ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জাকাত

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ হলো ব্যাংক। আমাদের সবারই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ঘটনার প্রস্তুতিকল্পে কিছু টাকা-পয়সা জমানোর প্রয়োজন পড়ে। আর এ টাকা-পয়সা সংরক্ষণ ও হেফাজতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো ব্যাংক। এ দেশের কমবেশি সবারই যে কোনো ব্যাংকে কোনো না কোনো অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব ব্যাংকে টাকা-পয়সা রাখার শরয়ি বিধান কী সেদিক নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। এখানে বরং আলোচনা করব, সেসব ব্যাংকে জমাকৃত টাকার ওপর জাকাতের বিধান কীÑ তা নিয়ে। কারণ, আমাদের অনেকেই এ বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। 

ব্যাংকে ব্যক্তিমালিকানাধীন যত ধরনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সবগুলো অ্যাকাউন্টই জাকাতযোগ্য। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তথা অ্যাকাউন্টের মালিক নেসাবের মালিক হলেই তাকে অ্যাকাউন্টে জমানো টাকাগুলোর জাকাত দিতে হবে। চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, দীর্ঘমেয়াদি ও ডিপিএস হিসাবসহ সব ধরনের অ্যাকাউন্টই এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ব্যাংক হিসেবের স্টেটমেন্ট তথা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার পর থেকে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যাংকের যাবতীয় লেনদেনের বিবরণ দেখে জাকাত প্রদান করা যেতে পারে। জাকাতদাতার হিসাব বর্ষের শেষে স্টেটমেন্টে যত টাকা বিবরণ পাওয়া যাবে তত টাকার জাকাত সে প্রদান করে দেবে। এসব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ব্যাংক অনেক সময় ট্যাক্স কিংবা সার্ভিসচার্জ (সেবামূল্য) কেটে রাখে। এই কর্তনকৃত টাকা জাকাতের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। এমনিভাবে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের জমাকৃত টাকা ছাড়া ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত কোনো সুদ যদি তার সঙ্গে যোগ হয় তবে তাতেও কোনো জাকাত আসবে না। তবে এক্ষেত্রে করণীয় হলোÑ এই সুদের মাল হস্তগত হলে পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে। কারণ, এটা হলো হারাম মাল। আর সব হারাম মালের হুকুম এমনিই। 

বর্তমানে ব্যাংকের লেনদেনে আরেকটি বিষয় প্রচলিত আছে। সেটা হলো, সিকিউরিটি হিসেবে ব্যাংক গ্যারান্টি মানি প্রদান ও গ্রহণ। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, এই গ্যারান্টি সূত্রে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারেরই মালিকানাধীন থাকে এবং সে এখান থেকে সুদ ও লাভও পেয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সে গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ টাকা উত্তোলন করতে পারে না। এ কারণে অনেকেই এ টাকার ওপর জাকাত আসবে কি না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। এ ক্ষেত্রে বক্তব্য হলো, এ টাকার ওপরও জাকাত আসবে। যতদিন এই টাকার ওপর অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মালিকানা থাকবে ততদিন অন্যান্য টাকার মতো এ টাকায়ও জাকাত আসবে। তবে অতিরিক্ত সুদের ওপর জাকাত আসবে না, যেমনটি আমরা প্রথমেই বললাম। ব্যাংকের আলোচনা শুরু হলে আরেকটি প্রচলিত বিষয়ের আলোচনাও চলে আসে। সেটা হলো, ব্যাংক লোন। সাধারণ বিধান অনুযায়ী জাকাতযোগ্য কোনো লোন বা কর্জ থাকলে তা জাকাতের হিসাবের মধ্যে গণ্য হয় না। তবে ব্যাংকের লোনের বিধান ভিন্ন। কারণ, এই লোন সাধারণত বড় বড় ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই গ্রহণ করে থাকেন। আর ব্যাংকও সাধারণত এমন ধনী ব্যক্তিদেরই এই লোন প্রদানের জন্য নির্বাচন করে থাকে। পরিভাষায় এ লোনকে বলে ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়নমূলক লোন। এ ধরনের লোন জাকাতের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হবে না। বরং জাকাতের হিসাবের মধ্যে গণ্য করে সেগুলোরও জাকাত প্রদান করতে হবে। 


ইসলামে মাতৃভাষা
ভাষা একটি বাংলা শব্দ। আরবিতে এর প্রতিশব্দ লিসান, ইংরেজিতে ল্যাংগুয়েজ।
বিস্তারিত
পরিবেশের হুমকি : উত্তরণের উপায়
আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যাতে ভূমি সজীব ও উর্বর
বিস্তারিত
অহংকারের পরিণাম ধ্বংস
হজরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে
বিস্তারিত
লাইসেন্স করা পিস্তল ব্যবহার
প্রশ্ন : আমার মামা একজন বড় ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা দেশের
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : মুসলিম মহীয়সী মূল : মাওলানা ইসহাক মুলতানি অনুবাদ : মাওলানা
বিস্তারিত
‘হালাল সনদ প্রদানের জন্য ইসলামিক
২০০৭ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস
বিস্তারিত