লেখালেখি : সদকায়ে জারিয়া

বিশ্বমানবতার প্রতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক বিরাট অনুগ্রহ হলো তিনি মানুষকে ‘বলে’ এবং ‘লিখে’ মনের ভাব প্রকাশ করার যোগ্যতা দিয়েছেন। তাই তো মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লামাহুল বায়ান’ অর্থাৎ তিনি মানুষকে বলতে শিখিয়েছেন এবং ‘আল্লামা বিল কলম’ তিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। বয়ান বা বক্তৃতার মাধ্যমটি হচ্ছে তাৎক্ষণিক ও ক্ষণস্থায়ী। আর লেখনীর মাধ্যমটি বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী। এ জন্যই মহান আল্লাহ তায়ালাও পবিত্র কোরআনে প্রথমে মানুষকে পড়তে বলেছেন এর পরই কলমের ব্যবহার করতে বলেছেন অর্থাৎ লেখার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামের ব্যাপক প্রচার প্রসার ও দাওয়াত তাবলিগের কাজে লেখনীর গুরুত্ব  অপরিসীম। 
আল্লাহ তায়ালা যাদের লেখার যোগ্যতা দান করেছেন, এ দায়িত্ব পালনে কলম ধরা তাদের কর্তব্য। ইসলামের খেদমতে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে লেখনী একটি শক্তিশালী মাধ্যম। লেখনী মানুষের মনে নীরবে-নিভৃতে প্রভাব বিস্তার করে। লেখা যেন মানুষের সঙ্গে একান্তে কথা বলে এবং অন্তরে অভূতপূূর্ব বিপ্লব সৃষ্টি করে। এ কারণেই তো দেখা যায় অনেক সময় অনেক কথা বলেও যাকে কাজে জুড়ে দেওয়া যাচ্ছে না; কিন্তু সে সংক্রান্ত একটা লেখা তার হাতে আসার পর সে নিজ থেকেই সে ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠছে এবং সে আমলে বা কাজে মনোনিবেশ করছে। এ রকম হাজারো দৃষ্টান্ত আছে। তাই  ইসলামের প্রচার ও প্রসারে লেখনীর খেদমতে ব্যাপকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সময়ের অন্যতম দাবি। 
আমরা আল্লাহর খলিফা। পৃথিবীতে আল্লাহ আমাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা এবং আল্লাহর বিধান ও তাঁর পছন্দ মাফিক সুুন্দর সুসমাজ গড়ার চেষ্টা করা। মানুষের অন্তরে একটি ভালো কথার আবেদন সৃষ্টি করা একটি বিরাট দান। এর বিনিময়ে পাওয়া যাবে অফুরন্ত প্রতিদান। মনে রাখবেন, আপনার লেখা সদকায়ে জারিয়ার একটি সওয়াব। আপনি যদি ভালো কিছু লিখে যান, তাহলে মৃত্যুর পর আপনার সওয়াব হতেই থাকবে। আপনার লেখা বেঁচে থাকবে। কারণ পৃথিবীতে মানুষকে কল্যাণের পথে ডাকার জন্য আপনি মূল্যবান একটি সম্পদ রেখে গেছেন। যে সম্পদ বা বইটি অথবা লেখাটি মানুষ পাঠ করে সঠিক পথে, আলোর পথে আসবে, খারাপ পথ ছেড়ে দেবে। আর তারা আপনার লেখা বই পড়ে যত ভালো কাজ করবে আর যত সওয়াব তাদের হবে, সেই সওয়াবের একটি অংশ আপনিও পাবেন। সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতে কিছু করতে চাইলে মানুষকে ভালো কিছু উপহার দিতে হবে। 
একজন ঈমানদার কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট কিংবা জাতির জাগ্রত বিবেক সাংবাদিক লেখনীর মাধ্যমে সদকায়ে জারিয়ার কাজ করে যেতে পারেন। ইসলামের পক্ষে কলম ধরা অর্থ সব জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতনেরর বিপক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা। সব পেশাজীবী মানুষের কাছে ইসলামের অমিয় বাণী পৌঁছে দেওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম লেখালেখি। প্রাচীনকাল থেকে ইসলাম প্রচারে লেখালেখির এ সিলসিলা চলে আসছে। অতএব, আপনিও কলম ধরুন, চিন্তা করুন, গবেষণা করুন, লিখুন। লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার করে যান। লেখক হিসেবে কলমের সাহায্যে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করুন। সদকায়ে জারিয়ার কাজ করুন।


রক্তনেশার আক্রোশে ইদলিব : তারপর
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আভাস জোরেশোরেই দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বযুদ্ধের অবয়ব কী? সিরিয়ায়
বিস্তারিত
ইমাম বোখারির আসনে যুগের বোখারির দরস
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ইমাম বোখারি এ ভূমিতেই বেড়ে উঠেছেন। এখানেই
বিস্তারিত
সৌদির জাতীয় দিবসে মক্কা-মদিনার পরিষদ
সৌদি আরবের ৮৮তম  জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বাণী
বিস্তারিত
প্রাচীন মসজিদে ঘেরা বারোবাজার শহর
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার ইউনিয়ন। পূর্বনাম শহর মোহাম্মদাবাদ। প্রায়
বিস্তারিত
পিতামাতার প্রতি করণীয়
সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বীয় ‘রহমত’ গুণটির ছায়া-প্রভাব
বিস্তারিত
নবীজির পোশাক কেমন ছিল
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর কথাই কি শুধু তাঁর
বিস্তারিত