হাওরপাড়ে মসজিদ দর্শন

চারদিকে পানির অবাধ বিস্তার। এর মাঝেই কোথাও মাথা জাগিয়ে রেখেছে এক চিলতে সবুজ ভূমি। কয়েকটি বাড়ি নিয়ে দ্বীপের মতো মাথা তুলে জেগে রয়েছে একেকটি বসতি। প্রায় প্রতিটি বাড়ির লাগোয়া ঘাটে নৌকা। নৌকাই এসব গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন। গ্রামগুলোর গা ঘেঁষে পানিতে গা ভাসিয়ে বেড়াচ্ছে হাঁসের পাল। ছোট বাঁশের কঞ্চি হাতে হাঁসের রাখাল চেষ্টা করছে হাঁসগুলোকে নিরাপদে খোঁয়াড়ে নিয়ে তুলতে। কোনো কোনো জায়গায় পানিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দূরন্ত কিশোরের দল। অনেক বাড়ির মেয়ে-ঝিদের দেখা যায় পানিতেই থালাবাসন ধুয়ে নিতে।
এমনই দৃশ্যের দেখা মিলে কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত এলাকায়। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ, দর্শনীয় স্থান এবং সূর্যাস্ত দেখতে আমরা একঝাঁক তরুণ গিয়েছিলাম সেই হাওরে। দিনটি ছিল ১৭ আগস্ট, শুক্রবার। ফজরের নামাজের পর কিশোরগঞ্জ সদর থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। চামড়া বন্দর এসে রিজার্ভ নৌকা নিয়ে ছুটে চললাম ইটনার পথে। পানি থইথই। নৌকা চলছে হেলেদুলে। আমরা দেখছি হাওরের আপরূপ সৌন্দর্য। মহান প্রভুর অপার সৃষ্টি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।’ (সূরা আনকাবুত : ২০)।
ভ্রমণের ঘণ্টা তিনেক পর আমরা পৌঁছলাম ইটনার ছিলনী গ্রামে। ছিলনী গ্রামের পাশে বালুর চরে। চর থেকে চারপাশের গ্রামগুলোকে দ্বীপের মতো দেখাচ্ছিল। কিছুক্ষণ চরে অবস্থানের পর জুমার নামাজ আদায় করতে আমাদের যাত্রাবিরতি দেওয়া হলো। নৌকা থামানো হলো ছিলনী মসজিদ ঘাটে। গোসল, অজু ও নামাজ আদায়ের পর নৌকা নিয়ে ইটনা সদরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু। যেখানে ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাড়ি, শাহী মসজিদ অবস্থিত।
তপ্ত দুপুর। রোদের ঝিলিক। কাঠফাটা রোদ। আমরা সবাই ক্লান্ত। একটু ছায়া খুঁজি। নৌকা চলছে হেলেদুলে। মাঝে-মধ্যেই মৃদু বাতাস লাগছে গায়ে। হাওরের পানিতে। ছোট ছোট ঢেউ খেলা করেছে। যাচ্ছি ইটনার গায়েবি মসজিদ পরিদর্শনে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমরা পৌঁছলাম ইটনা থানা শহরে। নৌকা থেকে নামলাম। হেঁটে শাহী মসজিদের দিকে রওনা হলাম। মিনিট পাঁচেক পর দৃষ্টিতে ধরা পড়ল সেই মসজিদ। পাশের গ্রামেই আমার বাড়ি। এই সুবাদে আমি আরও বহুবার এই মসজিদ দেখেছি। সালাত আদায় করেছি। অন্যরকম প্রশান্তি পেয়েছি। আজ বন্ধুদের নিয়ে মসজিদ দর্শনে এলাম।
হাওরের দর্শনীয় স্থানগুলোর এটিও একটি। নাম শাহী মসজিদ (গায়েবি মসজিদ)। বাংলার প্রাণ পুরুষ ঈসা খাঁর মজলিশদের মধ্যে অন্যতম মজলিশ দেলোয়ার কর্তৃক এই বিখ্যাত মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।
স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। এটি ইটনা সদরের বড়হাটিতে অবস্থিত। ষোড়শ শতকের শেষ দিকে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আমরা একঝাঁক তরুণ এই মসজিদের ছায়ায় কিছু সময় দাঁড়িয়ে, কিছু সময় বসেÑ কেটে গেল এক মুহূর্ত। ভালোলাগার আরেকটি স্মৃতি হলো হৃদয়ে।
অতঃপর কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হলো আমাদের। ইটনা সদর থেকে সরাসরি চামড়া বন্দরের পথে। আসরের নামাজের সময় হলে নৌকার ছাদে দাঁড়িয়ে যায় প্রভু প্রেমের মজনুরা। হেলেদুলে চলা নৌকায় ভয়ে ভয়ে নামাজ আদায়। সবার নামাজ শেষ হলো। মাঝ হাওরে সূর্য ডোবার সময় হলো। ধীরে ধীরে হাওরের জলে অস্ত গেল সূর্যিমামা। তবে গোধূলিলগ্ন তখনও শেষ না হওয়ায় পশ্চিম আকাশে রয়ে গেল তার কিছুটা আভা। অন্যান্য নৌকার ছইতেও কাউকে কাউকে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে বোঝা গেল সময় হয়েছে মাগরিবের নামাজের।
ধীরে ধীরে সূর্যের রক্তিম আভার জায়গায় স্থান করে নিলো চাঁদের ম্লান জ্যোৎস্না। সন্ধ্যায় চাঁদের মায়াবী আলো-আঁধারি ছায়ায় হাওর যেন আরও অপরূপ। চাঁদের ম্লান আলো খুব হালকাভাবে হলেও প্রতিফলিত হচ্ছে হাওরের ছোট ছোট ঢেউয়ে। ঢেউয়ের গায়ের সেই প্রতিফলন ঝিকমিক করে উঠছে।
হাওরের জলে চাঁদ-সূর্যের এই অপরূপ খেলা দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছলাম চামড়া বন্দরে। বন্ধুরা ফিরে গেল যার যার বাড়ি। এভাবেই হয়ে গেল আমাদের সফরের সমাপ্তি।


আশুরা ও কারবালার চেতনা
আশুরার দিন তিনি সেনাপতির মতো শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যূহ রচনা করেন।
বিস্তারিত
মেঘ নেমেছে কাশবনে
মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে
বিস্তারিত
মোবাইলে বিয়ের সঠিক পদ্ধতি!
পাত্র বা পাত্রী তার আপনজন বা পরিচিত যে কাউকে চিঠি,
বিস্তারিত
কাছের টিকিটে দূরে ভ্রমণ
প্রশ্ন : অনেক সময় বাসের লোকজন সীমাতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে।
বিস্তারিত
তুরস্কে শিশুদের জামাতে ফজর আদায়ে
মসজিদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য তুরস্কের কাওনিয়া রাজ্যের
বিস্তারিত
আফগানিস্তানে কি আবার ফিরছে তালেবান
আফগানিস্তানে একসময় হতাহতের ঘটনা সংবাদের শিরোনামে উঠে এলেও এখন সেগুলো
বিস্তারিত