দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ‘যুক্তির আলোয় দেখি’

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রানারআপ হয় ইডেন মহিলা কলেজ

শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাই নিঃশঙ্কচিত্তে বিতর্ক মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলবেÑ এটি অনেকের চিন্তায় অসাধ্য এক কাজ। কিন্তু সেই অসাধ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে অনন্য এক যোদ্ধা  হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। যুক্তির লড়াইকে ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপনে বারবার যিনি এনেছেন নতুনত্ব। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে  আয়োজন করেছেন ‘যুক্তির আলোয় দেখি’ নামে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কেউই স্বাভাবিক মানুষের মতো চোখে দেখেন না, হাঁটাচলা করতে পারেন না। কিন্তু তারা সবকিছুই হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন। আর সেই অনুভবের রঙ ছড়িয়ে দিতে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার, প্রাপ্তি- প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথামালা তুলে ধরতেই এ আয়োজন করেছেন। ছায়া সংসদের আদলে এ রিয়েলিটি শোটি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতি শুক্রবার সকালে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজসহ আটটি দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।  সবশেষে ১০ আগস্ট ছিল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব, আর এতে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রানারআপ হয় ইডেন মহিলা কলেজ।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন সবাইকে যেমন অবাক করেছে, আনন্দও দিয়েছে। এর আগে দর্শকরা টেলিভিশনের পর্দায় নানা ধরনের বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখলেও ঠিক এমন আনুষ্ঠান কখনই দেখেননি। যারা চোখে দেখতে পান না, যাদের অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হয় তারা কী চমৎকার মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা ঠিক রেখে বক্তব্য দিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা জীবনে এক নতুন স্পন্দন খুুঁজে পেয়েছেন বললেও ভুল হবে না। এর আগে তাদের এভাবে সমষ্টিগতভাবে কোনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা বলার সুযোগ মেলেনি। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মতো ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এ ব্যতিক্রম আয়োজনের সারথি হলেন তারা। আর তাই ‘আমরা করব জয় একদিনÑএ অনুপ্রেরণা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিতার্কিকদের কণ্ঠে প্রতিধ্বণিত হয়েছে এ অনুষ্ঠানে বারবার। 

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিতার্কিকরা বিতর্ক মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেভাবে যুক্তি উপস্থাপন করছেন, কথা বলেছেন, সেটা আয়োজকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পক, বিতর্কজন-খ্যাত হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ শোনান নেপথ্যের ঘটনা। তিনি বলেন, ‘প্রথমে প্রতিটি বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজ ঘুরে ঘুরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিতার্কিক খুঁজে বের করতে হয়েছে। এরপর তাদের দিনের পর দিন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির প্রশিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রেখে বিতর্কের বিষয় থেকে শুরু করে উচ্চারণ, উপস্থাপন, নান্দনিকতাÑ এসব বিষয়ে গ্রুমিং করতে হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়Ñ অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয়, বৈচিত্র্যময়, আনন্দময় এবং বিতার্কিকদের মাঝে উৎফুল্ল পরিবেশ রাখতে তাদের দলীয়ভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন  ধরনের পছন্দের পোশাক পর্যন্ত তৈরি করে দেওয়া হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে। বনানীস্থ ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির কার্যালয়ে রীতিমতো আবাসিক ক্যাম্প করা হয়। থাকা খাওয়া, আসা-যাওয়া সব ব্যয়ভারই বহন করছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আর এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশের প্রথমসারির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। 

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিতার্কিকদের টেলিভিশনে কথা বলার মতো সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে বেগ পেতে হয়েছে অনেক। যেহেতু তারা চোখের আলো বঞ্চিত তাই তাদের ব্রেইল লিখন পদ্ধতিতে বিতর্কের স্ক্রিপ্ট  করে দিতে হয়েছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির শ্রুতিলেখকরা তাদের স্ক্রিপ্ট লেখায় সহযোগিতা করছে। কোথাও কোনো উচ্চারণে বা বলার ভঙ্গিতে কিংবা আবেগের উঠানামা কম হলে প্রশিক্ষকরা তা শুধরে দিচ্ছে। কাউকে কাউকে স্মার্টফোনে বক্তব্য রেকর্ড করেও দেওয়া হয়। এরকম অনেক ছোট বড় বিষয়ে এ বিতার্কিকদের বক্তব্য প্রদানে উপযোগী করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে আমাদের ছেলেমেয়েরা।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজিত এ বিশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠানটি এখন সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত। এ প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনী বিতর্কের দিনে অতিথি হয়ে এসেছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি এবং এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। এছাড়াও বিভিন্ন পর্বে অতিথি হয়ে আসেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবীর, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান এবং বিশিষ্ট সমাজহিতৈষী, চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল প্রমুখ । 

আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম হলেও এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আমরা করতে চেয়েছি হৃদয় থেকে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যে কনসেপ্ট-কেউ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকবে না আমরা এরই প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছি। এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বলতে চেয়েছিÑ সমাজ ও রাষ্ট্র এখনও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। এজন্য প্রয়োজন, আপনার, আমার সবার একটু সহমর্মিতা আর সচেতনতা যাতে তারা তাদের ন্যায্য অধিকারের জায়গায় দাঁড়িয়ে বলতে পারেÑ এ রাষ্ট্র আমার, আমিও এ রাষ্ট্রের একজন গর্বিত নাগরিক। 


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত