মনের পশুত্ব কোরবানি হোক

কোরবানি ইসলামের অন্যতম একটি বিধান। প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নেসাবধারী নারী-পুরুষের ওপর বছরান্তে কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানির নেসাব ও জাকাতের নেসাব সমান। সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা তার সমপরিমাণ অর্থ নিজের কাছে, ব্যাংকে বা অন্য কোথাও জমা থাকলে অথবা ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে জাকাতের নেসাব বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরি। কোরবানির ক্ষেত্রে বছর অতিবাহিত হওয়া জরুরি নয়। বরং ঈদুল আজহার দিনগুলোতে এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব। 

উট, দুম্বা, গরু, বকরি বা ছাগলÑ যে পকানো প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা যায়। গরু ও উটে সর্বোচ্চ সাত নামে কোরবানি করা যায় এবং দুম্বা ও বকরি একটিতে এক নাম। আমাদের দেশে সাধারণত গরু ও বকরি দিয়ে কোরবানি করা হয়। 

পৃথিবীর বুকে প্রথম কোরবানির সূচনা করে হজরত আদম (আ.) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল। সেই থেকে যুগে যুগে আল্লাহর জন্য নিবেদিত বান্দারা কোরবানি করে আসছেন। তবে পদ্ধতি ও বিধানে ভিন্নতা ছিল। আগের যুগে যাদের কোরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হতো আসমান থেকে আগুন এসে তাদের কোরবানিকৃত পশু  জ্বালিয়ে দিত। যাদের কোরবানি কবুল হতো না তাদেরটা পচে-গলে মাটি হয়ে যেত।

আমাদের দেশে কোরবানি করার মানুষের সংখ্যা অনেক। কিন্তু কোরবানির মর্ম বুকে ধারণ করি ক’জন? কোরবানির উদ্দেশ্য কি শুধু পশু জবাই করা? এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেনÑ ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া।’ (সুরা হজ : ৩৭)।

আসলে একজন ঈমানদারের জন্য প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রাখা একান্ত জরুরি। যে কোনো ইবাদতের মধ্যে ইখলাস তথা নিয়ত পরিশুদ্ধ থাকতে হয়। ইখলাসের তারতম্যের কারণে পুণ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ব্যবধান হয়ে যায়। এমনকি নিয়তের গরমিলের কারণে ইবাদত পরিপূর্ণ বাতিল হয়ে যায়। আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস লাইসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, আমলগুলো (শুদ্ধ-অশুদ্ধ হওয়া বা পুণ্যপ্রাপ্ত হওয়া-না হওয়া) নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। (বোখারি : ১)। কাজেই কোরবানি উপলক্ষে আমাদের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা জরুরি। সুনাম, সুখ্যাতি লাভ করা, নির্বাচনের ভোটপ্রাপ্তির আশা করা, অহংকার প্রদর্শন করা বা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা অথবা গোশত খাওয়ার নিয়তে যদি কোরবানি করা হয় তাহলে সেটা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। 

পশু কোরবানি করা মূলত একটি প্রতীকী আমল। আল্লাহ তায়ালা হজরত ইবরাহিম (আ.) কে নিজের আদরের সন্তান কোরবানি করার আদেশ করেন। আল্লাহর আদেশ পেয়ে তিনি শিশু সন্তান ইসমাইলের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। সন্তানও আল্লাহর আদেশের সামনে অবনত মস্তক হলেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেনÑ ‘অতঃপর সে যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইবরাহিম তাকে বললেন, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কী দেখ। সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।’ (সূরা সাফফাত : ১০২)।

মুফাসসিরিনে কেরাম লিখেছেন, হজরত ইসমাইলকে কোরবানি করা আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এটা ছিল মূলত হজরত ইবরাহিমের জন্য একটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা দেখতে চাইলেন আল্লাহর আদেশের সামনে তারা কতটা নিবেদিত। মানুষের মনের ভেতরে একটি পশুত্বের বসবাস। সেই পশুত্বের তাড়নায় মানুষ যাবতীয় অনাচারে লিপ্ত হয়। এই পাশবিকতার কাছে যখন মানুষের মানবিক গুণাবলি পরাজিত হয় তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না। পশুর চেয়ে অধম হয়ে যায়। পশুর চেয়ে হিংস্র হয়ে ওঠে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হলো গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।’ (সূরা আরাফ : ১৭৯)।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের মনের ভেতরের সেই পশুত্বকে কোরবানি করা। পাশবিকতাকে পরাজিত করে মানবিক গুণাবলিতে বলীয়ান হওয়া। পশু জবাই করার মাধ্যমে আমরা যদি মনের পশুত্বকে জবাই করতে পারি তাহলেই আমাদের কোরবানি সার্থক হবে। 


ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য
  ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে
বিস্তারিত
কী হতে পারে সৌদি যুবরাজের
‘মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ মনে করে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন
বিস্তারিত
উগান্ডায় কোরআন শিক্ষা সেন্টার
  উগান্ডায় অবস্থিত কোরআনিক সেন্টার ইমাম সাদিক কমপ্লেক্সে ৩০০ খ- ধর্মীয়
বিস্তারিত
তুরস্কের মসজিদে বেহেশতের আবহ!
তুরস্কের কিরশেহির প্রদেশে হামিদিয়ে কামি মসজিদ নামে একটি মসজিদ তৈরি
বিস্তারিত
ট্রাম্প ও শরণার্থীরা
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আরবি-ইংরেজি গণমাধ্যম অ্যারাব নিউজে সম্প্রতি প্রকাশিত ক্যারিকেচারটি  অঙ্কন
বিস্তারিত
মহান আদর্শের মহানায়ক
  মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ছিলেন সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য এক
বিস্তারিত