রোহিঙ্গা সংকট

জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। সোমবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের জন্য দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়। জবাবে মিয়ানমারে মুখপাত্র জাও তায়ে বলেন, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নন এবং সেটা গ্রহণও করছেন না।

গতবছরের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। এখনও তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মিয়ানমার সেনারা যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপকভাবে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়েছিল, তা প্রমাণিত। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু বুধবার (২৯ আগস্ট) জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।


মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে বলেন, ‘আমরা এফএফএম (জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন) প্রতিনিধিদের মিয়ানমারে ঢুকতে দিইনি। তাই মানবাধিকার পরিষদের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবকে আমরা মেনে নিতে পারি না।’

জ হতের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে দেশটির ‘গ্লোবাল নিউজ লাইট অব মিয়ানমার’ নামের এক সরকারি পত্রিকা।

জ হতে আরও জানান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার দেশের বিরুদ্ধে যে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে তার জবাব দিতে মিয়ানমার তাদের নিজস্ব একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।

এ সময় তিনি মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের ফেসবুক পেইজ সরিয়ে ফেলারও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই জাতীয় তৎপরতা মিয়ানমার সরকারের ‘জাতি পুর্নগঠনের’ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এদিকে মঙ্গলবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হেইলি-ও।


তিনি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, রোহিঙ্গারা সরাসরি সহিংসতার শিকার হয়েছে; তাদের বাড়িতে , তাদের পরিবারে এবং দুই জায়গাতেই। তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিবেদনে একটি গোষ্ঠিকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা অধিকাংশ অপরাধ করেছে, আর তারা হচ্ছে বর্মার (মিয়ানমার) সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী।

তবে তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতনের সমালোচনা করলেও ‘গণহত্যা’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। কেননা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, তারা এখনও এই উপসংহারে পৌঁছুতে পারেনি যে, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা হয়েছে।

জাতিসংঘ গত এক বছর ধরে (২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুলাই) মাঠপর্যায়ে কাজ করে এমন ৮৭৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এটি তৈরিতে তারা ভিডিও ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছে।


ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘ। তাদের অভিযোগ, শান্তিতে নোবেল জেতা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওই নেত্রী রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে সেনাবাহিনীকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ প্রতিবেদনে অং সান সুচিরও সমালোচনা করা হয়েছে

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


আসামে মদপানে ৫০ জনের মৃত্যু
ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসামে মদপানের পৃথক ঘটনায়
বিস্তারিত
ভেনিজুয়েলার সামরিক শক্তি প্রয়োগে হোয়াইট
ভেনিজুয়েলার সামরিক শক্তি প্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলা সীমান্তে
বিস্তারিত
হাইতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জাতিসংঘ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটিতে সহিংস
বিস্তারিত
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সাথে আছেন
কাশ্মীরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় সেনাদের হত্যার জের ধরে ভারত-পাকিস্তানের
বিস্তারিত
দিল্লি গেলেন সৌদি যুবরাজ
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একদিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ভারতের
বিস্তারিত
ঘনীভূত হচ্ছে সাইক্লোন ওমা, অস্ট্রেলীয়
সাইক্লোন ওমা ঘনীভূত হয়ে তিন মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি
বিস্তারিত