তাকবিরে তাশরিকের বিধান

তাকবিরে তাশরিক কি?  

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত সময়কে তাশরিকের দিন বলে। এ সময়ে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ এই তাকবিরটি পড়া ওয়াজিব। এটাকে তাকবিরে তাশরিক বলে। (হেদায়া, ১/২৭৫)।

 

তাকবিরে তাশরিকের পটভূমি 

বোখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি (রহ.) বলেন, ‘যখন হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাইলকে জবেহের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন, এদিকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হজরত জিবরাইল (আ.) আসমান থেকে একটি দুম্বা নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করছিলেন। কিন্তু জিবরাইল (আ.) এর আশঙ্কা ছিলÑ তিনি দুনিয়ায় পৌঁছার আগেই ইবরাহিম (আ.) জবাই পর্ব সমাপ্ত করে বসবেন। ফলে তিনি আসমান থেকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠলেনÑ ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’ ইবরাহিম (আ.) আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে নজর ফিরাতেই দেখতে পেলেন জিবরাইল (আ.) একটি দুম্বা নিয়ে আগমন করছেন। ফলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর।’ পিতার কণ্ঠে এই কালেমা শুনতেই ইসমাইল (আ.) উচ্চারণ করলেন, ‘আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ একজন ফেরেশতা আর দুজন আল্লাহর নবীর এ বাক্যমালা আল্লাহ তায়ালার খুব পছন্দ হয়। তাই কেয়ামত পর্যন্ত এই বাক্যমালাকে আইয়ামে তাশরিকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। (ফাতাওয়া শামি : ২/১৭৮)। 

 

তাকবিরে তাশরিকের ফজিলত 

কোরআন মজিদে এরশাদ হয়েছে, ‘যেন তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সূরা হজ : ২৮)। এখানে নির্দিষ্ট দিনগুলো দ্বারা আইয়ামে তাশরিক উদ্দেশ্যে এবং জিকর দ্বারা তাকবিরে তাশরিক উদ্দেশ্য। (ইবনে কাসির)। ইমাম বোখারি (রহ.) ‘তাশরিকের দিনগুলোতে আমলের গুরত্ব’ শিরোনামে একটি অধ্যায় এনে তাতে একটি হাদিস উল্লেখ করেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.) বলেছেন, ‘এ দিনগুলোতে (তাকবিরে তাশরিক) আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়। তারা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী (সা.) বললেন, জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না। (বোখারি : ৯৬৯)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে বাত্তাল (রহ.) বলেন, হাদিসে ‘আইয়াম’ দ্বারা আইয়ামে তাশরিক আর ‘আমল’ দ্বারা তাকবিরে তাশরিক উদ্দেশ্য। 

 

কিছু মাসায়েল

তাশরিকের দিনগুলোতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চ স্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। আর মহিলারা এমন নিচু স্বরে পড়বে যাতে নিজের কানে শোনে। (ফাতাওয়া শামি : ২/১৭৮)। 

ফরজ জামাতের সঙ্গে পড়া হোক বা একাকি, ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হোক বা কাজা, নামাজি ব্যক্তি মুকিম হোক বা মুসাফির, শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামেরÑ সবার ওপর ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। (দুররে মুখতার : ২/১৮০)। 

ফরজ নামাজের পর তাকবির বলতে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পড়ে নেবে। তবে হ্যাঁ, নামাজের বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে, যেমনÑ কথা বলা, নামাজের স্থান থেকে উঠে পড়া ইত্যাদি হলে তাকবির বলতে হবে না। ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করবে। (ফাতাওয়া শামি : ৬/১৭৯)।

 

ঁ মুফতি হামেদ বিন ফরিদ আহমদ


মনের জমিনের বিষাক্ত চারাগাছ
ফিলিস্তিনে মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন আল্লাহর নবী দুনিয়ার বাদশাহ হজরত
বিস্তারিত
ইসলামে মানবজীবনের দায়িত্ব
দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ ইসলামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। এখানে প্রত্যেকেই তার
বিস্তারিত
মোজেজার তাৎপর্য
  মোজেজা চিরন্তন রীতিবহির্ভূত হতে হবে। অতএব কোনো ব্যক্তি যদি রাতের
বিস্তারিত
ঘোরতর অসুস্থ ব্যক্তির কালেমা পাঠের
  কালেমা অর্থ হলো ঈমান বা বিশ্বাস। যিনি আসমান, জমিন, জিন
বিস্তারিত
নবীপ্রেমের অনুসরণীয় উপমা
চুনতির শাহ হাফেজ আহমদ (রহ.) কখনও স্বাভাবিক মানুষের  মতো কথাবার্তা
বিস্তারিত
নামাজে বসার সুন্নতগুলো
নামাজের অন্যতম আমল বৈঠক বা বসা। দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজে
বিস্তারিত