সুফিকোষ

আওতাদ

আওতাদ আরবি শব্দ। আওতাদ শব্দটি বহুবচন, একবচন হলো ওয়াতাদ। যার অভিধানিক অর্থ হলো স্থাপন করা, স্থির করা, সুদৃঢ় করা। বাগ-বাগিচা বৃক্ষপূর্ণ হওয়া, গাছ-গাছালি ফলে-ফুলে পূর্ণ হওয়া, ফল-মূল পরিপক্ব হওয়া, বাগান দীর্ঘস্থায়ী হওয়া। আওতাদ এর আরও অর্থ রয়েছে, যেমন : কীলক, পেরেক, গজাল, খুঁটি ইত্যাদি। এটি লোহা কাঠ বা যে কোনো ধাতু বা পদার্থ দ্বারা নির্মিত হতে পারে, যা দ্বারা লোহা কাঠ ও যে কোনো দুই বস্তুর মাঝে জোড়া, সংযোগ বা স্থিতি স্থাপন করা হয়। ‘আওতাদুল আরদ’ হলো পর্বতমালা; যেহেতু পর্বত পৃথিবীর স্থিতিস্থাপক। ‘আওতাদুল বিলাদ’ হলো নগরপতিগণ। (লিসানুল আরব, ইবনে মানযূর রহ., খ- : ১৫, পৃষ্ঠা : ২০৪-২০৫, অধ্যায় : ওয়াও)। 

আল কোরআনুল কারিমে রয়েছে, ‘আলাম নাজআলিল আরদা মিহাদা, ওয়াল জিবালা আওতাদা।’ অর্থাৎ ‘আমি কি জমিনকে বিস্তৃত প্রশস্ত করিনি? আর পর্বতসমূহকে কীলক স্বরূপ স্থাপন করিনি?’ (সূরা নাবা : ৬-৭)। 

পরিভাষায় ‘আওতাদ’ হলো তরিকত ও তাসাউফের সালিকীনদের সাতাশ বা ঊনত্রিশ স্তরের একটি স্তর এবং মাজমুআয়ে উছমানীতে বর্ণিত ইনছানের ঊনচল্লিশ পর্বের ঊনবিংশ পর্ব; এটি বিলায়াত ও খিলাফাতের বিশেষ ধাপ। এই স্তরের ওলিগণ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল এবং ক্ষমতাবান হয়ে থাকেন। সাধারণত তাসাউফের পরিভাষায় আওতাদ তাদের বলা হয়, আধ্যাত্মিক জগৎ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ভার যাদের ওপর অর্পিত হয়। আওতাদগণ বিলায়াতের জগতে স্থিতি স্থাপন করেন, খিলাফতের স্থিতি রক্ষা করেন, ওলিগণের বিভিন্ন স্তরের মাঝে সমন্বয় সাধন করেন, সর্বোপরি সৃষ্টি ও স্রষ্টা এবং আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করেন ও যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। 

 

 মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত
সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণের কথা মনে
পূর্বসূরি এক বুজুর্গকে বলা হয়েছিল, দৃষ্টি অবনত রাখতে আমি কীসের
বিস্তারিত
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া
কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালা
মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে
বিস্তারিত