তুরস্ক এগিয়ে যাচ্ছে

অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন, ১৫ জুলাই ২০১৬ তারিখে সন্ত্রাসী সংগঠন গুলেন মুভমেন্ট (FETÖ) দেশটির বৈধ সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উৎখাত করার যে চেষ্টা করেছিল, তার পর থেকে তুর্কি রাষ্ট্র এবং তার অর্থনীতি ক্রমেই সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়বে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে তুরস্ক আগের থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং সেই অপচেষ্টার ২ বছর পর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একজন মার্কিন ধর্মযাজকের গ্রেপ্তার নিয়ে সৃষ্ট সংকট এবং মুদ্রা বাজারের ওঠানামা তুরস্কের অগ্রযাত্রার সংকল্পকে কিছুতেই প্রভাবিত করবে না।
২৪ জুনের নির্বাচনে ৫ কোটিরও বেশি তুর্কি ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এরদোগানের জন্য পরবর্তী ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার আরেকটি আদেশ জারি করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল নতুন রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থাকেও নিশ্চিত করেছে। এতে আমলাতন্ত্র হ্রাস পাবে এবং সরকারের দক্ষতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোগান চলমান এবং নতুন প্রকল্পের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কোষাগার ও অর্থমন্ত্রী বারাত আলবায়ক মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এবং তুরস্কের অর্থনীতির জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ২৯ অক্টোবর ইস্তানবুলের নতুন বৃহৎ বিমানবন্দরটি খোলা হবে। তুরস্কে পর্যটকদের সংখ্যা এ বছর প্রায় ৪ কোটি আশা করা হচ্ছে। প্রধান সরকারি প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব কিছুতে তুর্কি রাষ্ট্র সংস্থা এবং অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতাই দৃশ্যমান হয়।
এতসব অবদানের পরও মার্কিন ডলারের বিপরীতে তুর্কি লিরার মূল্য কমে যাওয়া একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুরস্ক পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই সমস্যা শুধু একটি সমস্যাই নয়। বরং একটি মুদ্রা যুদ্ধের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
তুরস্কে বসবাসরত একজন মার্কিন ধর্মযাজককে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রথমে গ্রেফতার এবং পরে গৃহবন্দি রাখার অভিযোগে ২ তুর্কি মন্ত্রীর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত তুর্কি-মার্কিন সম্পর্ককে নিম্নস্তরে নিয়ে গেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জন্য তুর্কি প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন পক্ষ। তুরস্কের শুভ সংকল্প ও ফলাফলমুখী উদ্যোগ মতাদর্শিক আচরণভঙ্গি ও ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ‘আমার পথই চূড়ান্ত পথ’ নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
তুরস্ক তার ন্যাটো মিত্রের কাছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়ে বিবেচনা করার দাবি করতে পারে। এটা তুরস্কের অধিকার।  তুরস্ক অভিযোগ করেছিল যে, পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি)-এর সিরিয়া শাখা, ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি (পিওয়াইডি), পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) এবং বর্তমানে গুলেন মুভমেন্ট ((FETÖ)-এর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজস রয়েছে। কিন্ত ওবামা বা ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্কের এ-অভিযোগ আমলে নেয়নি এবং কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন নীতিমালা এবং অবস্থানের যথার্থতা যাচাই করার জন্য আমেরিকার গৃহীত ব্যবস্থা একটি প্রহসন মাত্র। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর মাধ্যমে তুরস্ককে হারানোর ঝুঁকি নিচ্ছে। তুরস্কের বৈধ নিরাপত্তা দাবি উপেক্ষা করে সমগ্র তুর্কি জনসাধারণকে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে নিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তুরস্কের বিরুদ্ধে হুমকি, নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র আগ্রাসন শুধু আঙ্কারার সংকল্প বৃদ্ধিতে সফল হবে। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। ট্রাম্প এরই মধ্যে কানাডা, মেক্সিকো, কিউবা, চীন, রাশিয়া, ন্যাটো, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ কারণে অর্থনৈতিক লড়াই শুরু করে দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বস্ত অংশীদার এবং সহযোগী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ধারণা তুরস্কের ব্যাপারেও আলাদা কিছু নয়।
তুরস্ক তার মুদ্রা এবং আর্থিক বাজারের বিরুদ্ধে হুমকি, চাপ, নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক অপারেশনের ক্ষেত্রে ছাড় দেবে না। তুরস্ক নিজস্ব নিরাপত্তার চাহিদাগুলো অন্যদের চাহিদার ওপর প্রধান্য দেবে না। তুরস্ক সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সহযোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশটি সহযোগী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দূর করতে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। সুতরাং তুরস্ক তার মিত্রদের কাছে প্রতিরক্ষার ব্যাপারে বিনিময় দাবি করতে পারে। দাবি করলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অথচ এখনও তার মিত্ররা তুরস্কের পিকেকে এবং পেটোয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কিছুই করেনি অথবা করলেও তা খুবই সামান্য। 
তুরস্ক তার বৈদেশিক নীতির দৃষ্টিভঙ্গির যে বিস্তার ঘটিয়েছে তাতে দেশটি তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পরিত্যাগ করবে না। সমতা, সাধারণ স্বার্থ এবং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় অব্যাহত রাখবে।  তার শক্তির উৎস এবং আর্থিক বিকল্পগুলোর বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টাও তুরস্ক অব্যাহত রাখবে। তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং ২১ শতকের কূটনৈতিক বাস্তবতার কারণে এটিই শুধু তুরস্কের জন্য স্বাভাবিক বিষয়।
সামরিক অভ্যুত্থান, সন্ত্রাসী হামলা এবং আর্থিক অপারেশনে দেখা গেছে, তুরস্ক শুধু তার সমাধান প্রয়াস এবং স্থিতিস্থাপকতাকে জোরদার করেছে। কোনো হুমকি বা আক্রমণে এর কোনো পরিবর্তন করেনি।

তুরস্কের ডেইলি সাবাহ পত্রিকা থেকে অনুবাদ 
করেছেন মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব


পরস্পর দয়া প্রদর্শনে উপদেশ দিন
উসামা বিন জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবীজির মেয়ে
বিস্তারিত
যিনি ধনীদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে
আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) এর স্মৃতি জর্দানের রাজধানী আম্মানের উত্তরের
বিস্তারিত
কীভাবে বুঝবেন আল্লাহ আপনার প্রতি
আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ের একান্ত চাওয়া। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন
বিস্তারিত
আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত মাছ
প্রকৃতিজুড়ে এখন চলছে হেমন্তের রাজত্ব। নতুন ধানের নবান্ন উৎসবের পাশাপাশি
বিস্তারিত
রূপে ভরা হেমন্ত
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে হেমন্ত। শিশির বিন্দু
বিস্তারিত
প্রাণীবন্ধু গাসসান রিফায়ি
টানা ৩০ বছর বাইতুল মুকাদ্দাস চত্বরের বিড়াল ও পাখিদের খাবার
বিস্তারিত