাইতুল মুকাদ্দাস চত্বরের বিড়াল ও পাখিদের খাবার
বিস্তারিত