রংপুরের পোলট্রি শিল্প

দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির সক্ষমতা রাখে খামারিরা

রংপুর ধাপ এলাকায় এক মুরগির খামার

রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের বেশি। বর্তমান বাজারে যে পরিমাণ ডিম, মুরগি, বাচ্চা ও ফিডের প্রয়োজন তার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জোগান হচ্ছে এখান থেকে। এ শিল্পে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪০০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ হয়েছে। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে মুরগির খামার রয়েছে ৬ হাজার ১৩৯টি। এর মধ্যে লেয়ার ২ হাজার ৩৭৯টি এবং ব্রয়লার ৩ হাজার ৭৬০টি। একটি মাঝারি মানের মুরগির খামার করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। রক্ষণাবেক্ষণ করতে কমপক্ষে ১৫ জন জনবল কাজ করে। সে হিসাবে এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার ওপর। কর্মসংস্থান হয়েছে এক লাখ মানুষের।

রংপুর  বিভাগে মোট মুরগির সংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি এবং হাঁসের সংখ্যা ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪২টি। আমিষের চাহিদা পূরণ ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন মানুষের বছরে ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বিভাগে ডিমের চাহিদা রয়েছে ১৬২ কোটি পিস। গত অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪৩ কোটি পিস। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪০ কোটি পিস। ১০ বছর আগে এর উৎপাদন ছিল ১০ ভাগের এক ভাগ। এসব বিষয় জানিয়েছেন রংপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

অপরদিকে এ বিভাগের ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষের মাংসের চাহিদা রয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। প্রতিদিন একজন মানুষের মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১১০ গ্রাম। বছরে এ অঞ্চলে মাংস উৎপাদন হচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার টন। এর মধ্যে মুরগির মাংস খায় বছরে গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৬৫ কেজি। একজন মানুষের প্রতিদিন দুধের চাহিদা প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম। সেই হিসাবে বছরে দুধের চাহিদা ১৪ লাখ টন। গত অর্থবছরে রংপুরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ টন। 

দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে এ শিল্প এই অঞ্চলে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ সংক্রমণে রংপুরে এ শিল্পের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খামার বন্ধ হয়ে গেলেও এ শিল্পের অগ্রগতি থেমে থাকেনি। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। পোলট্রি শিল্পকে কেন্দ্র করে পরিচালনা, পরিচর্যা, বাজারজাতকরণ এবং খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রমের সুবাদে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে ব্যবসা পরচিালনা করে হাজার হাজার উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংসের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির পর মধ্যবিত্তের খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল পোলট্রি মুরগির মাংস। ভ্যাট নির্ধারণ ও দাম বৃদ্ধির ফলে প্যাকেটজাত পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ, যারা মাংসের স্বাদ পেতে পোলট্রিনির্ভর হয়ে পড়েছিল এখন অনেকেই মুরগির মাংসের স্বাদ নিতে ভুলে যাবে। ঝুঁকিতে পড়বে পোলট্রি শিল্প। এর বিপরীতে যেসব সাধারণ মানুষ পোলট্রির ওপর নির্ভর করত তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজ করতে হবে।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাহবুবুল আলম জানান, জেলার আট উপজেলায় মুরগির খামার রয়েছে ৭৯০টি। মুরগি রয়েছে ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০। ডিম উৎপাদন  হয়েছে ৪০ কোটি ২৩ লাখ। চলতি বছর ৩৮ হাজার ৫৬০ জন বেকার যুবক ও মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-পরিচালক ডাক্তার শেখ আজিজুল ইসলাম জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১১ বছরে পোলট্রি শিল্প এ অঞ্চলে ১১ গুণ বেড়েছে। এ শিল্পের বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পোলট্রি খাদ্য থেকে শুরু করে এ শিল্পের ওপর নির্ভর সব ধরনের পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত।


পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত