হালাল ব্যবসায় প্রতারণার স্থান নেই

ইসলামে পরস্পরকে ধোঁকা দেওয়া কবিরা গোনাহ। ধোঁকা দেওয়া মোমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কোনো ক্রেতাকে প্রতারণামূলক কষ্ট দেওয়া ব্যবসায়ীর জন্য বৈধ নয়। এ স্বভাব মোনাফেকের হতে পারে, ন্যায়বান ব্যবসায়ীর নয়

ইসলামি শরিয়ত স্বচ্ছ এবং সৃষ্টির অনুকূল, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের বন্ধন সৃষ্টিকারী। শোষণ, জুলুম ও মনুষ্যত্বহীনতার কলুষমুক্ত। সম্পদের ব্যবহার ও ভোগের ক্ষেত্রে ইসলাম দিয়েছে ব্যাপক অধিকার। কিন্তু যে ভোগের কারণে আরেকজন নিপতিত হয় দুঃখকষ্টে, ক্ষতি হয় আদল-ইনসাফ, লোপ পায় আত্মবিশ্বাস এবং জীবনে নেমে আসে দ্বন্দ্ব-কলহ; সেই ভোগকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন। তাই একজন মোমিন ব্যবসায়ীকে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জনগণের ইনসাফের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে, যাতে জনসাধারণ কোনোভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক জুলুমের স্বীকার না হয়। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন। আর যেন সামান্য কারণে হালাল ব্যবসা হারাম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও ব্যবসা করেছেন এবং স্বীয় উম্মতকে ব্যবসা করার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ব্যবসার রূপরেখাও শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সূরা বাকারা : ২৫৭)।
কোরআনে হালাল ব্যবসার গুরুত্ব : ইসলামি শরিয়ত যে ব্যবসানীতি প্রদান করেছে, তার আলোকে পরিচালিত ব্যবসাবাণিজ্য দ্বারা মানবতা প্রতিষ্ঠত হয়, মূলোৎপাটন হয় শোষণ ও জুলুমের। সৃষ্টি হয় পরস্পরের মাঝে আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা। কারণ সম্পদ হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার উপকরণ। আর এ উপকরণ সহজভাবে অর্জনের চাহিদা মানুষের কাছে সবসময়। সুতরাং সম্পদ অর্জন মানবজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত বান্দার গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় ইবাদত সম্পদের ওপর নির্ভর করে। যেমনÑ জাকাত, হজ ও কোরবানি। তাই মোমিনের ব্যবসা সবসময় ইসলামি শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় হতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আর যে সম্পদ আল্লাহ তোমাদের জীবনযাত্রার অবলম্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিও না।’ (সূরা নিসা : ৫)।
ন্যায়বান ব্যবসায়ী নবীদের সাক্ষাৎ পাবেন : সত্যবাদী ও ন্যায়বান ব্যবসায়ী, যাদের ব্যবসা আল্লাহর জিকির, নামাজ, জাকাত ইত্যাদি থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না, তারা কেয়ামতের দিন নবী ও শহীদদের সঙ্গে মিলিত হবেন। সে হিসেবে একজন সত্যবাদী ব্যবসায়ীর দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে সম্মান প্রাপ্তি হওয়া সম্ভব। তাই একজন ব্যবসায়ীকে সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম প্রদত্ত নীতিমালার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা একজন মোমিন ব্যবসায়ীর স্বভাব হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী, আমানতদার, বিশ্বাসী ব্যবসায়ী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।’ (তিরমিজি : ১২৫২; ইবনে মাজাহ : ২২২২)। 
ব্যবসায়ীকে ব্যবসার ক্ষেত্রে মিথ্যা কসম করা নিষেধ : কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল পণ্যকে নিখুঁত বলে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করার অপচেষ্টা করে। এমনকি এক্ষেত্রে মিথ্যা কসম করতেও বিলম্ব করে না। এভাবে মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ক্রেতার হক নষ্ট করার অধিকার ইসলাম দেয়নি। আর কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ভালো পণ্য ওপরে এবং ভেতরে নষ্ট পণ্য ঢুকিয়ে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে। এটাও ইসলাম সমর্থন করে না। এ ধরনের ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন ফাসেক ও বদকারদের সঙ্গে হাশর করবে। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! ব্যবসায় বেহুদা কথা এবং নিষ্প্রয়োজন কসম করা হয়ে থাকে। তোমরা ব্যবসা করার সঙ্গে সদকা বিশেষভাবে করো।’ (আবু দাউদ : ৩৩২৮)।
রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে ফাসেক-ফাজের-বদকার দলরূপে। অবশ্য যেসব ব্যবসায়ী মোত্তাকি-পরহেজগার ও সত্যবাদী হন, তারা ওইরূপ হবেন না।’ (তিরমিজি : ১২৫৪; ইবনে মাজাহ : ২২২৯)।
হাদিসে ধোঁকাবাজ ব্যবসায়ীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি : ইসলামে পরস্পরকে ধোঁকা দেওয়া কবিরা গোনাহ। ধোঁকা দেওয়া মোমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কোনো ক্রেতাকে প্রতারণামূলক কষ্ট দেওয়া ব্যবসায়ীর জন্য বৈধ নয়। এ স্বভাব মোনাফেকের হতে পারে, ন্যায়বান ব্যবসায়ীর নয়। সুতরাং সব ধরনের আদান-প্রদান ও কর্মে ধোঁকা দেওয়া থেকে একজন ব্যবসায়ীকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। হাদিসে আছে, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদ্যবস্তুর এক স্তূপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার ভেতরে হাত ঢুকালেন। অতঃপর তাঁর আঙুল ভিজে গেল। তিনি খাদ্যের মালিককে বললেন এ কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল। নবী করিম (সা.) বললেন, ভিজাগুলোকে খাদ্যের ওপরিভাগে কেন রাখলে না? যাতে লোকরা তা দেখতে পায়। যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি করে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ (মুসলিম : ২৯৫; তিরমিজি : ১৩৬৩)। 
রাসুল (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি ত্রুটিযুক্ত বস্তুকে এর ত্রুটি না জানিয়ে বিক্রি করবে, সে সর্বদা আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে নিমজ্জিত থাকবে। অথবা বলেছেন, সর্বদা তার প্রতি ফেরেশতারা অভিশাপ করবেন। (ইবনে মাজাহ : ২৩৩২)।

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম


রহমতের নবী (সা.) ও হিলফুল
‘আমি তো আপনাকে বিশ^জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা
বিস্তারিত
বিশ্বনবী : আঁধারে আলোর পরশ
পৃথিবী। মানব সৃষ্টির আগে যার সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পাঠানোর আগে
বিস্তারিত
সেই ফুলেরই খুশবুতে
ভালোবাসা পবিত্র জিনিস। ফুল পবিত্রতার প্রতীক। ফুল দিয়ে ভালোবাসা বিনিময়
বিস্তারিত
নবীজির ১০টি বিশেষ উপদেশ
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ববাসীর রহমতস্বরূপ। আজীবন মানুষের
বিস্তারিত
সৃষ্টির সেরা আদর্শ
সূর্যের আলো থেকে মানুষ বেঁচে থাকার উপাদান পেলেও মানুষ হওয়ার
বিস্তারিত
ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য
  ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে
বিস্তারিত