প্রেম আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত

দুই অক্ষরের ছোট একটি শব্দ প্রেম। প্রেম শব্দটিই সম্ভবত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুুন্দর ও অনুপম শব্দ। এত মধুর শব্দ, এত মিষ্টি শব্দ, এত আকর্ষণীয় শব্দ দ্বিতীয়টি আর নেই। পৃথিবীর যাবতীয় রূপ, রঙ, রস ও সৌন্দর্য গুণ সব এই শব্দের মধ্যে নিহিত। প্রেমকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীর সবকিছু আবর্তিত। গভীর দৃষ্টিতে দেখলে পৃথিবীর সবকিছুর মধ্যেই এ আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। প্রেমের টানেই নদী ছুটে যায় সাগরের পানে। পাখিরা গান গায়, ফুলেরা সৌরভ বিলায়। প্রজাপতি ওড়ে। জলপ্রপাত বয়ে যায়। কারাগারকে মনে হয় ফুলবাগান। রাজা সিংহাসন ছেড়ে ধূলির তখত বেছে নেন। তাই এই প্রেম নিয়ে পৃথিবীর উষালগ্ন থেকেই মানুষের অবিরাম কৌতূহল আর আগ্রহের অন্ত নেই। মূলত প্রেম জীবনেরই অন্যতম অনুষঙ্গ। প্রেম শব্দটি হৃদয়ের টান, অনুরক্ত হওয়া, অনুরাগ, আসক্তি, বন্ধ্যত্ব, ভক্তি, স্নেহ, টান ইত্যাদি বোঝায়। কোনো কিছুর প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণকে প্রেম বলে। 

প্রকৃতপক্ষে প্রেম জীবনের বিচিত্র মুহূর্তের অনুভূতি বা তাৎক্ষণিক উদ্দীপনার মানসিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 

পৃথিবীতে প্রেম ছাড়া কোনো মানুষ মিলবে না। কারণ মানুষকে প্রেমের নিদর্শন দিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। সে নিদর্শনগুলো হচ্ছে কলব, আকল, নফস এবং বয়ান। এসব নিদর্শন থেকে উদ্গত বিপুল প্রসারী ‘ভাবসম্পদ’ মানুষের অভ্যন্তরে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা তাৎক্ষণিক মানসিক ক্রিয়ায় প্রতিভাত হয়। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা এ রকম ঘটমান মানসিক ক্রিয়াকে বলে থাকেন প্রেম। 

প্রেম আবেগ ও অনুভূতি সঞ্চারক। প্রেম কেন আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি করে তা বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীদের কাছে আজও এক রহস্যময় অধ্যায়। তবে কিছু মনোবিজ্ঞানী মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কয়েক ধরনের হরমোনকে এর জন্য দায়ী করেছেন। হরমোন হলো এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নির্গত হয়ে রক্তে মিশে একাকার হয়ে যায় এবং শারীরিক ও মানসিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। হরমোন শারীরিক পরিবর্তন ঘটায় ও মানসিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং হৃদয়ে আসক্তি জাগিয়ে তোলে। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলকে উত্তেজিত করে। তারপর এমন এক অচিন্তনীয় অনুভূতি সৃষ্টি হয় যার প্রতিক্রিয়ায় হৃদয়-মন উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। এমনি করে অন্তঃকরণ থেকে উৎসারিত আবেগ, আসক্তি, আনন্দ, বেদনা, স্মৃতি, অনুভূতি মনোবৃত্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফল চেহারায় ফুটে ওঠে। তাই মনস্তত্ত্ববিদরা বলেন, মনের মধ্যে আনন্দ-বিষাদের কোনো ঘটনা সংগঠিত হলে চেহারায় তা উদ্ভাসিত হবেই। মনোবিজ্ঞানীরা চেহারা দেখেই বলে দেন, আপনি প্রিয়জনের বিরহে কাতর হয়ে পড়েছেন কিংবা আপনার একজন সঙ্গী প্রয়োজন। আল কোরআন সঙ্গী গ্রহণের যে কল্যাণকর পথ বাতলে দিয়েছে তা হচ্ছে বিবাহবন্ধন। বিয়ে একটা পবিত্র বন্ধন। এই বন্ধনকে কেন্দ্র করেই মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যাবলি চলমান থাকে। মানুষের স্থায়িত্ব ও সভ্যতা-সংস্কৃতি এর ওপরই নির্ভরশীল। তাই নারী-পুরুষ পবিত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর একে অপরের প্রতি প্রেম নিবেদনপূর্বক যে অসীম সুখশান্তি অনুভব করে তা অন্য সব প্রশান্তি থেকে আলাদা। এই প্রেমে তৃপ্তি আছে, সুখ আছে, আছে প্রফুল্লতা। 

মূলত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বামী-স্ত্রীর মনের গহিন বনে যে প্রেম ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন তা এক বিশেষ রহমত এবং মহান আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন। ‘তার অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা পরস্পর প্রশান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য রয়েছে অনেক নিদর্শন।’ (সূরা আররুম : ২১)।

মহান আল্লাহ কোরআনে আরও বলেন, ‘তিনি আল্লাহ, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে এবং তাদের মধ্যে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিশ্চয় আপনার রব পূর্ণ ক্ষমতাবান।’ (সূরা আল ফোরকান : ৫৪)।


শবেবরাত অস্বীকার করা ঠিক নয়
মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত ‘দ্বিতীয় হাসান মসজিদ’ হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বইয়ের নাম : ডাবল স্ট্যান্ডার্ড   লেখক : ডা. শামসুল আরেফীন 
বিস্তারিত
হেযবুত তওহীদের প্রতিবাদ এবং লেখকের বক্তব্য
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ১২ এপ্রিল ২০১৯ সংখ্যার ১০নং ‘ইসলাম ও
বিস্তারিত
হারাম উপার্জন সন্তানের ওপর প্রভাব
ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল
বিস্তারিত
শাবান মাসের ফজিলত
প্রিয় ভাইয়েরা, এ মাসে সেসব আমলের দিকে ধাবিত হোন, যেগুলো
বিস্তারিত
শাবান মাসের ফজিলত
প্রিয় ভাইয়েরা, এ মাসে সেসব আমলের দিকে ধাবিত হোন, যেগুলো
বিস্তারিত