আল্লাহর নৈকট্য লাভে তাহাজ্জুদ

নফল ইবাদত ছড়া আল্লাহর ওলি হওয়া যায় না। আর নফল ইবাদতের মধ্যে উত্তম ইবাদত হলো নামাজ। নফল নামাজের মধ্যে আবার সর্বোত্তম হলো শেষ রাতের নামাজ। অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ। তাহাজ্জুদের নামাজ নেককার ও আল্লাহওয়ালাদের কাজ। কারণ, তাহাজ্জুদ ছাড়া আল্লাহওয়ালা হওয়া সম্ভব নয়। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা রাতের নামাজে (তাহাজ্জুদ) যতœশীল হও, কারণ তা নেককার লোকদের অভ্যাস, তোমাদের রবের নৈকট্য, গোনাহের কাফফারা ও পাপ থেকে সুরক্ষা। (তিরমিজি)।

যারা রাতের বেলা নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে, তারাই আল্লাহর প্রকৃত আশেক বান্দা। রাতের নির্জনতায় আল্লাহর সামনে যারা সিজদায় লুটিয়ে থাকে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, (রহমানের বান্দা তারাই) যারা নিজেদের রবের সামনে সিজদায় অবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়। (সূরা ফোরকান : ৬৪)। আল্লাহ তায়ালা আরও এরশাদ করেন, রাতের বেলা তারা (মুত্তাকিরা) কমই ঘুমায়। (সূরা জারিয়াত : ১৭)।

নিশি জাগরণ আল্লাহকে পাওয়ার প্রধান মাধ্যম। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার মাধ্যম। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রিয় বান্দা হওয়ার পর কি এখানেই শেষ? তাদের কোনো পুরস্কার নেই? অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন। কী সেই পুরস্কার? তিনি এরশাদ করেছেন, তাদের পিঠ থাকে বিছানা থেকে আলাদা, নিজেদের রবকে ডাকে আকাক্সক্ষাসহ এবং যা কিছু রিজিক আমি তাদের দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারপর কেউ জানে না তাদের কাজের পুরস্কার হিসেবে তাদের নয়নপ্রীতিকর কী সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা হয়েছে। (সূরা সিজদাহ : ১৬-১৭)। আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য কত দামি পুরস্কার লুকিয়ে রখেছেন তা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। 

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, আমি সর্বপ্রথম তাকে বলতে শুনেছি, হে লোকেরা! তোমরা সালামের প্রসার করো, খাদ্য দান করো, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখ ও রাতে লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো, তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।

প্রত্যেক মানুষের সর্বোচ্চ চাওয়া হলো জান্নাত। তাহাজ্জুদগুজার মানুষের জন্য সেই জান্নাতের ওয়াদাই করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। একজন মোমিনের এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী থাকতে পারে?


আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত
সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণের কথা মনে
পূর্বসূরি এক বুজুর্গকে বলা হয়েছিল, দৃষ্টি অবনত রাখতে আমি কীসের
বিস্তারিত
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া
কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালা
মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে
বিস্তারিত