যুদ্ধবিরতির চক্রে গাজা

সময় যতই যাচ্ছে, গাজার বিরুদ্ধে দখলদার ইসরাইলের রাজনীতি ততই স্পষ্ট হচ্ছে। তারা মূলত গাজাবাসীকে কোনোভাবে বেঁচে থাকতে দিতে চায়, আর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পোড়মাটি নীতি অবলম্বন করতে চায়।
কিন্তু অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় থেকে দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া এ লড়াকু জাতিকে নিরাপত্তার অজুহাতে তারা নির্মূল করতে পারেনি। যদিও অর্থনৈতিকভাবে নাকাল করতে তারা পেরেছে। দখলদারের দেওয়া অবরোধের সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে গাজা ভূখ-ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; গাজা ভূখ-ের মাথাপিছু আয় কমে গিয়ে এক হাজার ডলারে পৌঁছেছে, দৈনিক মাত্র তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ, সুপেয় পানির অভাব, ওদিকে আবার সমুদ্রের পানি দূষিত এবং বিশ্বে ক্রমবর্ধমান জন্মহারে এগিয়ে থাকা গাজার ৩০ বছরের নিচে যুবকদের বেকারত্বের হার পঞ্চাশ ভাগের বেশি।
আবার গাজাবাসীর পৈত্রিক ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার পদযাত্রা এবং গাজা থেকে ওড়ানো বেলুনের কারণে আগের  যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিকতর রক্ষণশীল ইসরাইলি সমাজে যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ইসরাইলকে তার বর্তমান নীতি থেকে সরে এসে হয় গাজায় সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে নতুবা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গাজা থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
গাজা নিয়ে ইসরাইল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নীতি অবলম্বন করেছে; গাজাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখা, নিজেরাই ইস্যু তৈরি করে গাজায় হামলা করা আর হামাসের জবাবি হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। আবার কখনও হামাসের ওপর হামলা করে গাজায় তার কিছু সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট রাখা, যাতে হামাসের দুর্বলতা প্রকাশ করা যায় এবং পশ্চিমতীরকে এ শিক্ষা দেওয়া যে, ইসরাইলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার পরিণাম কী হতে পারে।
গাজার দুরবস্থা ও ইসরাইলি সমাজের চাপে নেতানিয়াহু যা নিয়ে চিন্তা করছে তা হলোÑ গাজায় সর্বাত্মক হামলার মাধ্যমে হামাসকে নির্মূল করে গাজাকে ফাতাহের হাতে তুলে দিয়ে পশ্চিমতীরে যেভাবে নিরাপত্তা সমন্বয় করা হয়েছে, সেভাবে এখানেও তা বলবৎ করা, গাজার সব ক্রসিং পয়েন্ট খুলে সেখানে অবাধ অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ সৃষ্টি করা ও নিজেকে আঞ্চলিক শক্তিধর হিসেবে প্রকাশ করা।
কিন্তু ইসরাইলের সাম্প্রতিক যুদ্ধের ইতিহাস সুখকর নয়, কারণ গাজায় পরিচালিত তাদের সর্বশেষ যুদ্ধগুলোতে তাদের সেনা কমান্ডার ও সদস্যরা নাকানিচুবানি খেয়েছে। তা তাদের ইতিহাসে আছে বলে মনে হয় না। তাই তারা জটিল সামরিক অভিযানে যাবে কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
যদি গাজাকে আবারও দখল করার ইসরাইলি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়, তবে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য জবাদিহির মুখোমুখি হতে হবে, আবার গাজার অর্থনীতি ও নিরাপত্তা দেখভালের জন্য তাকে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, যা ইসরাইলের বর্তমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ ইসরাইল কখনও ফিলিস্তিনিদের জন্য তার অর্থ খরচ করবে না মর্মে তাদের নীতি রয়েছে। আর যদি গাজাকে বর্তমান অবস্থায় রাখা হয়, এতে ইসরাইলের বিপদ বাড়বে ছাড়া কমবে না।
আবার উসকানি দিয়ে গাজার ভেতরে চরমপন্থি দলগুলোকে হামাসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা হবে আরো ভয়াবহ। কারণ তাদের কোনো কিছু হারানোর নেই, তাই তারা উপর্যুপরি হামলা করবে, জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় তারা স্বেচ্ছাচারের শিকার হবে, কারণ জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, যা পরিণামে ইসরাইলের জন্য বেশ ভয়াবহ হবে। কারণ, মানুষ তাদের অর্থনৈতিক কাজের প্রয়োজনে কাঁটাতারের দিকে ধেয়ে যাবে, ইসরাইলমুখী হবেÑ যা ইসরাইলের জন্য বহন করা কঠিন হবে।
গাজা নিয়ে ইসরাইল দ্বিতীয় যে পথ অবলম্বন করতে পারে তা হলো, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি। কারণ, সম্প্রতি বাড়ি ফিরে যাওয়ার পদযাত্রায় ইসরাইলি সমাজে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ইসরাইল গাজা থেকে অবরোধ হ্রাস করে জিবনযাত্রার মান উন্নয়নে সচেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও তা বাস্তবায়নে সহযোগিতাও করবে। এ ক্ষেত্রে গাজার রাজনীতি থেকে অর্থনীতিকে আলাদা করে দেখতে হবে। এতে গাজা থেকে সামরিক হুমকি হ্রাস পাবে, ইসরাইলের সুনাম বৃদ্ধি পাবে, হামাসের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ছিন্ন করতে সহায়ক হতে পারে। অবশ্য ইসরাইল এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে তার আশঙ্কার কথা গোপন রাখেনি, কারণ এতে হামাস তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে, নিজেকে মজবুত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে।
তবে যা মনে হচ্ছে, ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির দিকেই যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ইসরাইল হয়তো অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকা-ের প্রচার-প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় ফাতাহকে গাজায় জায়গা করে দেওয়া আর এভাবে ইসরাইল আন্তর্জাতিক পরিম-লে তার নিন্দা কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্পদায় অবশ্যই ইসরাইলের কাছে নিশ্চয়তা নেবে, যাতে আগামীতে কোনো আগ্রাসনের মাধ্যমে এ অবকাঠামো নষ্ট করে না ফেলে। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য হ্রাস করার কারণে মনে হচ্ছে, গাজার শাসক হামাসকে ইসরাইল ও আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি মানতে চাপ সৃষ্টি করা। তবে সময়ই বলে দিবে কী আছে এই নির্যাতিত জনপদের ভাগ্যে।

সূত্র : আলজাজিরা


আশুরা ও কারবালার চেতনা
আশুরার দিন তিনি সেনাপতির মতো শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যূহ রচনা করেন।
বিস্তারিত
মেঘ নেমেছে কাশবনে
মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে
বিস্তারিত
মোবাইলে বিয়ের সঠিক পদ্ধতি!
পাত্র বা পাত্রী তার আপনজন বা পরিচিত যে কাউকে চিঠি,
বিস্তারিত
কাছের টিকিটে দূরে ভ্রমণ
প্রশ্ন : অনেক সময় বাসের লোকজন সীমাতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে।
বিস্তারিত
তুরস্কে শিশুদের জামাতে ফজর আদায়ে
মসজিদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য তুরস্কের কাওনিয়া রাজ্যের
বিস্তারিত
আফগানিস্তানে কি আবার ফিরছে তালেবান
আফগানিস্তানে একসময় হতাহতের ঘটনা সংবাদের শিরোনামে উঠে এলেও এখন সেগুলো
বিস্তারিত