মসজিদে যাতায়াতকারীরা জান্নাতের মেহমান

ফিরোজ আহমাদ

মসজিদ মোমিনের প্রশান্তি লাভের জায়গা। দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম স্থান মসজিদ। আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে মসজিদের গুরুত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদের বয়ান বা খুতবা মোমিনের হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে। মসজিদে আসা-যাওয়ার ফলে মোমিনের অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি পায়। মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে বেশি নেকি পাওয়া যায়। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা তোমাদের কারও একাকী নামাজ আদায় অপেক্ষা ২৫ গুণ বেশি সওয়াব। (বোখারি : ৬১৯)। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয় সে ইহরাম বেঁধে  হজে গমনকারীর মতো সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু চাশতের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে বের হয় সে ওমরাহ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করবে। (আবু দাউদ : ৫৫৮)। 
মসজিদে খুতবা ও বয়ান শুনে মোমিনের দিল নরম হয়। অন্তরের কালো দাগগুলো মুছে যায়। এছাড়া মসজিদকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মানুষগুলো অত্যন্ত সৌভাগ্যেবান। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহপাকের মসজিদ তো আবাদ করবে তারা, যারা আল্লাহপাক ও আখেরাতের ওপর ঈমান আনে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে, আর আল্লাহপাক ছাড়া তারা কাউকে ভয় করে না।’ (সূরা তওবা : ১৮)। 
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যাতায়াত করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন। (বোখারি : ৬২৯)।  মসজিদে যাতায়াতকারী মেহমানদের আল্লাহ ইহকাল ও পরকালে অনেক কল্যাণ দান করবেন। হজরত হানজালা উসাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথ পাবন্দির সঙ্গে আদায় করে,  উত্তমরূপে অজু করে, সময়ের প্রতি খেয়াল রাখে, রুকু-সিজদা ঠিকমতো আদায় করে এবং এভাবে নামাজ আদায়কে নিজের ওপর আল্লাহ তায়ালার হক মনে করে তবে জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম করে দেয়া হবে। (মুসনাদে আহমাদ-৪: ২৬৭ পৃ.)। আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে যত বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে নামাজ পড়তে আসে, তার তত বেশি সওয়াব হবে। (বোখারি : ৬২১)। হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে অধিক পরিমাণ মসজিদে যাতায়াত করে তাকে কেয়ামত দিবসে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও। (তিরিমিজি, আবু দাউদ : ৫৬১)। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত প্রথম তাকবিরের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে দুটি পুরস্কার দান করবেনÑ ১. জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন এবং ২. মুনাফেকি থেকে তার নাম কেটে দেবেন। (তিরমিজি : ২৪১)। এভাবে জান্নাতের মেহমানদের আল্লাহ অনেক কল্যাণ প্রদান করে থাকেন। সুতরাং ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের মাধ্যমে দৈনিক পাঁচবার আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাঁর মেহমান হওয়ার সৌভাগ্যে দান করুক। আমিন। 


মহান আদর্শের মহানায়ক
  মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ছিলেন সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য এক
বিস্তারিত
জ্ঞান সাধনায় মুসলিম মনীষীদের অবদান
আল-বেরুনী ‘মা লিল-হিন্দ’ গ্রন্থটি বিশ্বে আল-বেরুনীর ভারত দর্শন নামে পরিচয়
বিস্তারিত
নৌবাহিনীর বার্ষিক কেরাত ও আজান
নৌবাহিনীর বার্ষিক কেরাত ও আজান প্রতিযোগিতা-২০১৮ শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসে নৌবাহিনী
বিস্তারিত
বেনামে সুদ : একটি শরয়ি
অনেক ওলামায়ে কেরাম জমি বন্ধকের এ মুয়ামালাটিকে জায়েজ করার জন্য
বিস্তারিত
মিতব্যয়িতা ইসলামে পছন্দনীয় কাজ
মানুষকে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে
বিস্তারিত
ইসলামের দৃষ্টিতে উপহার বিনিময়
পারস্পরিক উপহার আদান-প্রদান আমাদের সামাজিক জীবনের একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিষয়টি
বিস্তারিত