পোশাকে ছবি ও চিত্রাঙ্কন

যারা প্রাণীর ছবিকে ঘরের 
শোভা মনে করেন অথবা প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেনÑ সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রতি কতটুকু সন্তুষ্ট, উপরের আলোচনায় তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই আসুন চিত্রাঙ্কন, অশালীন পোশাক এবং প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিহার করে সমাজকে শুদ্ধ করি। প্রয়োজনে ঘরের শোভা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রকৃতির ছবি ও আল্লাহ তায়ালার বাণীবিশিষ্ট ওয়ালমেট ঘরে সাজিয়ে রাখতে পারি। তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও আমাদের মন পুলকিত হবে
 

স্রষ্টা মানবজাতিকে দেহবিশিষ্ট প্রাণীরূপে সৃষ্টি করেছেন, আর এই দেহের সম্ভ্রম ও আব্রু রক্ষার দায়িত্ব তাকেই দিয়েছেন। এজন্যই আমরা আত্মসম্ভ্রম রক্ষার্থে পোশাক পরিধান করি। একইভাবে পোশাক দ্বারা আমরা শরীরের সৌন্দর্যবর্ধন করতে সক্ষম হই, যা অন্য কিছু দ্বারা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। কিন্তু দেখা যায়, বর্তমান ফ্যাশনের নামে বিভিন্ন শপিংমলে যেসব পোশাক আসছে তার বেশিরভাগই মানুষকে অর্ধ-উলঙ্গ করে রাখে। অথচ পোশাক পরিধানের অর্থ ও উদ্দেশ্য হচ্ছে শরীরকে আবৃত রাখা। যাতে পোশাকের মাধ্যমে শরীরের বিকশিত কাঠামোগুলোকে লোকচক্ষুর সম্মুখে প্রকাশ না পায়। 

পোশাকে চিত্রাঙ্কনের বিধান 
সাহাবায়ে কেরাম, চার মাজহাবের ইমাম ও আলেমদের ঐকমত্যে কোনো প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি প্রস্তুত করা হারাম। এ ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য আলেমদের বক্তব্য ফুটে উঠেছে ইমাম নববির লেখায়Ñ তিনি বলেন, আমাদের শাফি মাজহাব ও অন্য মাজহাবের আলেমরা বলে থাকেন, কোনো প্রাণীর প্রতিকৃতি প্রস্তুত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি কবিরা গোনাহ। কেননা এ ব্যাপারে হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই ছবি দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করা হোক বা অপমান, উভয় অবস্থায় তা হারাম। কেননা এর ফলে আল্লাহর সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন হয়ে যায়। কাজেই কাপড়, বিছানা, মুদ্রা, বাসন-মগ, দরজা বা অন্য যে-কোনো কিছুতেই প্রাণীর ছবি আঁকা হারাম। প্রাণীর ছবি ছাড়া অন্যান্য ছবি নিষিদ্ধ নয়। যেমনÑ গাছপালা, উটের গদি (অশ্ব-জিন) ইত্যাদির ছবি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়। (শরহে নববি : ১৪/৮১)।

ছবিযুক্ত পোশাকের বিধান
ইসলামি শরিয়ত মতে, কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু, যেমনÑ বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল বাহরুর রায়েক : ২/২৯; মেরকাতুল মাফাতিহ : ৪৪৮৯)। লক্ষণীয় যে, অনেকে মনে করেন, ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা শুধু নামাজের ক্ষেত্রে হারাম। ফলে তারা নামাজের সময় ছাড়া অন্যসময় এ ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। আসল ব্যাপার হলো, সর্বাবস্থায় প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে নামাজে এমন পোশাক পরিধান করা গর্হিত অপরাধ। ‘খোলাসা’ নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছেÑ কোনো ছবিযুক্ত কাপড় পরে নামাজ আদায় করা হোক বা না হোক, উভয় অবস্থায় তা মাকরুহে তাহরিমি বা হারামের কাছাকাছি মাকরুহ। (আল-বাহরুক রায়েক : ২/২৯)।
এ থেকে বোঝা যায়, কোনো প্রাণীর ছবি ঘরে সংরক্ষণ করা বা দেওয়ালে ফ্রেমবন্দি করে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। কারণ ছবিতে ধারণকৃত প্রিয়জনের প্রিয় মুখের দিকে মানুষ ফিরে ফিরে তাকায়। পির-ফকির ও অতীব শ্রদ্ধাভাজন কারও ছবি আবেগপ্রবণ মানুষকে মস্তক অবনত করতে অনুপ্রাণিত করে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘ওই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে কোনো ছবি, কুকুর বা এমন ব্যক্তি থাকে, যার ওপর গোছল ফরজ হয়েছে।’ (আবু দাউদ : ৪১৫২)।
তরুণ প্রজন্মের সেলফি আসক্তি এখন হাল জমানার ফ্যাশন। তরুণরা যেভাবে পছন্দের তারকাদের বা বিশিষ্টজনদের ছবি-সংবলিত পোশাক পরিধান করে দেখলে মনে হয় যেন, নিজের দেহটাকে বিলবোর্ড বানিয়ে তাদের ছবি প্রচার করছে। এর দ্বারা কি সে তাদের মতো হতে পারবে বা তাদের মনোনীত কেউ? তাহলে নিজে একজন মানুষ হয়ে অন্য মানবের ছবিবিশিষ্ট পোশাক পরিধানের কোনো অর্থ হতে পারে কি?
অধুনা সেলফি ফ্যাশন রীতিমতো আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। কুমিরের সঙ্গে সেলফি, চলন্ত ট্রেনে সেলফি অতঃপর মৃত্যু ইত্যাদি ঘটনা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গবেষকরা তরুণ প্রজন্মের এই সেলফি আসক্তিকে মানসিক রোগ বলছেন। মানসিকতা বিকৃত হতে হতে এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, লাশের পাশে একখানা সেলফি তোলা মানুষ ‘অন্যতম কর্তব্য’ হিসেবে জ্ঞান করতে শুরু করেছে। উল্লিখিত দৃশ্যপট সামনে রাখলে ছবি সম্পর্কে শরিয়তের বিধান উপলব্ধি করা সহজ হবে। আল্লাহর আইনের যৌক্তিকতা চর্মচোখে ধরা দেবে। সমাজ উন্নয়ন ও মূল্যবোধের ক্ষয়রোধ করা ইসলামি আইনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তাই ইসলাম ধর্ম মতেÑ অতীব প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা, ছবি সংরক্ষণ করা নিষিদ্ধ। 

ছবি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ছবি অঙ্কনকারী বা নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য হাদিসে আজাবের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছেÑ ‘কেয়ামতের দিন সেসব লোককে সবচেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়া হবে, যারা (প্রাণীর ছবি বানিয়ে) সৃষ্টিকর্মের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন করে।’ (বোখারি : ৫৯৫৪)। যতই বাহারি রং ব্যবহার করে ছবি নির্মাণ করা হোক না কেন, এ ছবিতে প্রাণসঞ্চার করার ক্ষমতা কারও নেই। তাই কেয়ামতের দিন ছবি নির্মাতাদের বলা হবে, তোমরা যা সৃষ্টি করেছ, তাতে প্রাণ দাও। (বোখারি : ৫৯৫১)।
আজকাল ঘরে ঘরে ছবি টানানোর প্রথা শুরু হয়েছে। কী মুসলিম, কী অমুসলিম, ধনী, দরিদ্রÑ সবার ঘরে ছবি। পার্থক্য কেবল ফ্রেমে! অথচ আমাদের নবী (সা.) এর জীবনাদর্শ সম্পূর্ণ এর ব্যতিক্রম। হাদিসে এসেছেÑ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) এক সফর থেকে ফিরে আসেন। (এসে তিনি দেখতে পান) আমি দেওয়ালে ছবিযুক্ত একটি পর্দা টানিয়েছি। তিনি আমাকে তা সরিয়ে নিতে বলেন। অতঃপর আমি তা সরিয়ে ফেলি।’ (বোখারি : ৫৯৫৫)।
যারা প্রাণীর ছবিকে ঘরের শোভা মনে করেন অথবা প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেনÑ সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রতি কতটুকু সন্তুষ্ট, ওপরের আলোচনায় তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই আসুন চিত্রাঙ্কন, অশালীন পোশাক এবং প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিহার করে সমাজকে শুদ্ধ করি। প্রয়োজনে ঘরের শোভা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রকৃতির ছবি ও আল্লাহ তায়ালার বাণীবিশিষ্ট ওয়ালমেট ঘরে সাজিয়ে রাখতে পারি। তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও আমাদের মন পুলকিত হবে।


আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত মাছ
প্রকৃতিজুড়ে এখন চলছে হেমন্তের রাজত্ব। নতুন ধানের নবান্ন উৎসবের পাশাপাশি
বিস্তারিত
রূপে ভরা হেমন্ত
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে হেমন্ত। শিশির বিন্দু
বিস্তারিত
প্রাণীবন্ধু গাসসান রিফায়ি
টানা ৩০ বছর বাইতুল মুকাদ্দাস চত্বরের বিড়াল ও পাখিদের খাবার
বিস্তারিত
পাপী থেকে ওলি
হে নবী! আমি ওই পাপী যুবককেই ওলি হিসেবে কবুল করে
বিস্তারিত
আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই মুসলিম নারীর ইতিহাস
ওমর ইলহান ১৪ বছর বয়সে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সে দেশে
বিস্তারিত
একটি জানাজার সাক্ষ্য
‘তাহরিকে তালেবানের’ মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান আমার বিরুদ্ধে কুফরের ফতোয়া ঘোষণা
বিস্তারিত