রোহিঙ্গা শিবিরে ঈদ ও কোরবানি

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা মুসলমান, এ অপরাধে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় মগদের সাঁড়াশি অভিযানে নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে তারা এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আশ্রিত। গেল বছর ঈদুল আজহা যখন আসে, তখন তাদের ওপর চলছিল নিধনযজ্ঞ। তাই ঈদ কখন এলো, কীভাবে এলো, ভেবে দেখার সুযোগ তাদের ছিল না। গেল বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের হাসসুরাতা গ্রামে কাঠের তিনতলা বাড়িতে সপরিবারে আনন্দে ঈদ পালন করেছিলেন জাহানারা বেগম। লাখ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে তিনিও পালিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। গেল ঈদুল ফিতরের আগে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করলেন, ঈদের প্রস্তুতি কেমন নিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘খাওয়া আর থাকা নিয়ে যেখানে চিন্তার শেষ নেই, সেখানে আবার কীসের ঈদ? যেখানে প্রতি মুহূর্ত অভাব তাড়িয়ে বেড়ায়, সেখানে ঈদের প্রস্তুতি কেমনে হবে?’ আলাপ চলাকালে জাহানারার কোলে ছিল একটি শিশু। গায়ে কোনো জামাকাপড় ছিল না। পাঁচ শিশু সন্তান সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে এসে টেকনাফে আশ্রয় নেন এ রোহিঙ্গা নারী। সরকারি হিসাবে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, ৯৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থা জাহানারার মতোই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে আরও ভয়াবহ।

এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি এনজিও এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের সহযোগিতায় এ অগণিত রোহিঙ্গার কিছুটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। তবে তাদের জীবনযাপন এখনও স্বাভাবিক নয়। অধিকাংশই এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ সময়েই বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মুসলমানদের ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় কাছে চলে এসেছে। এ অবস্থায় আমাদের করণীয় কী হতে পারে, তা নিয়ে একটু চিন্তা করা উচিত মনে করি। ঈদুল আজহা যেহেতু শুধুই আনন্দ উদযাপনের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের দ্বীন ও মানবতাবোধের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো বিষয়। তাই এই ঈদ ও কোরবানিকে সামনে রেখে আমাদেরই উদ্বাস্তু ভাইবোনদের দুঃখের সঙ্গী হওয়াও কোরবানির পর্যায়ে পড়ে।

মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনগুলো হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বার্ষিক মেহমানদারির দিন। এজন্য এ দিনগুলোয় রোজা রাখাও নিষেধ। কারণ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই আমাদের মেহমানদারির আয়োজন করেছেন। কিন্তু এই মেহমানদারিতে কেউ উদরপূর্তি করে খাবে, আর কেউ ক্ষুধার্ত থাকবেÑ এটা কী করে হয়? কোরবানির উদ্দেশ্যই তো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা। তাহলে কীভাবে কোরবানি দিলে আমার আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যাবে, এটাও আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। আল্লাহ তায়ালা যদিও আমাদের জন্য কোরবানির গোশত নিজেরা ভক্ষণ করা হালাল করে দিয়েছেন, তারপরও ফকিহ আলেমদের রায় হলো, গোশত তিনভাগে ভাগ করে একভাগ নিজে খাবে, আরেকভাগ আত্মীয়স্বজনকে দেবে এবং আরেকটি অংশ ফকির-অভাবগ্রস্ত লোকদের খয়রাত করবে। উত্তম হলো কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ গোশত দান করা এবং এর কম না করা। (দ্র. ফতাওয়া শামী, খ-৫, পৃ-২০৮)।

বাংলাদেশে এমন সচ্ছল-সম্পদশালী ব্যক্তিও আছেন, যারা একাই আট-দশটা পশু কোরবানি দিতে সক্ষম। যদি একটি গরু বা ছাগল এখান থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ দেন, তাহলে বিদেশি সাহায্য ছাড়াই আমাদের উদ্বাস্তু ভাইবোনদের ঈদ আনন্দে শরিক করা যায়।

আলহামদুলিল্লাহ, এবার সরকারিভাবে শরণার্থীদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তুরস্ক সারাবিশ্বের আড়াই কোটি দরিদ্র মুসলমানের কাছে কোরবানির গোশত বণ্টনের একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর একটি অংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছেও আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বেসরকারিভাবে যারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ করতে চান তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে নানাভাবে সাহায্য করার প্রস্তুতির কথা জানা গেছে। সাহায্য-সহযোগিতা যত প্রচুর পরিমাণে হোক না কেন, নিজের বাসস্থানে কোরবানি ও ঈদ করার সৌভাগ্য থেকে তারা বঞ্চিত। এরপরও বাংলাদেশের জনগণ উদারভাবে রোহিঙ্গা মজলুম ভাইদের দিকে যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, তা ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক, যা বর্তমান বিশ্বসভ্যতায় একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ঈদের দিনে আমাদের কামনা হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাদের পৈতৃক আবাসভূমি আরাকান বা রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।


মনের জমিনের বিষাক্ত চারাগাছ
ফিলিস্তিনে মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন আল্লাহর নবী দুনিয়ার বাদশাহ হজরত
বিস্তারিত
ইসলামে মানবজীবনের দায়িত্ব
দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ ইসলামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। এখানে প্রত্যেকেই তার
বিস্তারিত
মোজেজার তাৎপর্য
  মোজেজা চিরন্তন রীতিবহির্ভূত হতে হবে। অতএব কোনো ব্যক্তি যদি রাতের
বিস্তারিত
ঘোরতর অসুস্থ ব্যক্তির কালেমা পাঠের
  কালেমা অর্থ হলো ঈমান বা বিশ্বাস। যিনি আসমান, জমিন, জিন
বিস্তারিত
নবীপ্রেমের অনুসরণীয় উপমা
চুনতির শাহ হাফেজ আহমদ (রহ.) কখনও স্বাভাবিক মানুষের  মতো কথাবার্তা
বিস্তারিত
নামাজে বসার সুন্নতগুলো
নামাজের অন্যতম আমল বৈঠক বা বসা। দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজে
বিস্তারিত