মুমূর্ষু হাজীদের অ্যাম্বুলেন্সে হজ

পবিত্র হজ পালন করতে এসে অনেক হাজী নানা ধরনের বড়-ছোট রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। মক্কা-মদিনায় এসে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের নিমিত্তে শয্যাশায়ী হন। হজের সুযোগ ভাগ্যে জুটবে কি না যখন সে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তখন এ শুভ সংবাদ তাদের প্রশান্ত করে তোলে। এ ধরনের অসামর্থ্য ও শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের হজ যাতে বাতিল না হয়, সে জন্য মক্কার প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অসুস্থ হাজীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে সৌদি সরকার। শুধু তাই নয়, মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জটিল রোগীদেরও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে এসে হজের কাজ সম্পন্ন করানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সেবা বেশ ক’বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় রূপে চালু আছে। মানবসেবায় নিজেদের একনিষ্ঠ অবদান ধরে রাখতে হাজীদের এ সেবাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশটির সরকার। নিবিড় পরিচর্যা ও ডাক্তারি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীদের শতভাগ সেবা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে অনুবাদক হিসেবে দেশের একজন যোগ্য প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য স্বতন্ত্র লোকবল ও যাবতীয় ব্যবস্থাপনা। এর লক্ষ মূলত হাজীদের সেবা শতভাগ নিশ্চিত করা।

প্রতিটি হাসপাতালের অধীনে রোগীদের ধর্মীয় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীদের হজের আমল সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে  সম্পাদনের ধারা হিসেবে তাদের ইহরাম পরিধান, ইহরামের নিয়ত থেকে শুরু করে যাবতীয় ও প্রয়োজনীয় দোয়া শিখিয়ে দেওয়া হয়। দোয়ার ছোট ছোট বই ও কোরআন শরিফ তাদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পানি ব্যবহারের পরিবর্তে তায়াম্মুম এবং এর নিয়ম পদ্ধতি তাদের হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। অতিমাত্রায় অসুস্থদের কানে তালবিয়ার লাব্বাইক ধ্বনি পৌঁছে দেওয়াসহ নানা সেবা আঞ্জাম দিয়ে থাকে হাসপাতাল থেকে নিযুক্ত সেবাকর্মীরা। আরাফায় প্রত্যেক রোগীর জন্য ডাক্তার, নার্স এবং হাসপাতাল কর্মকর্তাদের একটি সংঘবদ্ধ টিম থাকে। তাদের যথাসময়ে আরাফাহ ও মুজদালিফায় পৌঁছানো এবং সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থানের পর সবাইকে যার যার হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইহরাম থেকে শুরু করে পবিত্র হতে মাথা মু-নসহ পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সেবা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও অজ্ঞাতদের প্রতিনিধি হিসেবে কংকর নিক্ষেপের দায়িত্বও পরোক্ষভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বহন করে। তাছাড়া এ উপলক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তিকৃত রোগীরা হজের আমল থেকে ফিরলে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। সঙ্গে নানা ধরনের উপঢৌকনও দেওয়া হয়।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং হজ মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বন্ধুপ্রতিম সম্পর্কের সমন্বয়ে এ মহতী সেবা সত্যিই একটি জাতির মাঝে মানবসেবার প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। মানবসেবার গুণে ইসলামের একটি জাতি আদর্শ হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপিত হয়।

একজন রোগীও নিজেদের মাঝে এ মানবতার বীজ বপন করে। মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম এ শহরে, পবিত্র এ ভূমিতে মানবতা ও পরোপকারের যে বীজ বুনন করা হয়েছে, তার নমুনা যেন এসব। এ মনুষ্যত্ব ও মানবতা সদা জেগে থাকুক এবং সূর্যালোকের মতো এটি ছড়িয়ে পড়–ক সর্বত্রÑ এমনটিই প্রত্যাশা।


আল্লাহর দেওয়া মানবজাতির বহুমাত্রিক
ইবনে আসাকির (রহ.) আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস
বিস্তারিত
ইউশা ইবনে নুন (আ.) এর
ইউশা ইবনে নুন (আ.) ছিলেন সেই নবী, যার ইব্রাহিম (আ.)
বিস্তারিত
ইসলামি নিদর্শন চালু করে
কামাল আতাতুর্ক তুরস্ক থেকে ইসলামি সব নিদর্শন মুছে ফেলেছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক
বিস্তারিত
নামাজ শুরু করার পর ভেঙে
প্রশ্ন : আমার বাড়ি যশোরে, বাড়িতে সাধারণত রাতেই রওনা দিই।
বিস্তারিত
আল কোরআন ও বিজ্ঞান
সব সংস্কৃতিতে সাহিত্য ও কবিতা মানুষের ভাব প্রকাশ ও সৃজনশীলতার
বিস্তারিত
যৌতুকপ্রথার ভয়াবহতা ও প্রতিকার
আজকাল পত্রপত্রিকা বা ফেইসবুক ঘাঁটলে যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে,
বিস্তারিত