শরীয়তপুর জেলা বিএনপি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা, আহত ৩০

পুলিশ প্রহরায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সভাস্থল ত্যাগ

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে হামলার চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা বিএনপির যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকারসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। 

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আলাহাজ শফিকুর রহমান কিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলামসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ঘন্টা পর পুলিশের সহায়তায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এর পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। 

তবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পালং মডেল থানা, আহত মাহবুব মোর্শেদ টিপু ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল অনুমান ১০টায় বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকা বাসভবনের সামনের চত্বরে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষের দিকে বেলা অনুমান সাড়ে ১২টার সময় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে কতিপয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিছিল করে তাদের দলীয় শ্লোগান দিতে দিতে বিএনপির অনুষ্ঠাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম খায়ের, জেলা জাসাসের সহ-সভাপতি নিপা আকতারসহ অন্তত ২৫ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়। 
একই ঘটনায় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবর, শরীয়তপুর পৌরসভা ছাত্রলীগের আহবায়ক প্রকাশ বন্দুকছি, রিয়াদ মাল, জয় মোল্যা, সবুজ মাদবর আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত বিএনপি নেতা নয়ন সরকারসহ কয়েকজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

সংবাদ পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুর রহমান কিরণ ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলামসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী সভাস্থলে প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে বেলা অনুমান ৩টার জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ অাসলামসহ নেতাকর্মী পুলিশের সহায়তায় সভাস্থল থেকে বের হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে চেষ্টা করলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় ধাওয়া করে । এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসির উদ্দিন কালুর বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পর পর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে করে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা অনুমান সাড়ে ৩টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহম্মেদ আসলামসহ নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে নিরাপদে চলে যায়। 
এ ঘটনায় শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আহত জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা যুবলীগের মিছিলে হামলা করে। আমিসহ কমপক্ষে ৫/৬ জন আহত হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টেপু বলেন, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা অনুমান সাড়ে ১২টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে তাদের দলীয় শ্লোগান দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা করে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের অনুষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করি। হামলার  ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতাকমী আহত হয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমি ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনোরকমে এলাকা ত্যাগ করি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে কিছু সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী হামলা করে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫/৭ জন আহত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্য নেতাকর্মীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। 


শনিবার সাংগঠনিক সফরে সড়কপথে কক্সবাজার
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
বিস্তারিত
একদিন না একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে
সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে একটা সুষ্ঠু, অবাধ গ্রহণযোগ্য
বিস্তারিত
বাম জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা,
বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পন্ড
বিস্তারিত
‘ভোটা ছাড়া নির্বাচন করলে একদিনও
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন,
বিস্তারিত
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাতে নৌকায়
আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাতে আবারো নৌকায় ভোট দেওয়ার
বিস্তারিত
‘দুর্নীতি লুকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’
গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা
বিস্তারিত